শিক্ষা পরামর্শ
জীবনমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
প্রদীপ প্লাসিড গোমেজ সিএসসি,প্রধান শিক্ষক সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২০:১১
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাগবেষকগণ শিক্ষার উপর অনেক সংজ্ঞা দিয়েছেন। তবে “শিক্ষা মানব জীবনের ইতিবাচক স্থায়ি পরিবর্তন” আমার মনে হয় এই সংজ্ঞাটি সবচেয়ে গ্রহণীয় এবং তাত্পর্যপূর্ণ। আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর মূল উদ্দেশ্য ‘মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকৌশল নাগরিক গড়ে তোলা’। অর্থাত্ আমাদের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি মানুষের বা জাতির সামগ্রীক মানবিক গঠন প্রয়োজন। মানুষকে হতে হবে দেহ, মন ও আত্মায় সুস্থ, পবিত্র ও উদার ।
একটি জাতির সমগ্রীক গঠনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাক্রম, শ্রেণিকক্ষেপাঠ দান এবং মূল্যায়ণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যতিত শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা কঠিন। আাামি আনন্দিত যে আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর মধ্যে পাঠ্যপুস্তকপাঠ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরের অন্যান্য উত্স থেকে জ্ঞানার্জন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শুধু পাঠ্যপুস্তক মুখস্ত করে যথেষ্ট জ্ঞানার্জন করা সম্ভব নয় এমনকি বর্তমান শিক্ষাক্রম অনুসারে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতেও খুব ভাল ফলাফল করা সম্ভব নয়। বর্তমান শিক্ষাক্রম অনুসারে শুধু পাঠ্যপুস্তক পাঠ করে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে সব প্রশ্নের উত্তর করা যায় না। তার কারণ হলো পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও কিছু প্রশ্ন করার নিয়ম রয়েছে। অন্যদিকে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নোত্তর করার জন্য বাস্তবধর্মী অনেক উত্স থেকে অধ্যয়ন করা একান্ত প্রয়োজন অথবা সৃজনশীল হওয়া এবং নিজের জীবনের সুপ্ত গুনাবলি আবিষ্কার করা ও বিকাশ সাধন সম্ভন নয়।
আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও মানবীয় গঠনের জন্য প্রতিনিয়ত দু’একটি খবরের কাগজ পাঠ করা, নিয়মিত বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ব্যবহার করা, সম্ভব হলে ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠ ও সংগ্রহ করা প্রয়োজন। সময় সুযোগ করে বিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের বাইরে শিক্ষণীয় প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কসপ ও সিম্পুজিয়ামে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।
নিয়মিত খেলাধুলা (ফুটবল, হ্যান্ডবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, দারিয়াবান্দা, হা-ড-ুডু, দৌড়, সাঁতার, দাবা, ক্যারম ইত্যাদি) এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। নিজেদের বিদ্যালয়ে বা আন্তঃ বিদ্যালয়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ যেমন: বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, চিত্রাংকন, উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক, দেয়াল পত্রিকা, বিজ্ঞান-কৃষি-ভূগোল ও কম্পিউটার মেলা, ধারাবাহিক গল্পবলা, ভাষা অলিম্পিয়াড, গণিত অলিম্পিয়াড, রচনা ও গল্প লেখা প্রভৃতি শিক্ষার্থীদেরকে দেহ, মন ও আত্মায় গঠিত হতে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।