আরো পরিণত ‘স্পেশাল ওয়ান’!
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৪
মাঠের কৌশলের মতোই কথার তীরেও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারেন চেলসি কোচ হোসে মরিনহো। তার এই ‘গুণের’ সাথে ব্রিটিশ গণমাধ্যম এতদিনে পরিচিত হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফায় ব্লুজদের কোচ হয়ে আসার পর এবারও যথারীতি মৌসুম শুরুর আগেই কথার তোপ দাগাতে শুরু করেছেন স্বঘোষিত ‘স্পেশাল ওয়ান’। এই মুহূর্তে ব্যাংককে প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে দলকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা মরিনহো সাংবাদিকদের বলেছেন, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল অবস্থায় আছেন তিনি। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার এবং লিগ শিরোপা জয়ের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
২০০৪ সালে পোর্তোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর পরই চেলসি মালিক রোমান আব্রামোভিচের নজরে পড়ে যান মরিনহো। পরের মৌসুমে চেলসিতে এসে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই নিজেকে ঘোষণা করেন ‘স্পেশাল ওয়ান’ হিসেবে। যতদিন চেলসিতে ছিলেন ততদিনই অ্যালেক্স ফার্গুসন, রাফায়েল বেনিতেজ আর আর্সেন ওয়েঙ্গারের সঙ্গে তার কথার লড়াই ছেপে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলো পাতার পর পাতা ভরেছে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে এবছর অনেকটা তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই বিদায় নিতে হয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফায় চেলসিতে এসে নিজের উচ্ছ্বাসের বিষয়টি মোটেই লুকাননি তিনি। নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন ‘হ্যাপি ওয়ান’ হিসেবে।
তবে চেলসি সমর্থকরা যে শুকনো, তরুণ বয়সী মরিনহোকে চিনতেন সেই মরিনহো এখন অনেকটাই মধ্যবয়সী। তবে দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার বিরল রেকর্ডের অধিকারী এই কোচের বিশ্বাস ‘এই মরিনহো’ আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত, আত্মবিশ্বাসী। এই ৫০ বছর বয়সী বলেন, ‘মনে হয় ভান্ডারে কিছু সাদা চুল যোগ করাটা আমার জন্য ইতিবাচকই। আমার মনে হয় আমি আগের যে কোন সময়ের চাইতে ভাল আছি।’
নিজের এই বিশ্বাসের কারণটাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আমার কাজের জায়গাটাই এমন যে এখানে আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। চেলসি ছাড়ার পর আমি ইতালিতে দুই বছর এবং স্পেনে তিন বছর কাটিয়েছি। সুতরাং ফুটবল সংস্কৃতিতে আমি আগের চেয়ে সমৃদ্ধ।
রিয়ালকে লা লিগা, কোপা ডেল রে এবং তার আগে ইন্টার মিলানের হয়ে ট্রেবল জেতা এই কোচ এবার সাফল্য ভাস্বর করতে চান চেলসিকে। চেলসির হয়ে নতুনভাবে শুরু করতে যেন আর সইছে না তার। আর বরাবরের মতো এবারও তীব্র জয় ক্ষুধাই প্রকাশ পেল তার কণ্ঠে, ‘প্রথম পরাজয়ের আগ পর্যন্ত আমি সুখীই থাকবো। আমার দল যখন জেতে না তখন স্বভাবতই আমার খারাপ লাগে। তবে এটা পুরোপুরিই খেলোয়াড়দের ব্যাপার। কারণ তারা বেশি বেশি ম্যাচ জিতে আমাকে সুখী করবে।’
রুশ ধনকুবের আব্রামোভিচের সাথে নিজের সুসম্পর্কের কথা বলার পাশাপাশি মরিনহো আরেকবার জানান দিয়েছেন ক্লাবের প্রতি তার ভালবাসার কথাও। তিনি বলেন, ‘এটা (চেলসি) আমার কাছে একটা ক্লাবের চেয়েও বেশি কিছু। আর এখানে কাজ করাটা শুধুই আমার পেশার অংশ নয়। এটা আসলে তার চেয়েও অনেক বড় একটা ব্যাপার।’