বাহারি, বর্ণিল, সমর্থকপ্রিয় এক ক্লাব মালিক

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর প্রায় সবগুলোরই মালিক বিদেশি। চেলসি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটির পর এবার বিদেশি মালিকানার অধীনে গেল ফুলহ্যামও। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে অন্য সব বিদেশি মালিকরা যেখানে মিডিয়াকে এড়িয়ে চলতে পারলেই বাঁচেন সেখানে ফুলহ্যামের মালিক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত শাহিদ খানের স্বভাব যেন ঠিক উল্টো। মিডিয়াকে এড়িয়ে চলার বদলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণেই দারুণ আগ্রহী তিনি। ফলে নতুন ক্লাবের দায়িত্ব নেয়ার পর এরই মধ্যে সংবাদ মাধ্যমের আলোচনায় চলে এসেছেন তিনি। চেলসির রুশ মালিক রোমান আব্রামোভিচ কিংবা ইউনাইটেডের আমেরিকান মালিক ম্যালকম গ্লেজারের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া বা সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করার বিষয়টি কদাচিত্ই ঘটে। অথচ শাহিদ এদিক থেকে দারুণ ব্যতিক্রম। আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল লিগের দল জ্যাকসনভিল জাগুয়ারের মালিকানা কেনার পর (২০১১ সাল) শাহিদ দারুণ একটা কাজ করেন। নিজের প্রমোদতরীকে উত্তর ফ্লোরিডার বন্দরে ভিড়িয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং সমর্থকদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন তিনি। শাহিদের বিষয়ে জাগুয়ারের ফ্যান ব্লগের সম্পাদক অ্যালফি ক্রো’র অভিমতও তেমনই, ‘সমর্থকদের কাছে সে অনেকটা রকস্টারের মতো। সে দলের অনুশীলনে আসে, সমর্থকদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে এবং তাদের সাথে কথাও বলে। সে আসলে এই বিষয়টি দারুণ উপভোগ করে। মানুষের মাঝে শক্তির সঞ্চার করতে তার জুড়ি মেলা ভার।’ অচেনা একজন এশিয়ান প্রিয় ক্লাবের দায়িত্ব নেবেন, জাগুয়ার সমর্থকদের মধ্যে যদি এনিয়ে কোন দুশ্চিন্তা সৃষ্টিও হয়; শাহিদ তার ব্যবহার দিয়েই সমর্থকদের সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বাহারি গোফ আর ঢেউ খেলানো চুলে তাকে অন্য আর দশজন মালিকের চাইতে অনেকটা আলাদা বলেই মনে হয়। আর এই বিষয়টি তাকে সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে কিছুটা হলেও সাহাজ্য করেছে। এমন একজনের হাতে ফুলহ্যামের মালিকানা তুলে দিতে তাই খুব একটা ভাবতে হয়নি ১৯৯৭ সাল থেকে ক্লাব মালিকের দায়িত্ব পালন করে আসা মোহাম্মদ আল ফায়েদের। ফায়েদ বলেন, ‘ফুলহ্যামের রক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব একদিন শেষ হতো। আমার মনে হয় সেই দিনটি চলে এসেছে। এটাই সঠিক সময়। কারণ, আমি এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছি যে কিনা ফুলহ্যামের আমার মতোই ফুলহ্যামের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকে উপভোগ করবে।’ লাহোরে জন্ম নিলেও বিস্ময়করভাবে ক্রিকেটের চাইতে ফুটবলের প্রতিই গড়ে ওঠে শাহিদের ভালবাসা। ৬২ বছর বয়সী এই বিলিয়নিয়ার মাত্র ১৬ বছর বয়সে মার্কিন মুল্লুকে আসা শাহিদের ছিল না ঘুমানোর জায়গাটুকুও। দিনের বেলা কাটতো রেস্টুরেন্টে বাসন পরিষ্কার করে। আর রাত কাটাতে হতো কোন এই তরুণদের চার্চে। এমন কষ্টকর জীবনযাপন করে তবেই ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর অবশ্য আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। যে কোম্পানিতে চাকরি করেছিলেন সেই ফ্লেক্স-এন গেটকেই পরে কিনে নেন তিনি। শুধু তাই নয়, একে পরিণত করেন একটি আকর্ষণীয় মোটর গাড়ি যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে। তবে খেলার প্রতি তার ভালবাসা অটুটই রয়ে যায়। বর্তমানে ১৭০ কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তির মালিক ৬২ বছর বয়সী শাহিদ বলেন, ‘আমার মনে হয় খেলার প্রতি আমার ভালবাসাই সমর্থকদের মধ্যে আমাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আমি সত্যিই খেলাটির অংশ হতে চাই।’