আগস্টের মধ্যে বিপিএল জটিলতা অবসান?

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরে কী কী হয়েছিল, সমর্থকরা সম্ভবত তা ভুলে গেছেন। কিন্তু চাইলেও এই বিপিএলের কথা ভুলতে পারছেন না খেলোয়াড়রা—এখনও যে পাওনাটা বুঝে পাননি তারা! বিপিএল নিয়ে জটিলতা শুধু খেলোয়াড়দের পাওনা বুঝে পাওয়া নয়। জটিলতা আছে নানামুখীই। এসব জটিলতা নিরসনে আজ থেকে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল নানামুখী আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। আজ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা গেম অন স্পোর্টসের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা তাদের। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা বললেন, খুব দ্রুতই বিভিন্ন দল মালিকের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। আর এসব আলোচনা-বৈঠকের ফলে আগস্ট মাসের মধ্যে অচলাবস্থা অন্তত কেটে যাওয়ার আশা করছেন বিপিএল চেয়ারম্যান। ‘অচলাবস্থা’ শব্দটাও আসলে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের সত্যিকারের অবস্থা ব্যাখ্যা করতে পারে। খেলোয়াড়দের প্রত্যক্ষ পাওনার ব্যাপার তো আছেই। এছাড়া এখনও পর্যন্ত দল মালিকগুলোর কাছ থেকে বার্ষিক ফি পায়নি বিসিবি। এখনও পর্যন্ত বিসিবি গেম অন স্পোর্টসের কাছ থেকেও আদায় করতে পারেনি শেষ হওয়া মৌসুমের জন্য নিজেদের পাওনাটা। এছাড়াও বিদেশি ও দেশি যেসব খেলোয়াড়ের টাকা ‘গ্যারান্টর’ হিসাবে বিসিবি পরিশোধ করেছে, তা এখনও দলগুলোর কাছ থেকে বিসিবি আদায় করতে পারেনি। আর এসব পাওনা-দেনা নিয়েই তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী এক জটিলতা। এই জটিলতা সমাধানে বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল অনেকদিন ধরেই আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের ভাষায়, এখন বিপিএলের বরখেলাপী দলগুলোর বিপক্ষে মালিকানা বাতিলের মতো ব্যবস্থাও নিতে পারে। কিন্তু সেটা তারা করছে না। আবার তাদের পাঠানো নোটিসেরও জবাব মিলছে না ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে। এ অবস্থায় বিসিবি কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায়, তারা নমনীয় হয়ে পড়েছে এমন একটা ধারণাও তৈরি হয়েছে। আফজালুর রহমান সিনহা এই ধারণাটার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে জটিলতার অবসান করা গেলে সেটাই সেরা উপায়, ‘নোটিসের জবাবে অনেকে কিন্তু যোগাযোগ করেছে। হ্যা, আমরা চাইলে এখনই আইনের আশ্রয় নিতে পারি। কিন্তু সেখান থেকে সমাধান পাওয়াটা তো দীর্ঘমেয়াদী একটা ব্যাপার। তাই আমরা চাচ্ছি আলোচনায় সমস্যার সমাধান হোক।’ একইসঙ্গে বিপিএল চেয়ারম্যান মনে করেন, আসলেই আলোচনার দরকারও আছে। দল মালিকগুলো ঠিক কী পাওনার কথা বলছে, কী দাবির কথা বলছে, এটা তারা শুনতে চান, ‘বিসিবি সভাপতি সবার কথাই শুনবেন। তারা কী বলতে চায়, কী তাদের দাবি; এগুলো শুনি আমরা। তারপর দেখা যাক, কী হয়। আমি আশা করি আলোচনা শুরু হলে আমরা সবকিছু এখনই মিটিয়ে ফেলতে না পারলেও আগস্টের মধ্যে এই পরিস্থিতি অন্তত কেটে যাবে।’ এরই অংশ হিসাবে আজ গেম অন স্পোর্টসের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। বিপিএল কমিটি অনেক আগে থেকেই বলে আসছে, গেম অনের কাছ থেকে তারা এ বছরের পাওনা এখনও বুঝে পায়নি। অন্যদিকে গেম অন বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছে, তাদের উল্টো বিসিবির কাছে ১৮-১৯ কোটি টাকা পাওনা আছে। এখন এই ব্যাপারটি পরিষ্কার করাই আজকের আলোচনার উদ্দেশ্য। দেখা যাক, আলোচনায় আসলেই কতোটা সমস্যার সমাধান হয়।