কাজী মোফরাদ মুনতাসির

তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে, মার্কেটিংয়ে মেজর নিয়ে। মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের প্রতি তার ভালোলাগা তৈরি হয় ছাত্রজীবনে এ বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে। পেশাজীবনে তিনি মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং নিয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান যখন বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বীকৃত পেইন্ট ব্র্যান্ড বার্জারের মার্কেটিং বিভাগে যোগদান করেন। জানালেন, বার্জারের হেড অব মার্কেটিংয়ের সাথে সরাসরি কাজ করার কারণে মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন ব্যবহারিক জ্ঞানে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। বলছি মোফরাদ মুনতাসিরের কথা। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডে একজন ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত তিনি। মোফরাদ মুনতাসির বলেন, ‘ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিজের পণ্যকে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দে পরিণত করা। ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের দুটি বিষয় সবসময় মনে রাখতে হয়, তা হলো ক্রেতাদের পছন্দ ও মানসিকতা সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমও একইসাথে পাল্টে যাচ্ছে। তাই আমাদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয় এই দুই পরিবর্তনের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের পণ্যের প্রচার করা।’ মোফরাদ মুনতাসির মনে করেন, বাংলাদেশ যেহেতু একটি উন্নয়নশীল দেশ, তাই ধরে নেওয়া যায় যে যত দিন যাবে, দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের সংখ্যা বাড়বে। একইসাথে বাড়বে এই পেশায় কাজ করা কর্মজীবীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা।’ নতুনদের কাজের সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুনদের ‘আউট অব দ্য বক্স’ ধরনের অনেক আইডিয়া থাকে। তাই তারা যদি দায়িত্বশীল হয়, তাহলে তাদের পক্ষে যেকোনো কিছুই করা সম্ভব। তাদেরকে বলব, ক্যারিয়ার কোন দিকে নিতে চায়, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই করে নিতে হবে কোন কাজটা তার ভালো লাগে। সেই সাথে অনুধাবন ক্ষমতাটাও বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি এখনও দেশি-বিদেশি ক্যাম্পেইন ফলো করি এবং সময় পেলেই মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং নিয়ে কেইস ও বই পড়ি। ব্র্যান্ডিং বিষয়ে আমার প্রিয় লেখক আল রিস, যার প্রতিটি লেখা আমাকে ব্র্যান্ডিংয়ে আরও চৌকস করে তুলেছে।’ মোফরাদ মুনতাসির বাবাকে হারিয়েছেন সেই শৈশবেই। তার মা একজন মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক। যেকোনো ধরনের সমস্যায় মা এখনও তাকে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধানটি দেখিয়ে দেন। জীবনে মা, বোন, দাদী এবং একমাত্র চাচা কাজী নেয়ামাতউল্লাহর অবদান সবচেয়ে বেশি বলে জানালেন তিনি। তার কৈশোর কেটেছে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে। সেখানকার ৬ বছরের আধা-সামরিক জীবনযাপন তাকে শিখিয়েছে নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্ব। ক্যাডেট জীবনের শেষ বছরে তিনি সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রিফেক্টশিপ পান, যা তাকে দিয়েছিল নেতৃত্ব দানের বিষয়টি শেখার সুযোগ। মোফরাদ মুনতাসির স্বপ্ন দেখেন, আমাদের ব্র্যান্ডিং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে একসময়, সেই সময়ও এই জগতের একজন হয়ে অবদান রাখতে চান তিনি। কাজী মোফরাদ মুনতাসির ডাক নাম :মোফরাদ জন্মতারিখ ও স্থান :০১ আগস্ট ১৯৮৯, ঢাকা মায়ের নাম :নইমা আক্তার বাবার নাম :কাজী মো. জয়নুল এমরান প্রথম স্কুল :উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :Yesterday is history, tomorrow is a mystery, but today is a gift. That is why it is called the present প্রিয় পোশাক :জিন্স ও পাঞ্জাবি অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, মুভি দেখে, দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়িয়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :প্রতিনিয়ত নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং তা অতিক্রম করা।