জনদুর্ভোগ

সড়ক হোক যানজটমুক্ত ও নিরাপদ

নিরাপদ সড়কের দাবি প্রতিটা মানুষের। মানুষ প্রয়োজনেই রাস্তায় বের হয় এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরাটা তার অধিকারের মধ্যে পড়ে। অনিরাপদ সড়ক শুধু মানুষের জন্যই ভয়ঙ্কর নয়, দেশের জন্যও দুর্নাম বয়ে আনে। দুর্ঘটনা ঘটে কয়েক সেকেন্ডে, কিন্তু এর রেশ বয়ে বেড়াতে হয় সারাজীবন। দেশ ও সমাজের ক্ষতিও অপূরণীয়। সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিটি যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয় তাহলে পুরো পরিবারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সড়কে-মহাসড়কে নেই কোনো শৃঙ্খলা। চরম নৈরাজ্য সর্বত্র। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকছে মানুষ। কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব ভয়াবহ। এই অসহনীয় যানজটের সুরাহায় নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু যানজট কমা দূরে থাক, দিনকে দিন তা যেন দানব আকার ধারণ করছে। এর জন্য প্রধানত দায়ী হলো— প্রথমত ফুটপাত দখল। এটা এতোই ভয়ঙ্কর যে কোনো না কোনো অঘটন ঘটছে প্রায়ই। কোনোটা পত্রিকার পাতায় আসে, বেশিরভাগই থেকে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে।

দ্বিতীয়ত, পার্কিং ব্যবস্থা নেই বললেই চলে এই মেগা সিটিতে। অথচ এখানে তৈরি হচ্ছে বৃহত্ শপিং মল। খাবারের রমরমা সব দোকান। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, জন্মদিন এবং বিবাহের জন্য কমিউনিটি সেন্টার। যারা এখানে আমন্ত্রিত তাদের প্রত্যেকেরই আছে নিজস্ব বাহন। অথচ উপযুক্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। গাড়িটি তখন ব্যস্ত রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকে। তৈরি হচ্ছে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি এবং বড় বড় আবাসিক ভবন। বহু আবাসিক ভবনেও নেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা। অতিথির গাড়ি বাইরে থাকবে। বাইরে বলতে তো সেই রাস্তায়ই থাকলো গাড়ি।

তৃতীয়ত, বড় বড় বাসগুলো যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করাচ্ছে। এতে প্রতি মুহূর্তেই যানজট তৈরি হয়। প্রভাব পড়ে পুরো নগরজুড়ে।

চতুর্থত, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জনেরা যদি চলাফেরার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন তাহলেও যানজট কিছুটা কমে। বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের বেলায়ও হেলিকপ্টার ব্যবহার হতে পারে নাগরিক স্বার্থেই। জনগণ কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে যানজটের ভয়াবহতা থেকে।

পাড়ায় মহল্লায় বহু সরকারি জায়গা খালি পড়ে আছে, যেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হতে পারে বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা। শপিং মলগুলোর নিচতলাকে বাধ্যতামূলক পার্কিং-এর আওতায় আনা দরকার। নইলে মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, কমিউনিটি সেন্টারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে যেকোনো মূল্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। বাসগুলো যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা করালে কঠিন শাস্তিসহ মোটা জরিমানার ব্যবস্থা করতে পারলে এর প্রকোপ অনেক কমে যাবে।

মোটা দাগের কারণগুলো চিহ্নিত করা হলো। এখন ব্যবস্থা গ্রহণের সময়। সড়কের শৃঙ্খলা এই সময়ের দাবি এবং আগামী দিনের জন্যও অতি প্রয়োজন। সড়কের নৈরাজ্য যত দ্রুত দূর করা যাবে ততই মঙ্গল।

n লেখক : পরিবেশ ও সমাজকর্মী