ইংল্যান্ডের রোমাঞ্চকর জয়
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৩, ২২:০৭
জেমস অ্যান্ডারসনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৪ রানে হারিয়ে প্রথম ইনভেস্টেক অ্যাশেজ টেস্টে জয় পেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। নাটকীয়তায় ভরা শেষ দিনে গতকাল ট্রেন্টব্রিজে অজিদের শেষ চারটি উইকেট তুলে নিয়ে স্নায়ু চাপে ভুগতে থাকা স্বাগতিক দর্শকদের আনন্দে ভাসান অ্যান্ডারসন। কেননা শেষ উইকেটে ব্রাড হাডিন এবং জেমস প্যাটিনসনের ৬৫ রান জুটি ম্যাচ হেলিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার দিকেই। কিন্তু অ্যান্ডারসন শেষ আঘাতে শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
আগের দিন ছয় উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে দিন শেষ করা সফরকারিরা গতকাল যখন তাদের নমব উইকেটটি হারায় জয়ের জন্য তখনও তাদের দরকার ৮০ রান। বাস্তবতার বিচারে অস্ট্রেলিয়ার জন্য তখন ম্যাচ শেষই। কিন্তু শেষ উইকেটেই যে নাটকের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশটুকু মঞ্চস্থ হবে সেটা কেই বা ভাবতে পেরেছিল?
প্রথম ইনিংসে মাত্র এক রানে ফিরে যাওয়া হাডিনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন পেসার প্যাটিনসন। ধীর স্থির ভাবেই দুজনে শুরু করলেও ক্রমেই ইংলিশ বোলারদের উপর চড়াও হতে থাকেন দুজন। মাত্র ৪৬ বলেই এ জুটি পঞ্চাশ পেরোয়। একই সাথে ইংল্যান্ডের হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচটি ক্রমেই হেলে পড়তে থাকে অস্ট্রেলিয়ার দিকে। ৬০ রানে অবিচ্ছিন্ন অবস্থায় তারা যখন মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাচ্ছেন তখন ম্যাচ জিততে অজিদের প্রয়োজন মাত্র ২০ রান। তবে এমন নাটকীয় একটা ম্যাচের শেষটা উত্তেজনাহীন হয় কিভাবে? তাই ম্যাচের শেষটাও হলো ঘটনাবহুল।
বোলার সেই অ্যান্ডারসনই। হাডিনের ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে গেল ম্যাট প্রিয়রের হাতে। তবে প্রিয়র ছাড়া সেই বল-ব্যাটের সংঘর্ষের ক্ষীণ শব্দটা বোধ হয় কেউই শুনতে পাননি। আম্পায়ার আলিম দারও তাই হাডিনকে নটআউটই ঘোষণা করলেন। কিন্তু নাছোড় প্রিয়রের পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত রেফারেল পদ্ধতির দ্বারস্থ হলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। এই টেস্টেই আরেক দফা বিতর্কের জন্ম দেয়া সেই হটস্পটের সাহায্য নিয়ে তৃতীয় আম্পায়ার আউট ঘোষণা করলেন হাডিনকে। বিফলে গেল অজি উইকেট রক্ষকের ৭১ রানের লড়াকু ইনিংটি, ২৯৬ রানেই থেমে যেতে হলো অজিদের। অন্যদিকে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পাঁচ উইকেট দখল করে নাটকের মূল নায়ক বনে যাওয়া অ্যান্ডারসনকে নিয়ে আনন্দে মাতে ইংলিশরা। হাঁপ ছেড়ে বাঁচে স্নায়ু চাপে ভুগতে থাকা স্বাগতিক দর্শকরা। ১৫৮ রানের বিনিময়ে ম্যাচে ১০ উইকেট নেয়া অ্যান্ডারসন প্রত্যাশিতভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইটি বারে বারেই মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০০৫ অ্যাশেজের ঐতিহাসিক এজবাস্টন টেস্টের কথা। রোমাঞ্চে ভরা সেই টেস্টটি জিতে সিরিজে সমতা এনেছিল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত সিরিজও জিতে নেয় তারা। এবারও সেরকম কিছু হবে কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে ‘ছাইয়ের’ লড়াইয়ে এবারও যে আগুন জ্বলবে ট্রেন্টব্রিজ টেস্টটি সেই ইঙ্গিত দিয়েই রাখলো। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে লর্ডসে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টে কি নাটক অপেক্ষা করছে কে জানে?
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস:
২১৫ (জোনাথন ট্রট ৪৮; পিটার সিডল ৫/৫০)
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস:
২৮০ ( অ্যাস্টন অ্যাগার ৯৮, অ্যান্ডারসন ৫/৮৫)
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস:
৩৭৫ (ইয়ান বেল ১০৯, মিচেল স্টার্ক ৩/৮১)
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস:
২৯৬ (হাডিন ৭১, অ্যান্ডারসন ৫/৭৩)
ফল: ইংল্যান্ড ১৪ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: জেমস অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড)।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ১-০ তে এগিয়ে।