সন্তানের মানি ম্যানেজমেন্ট
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৩, ১৯:৪১
প্রত্যেক বাবা-মা’ই চান তাদের সন্তান যেন হয়ে ওঠে পরিশ্রমী, স্বনির্ভর এবং হিসেবি মানুষ। আর তার জন্য খুব ছোটাবেলা থেকেই তাদের শেখাতে হবে সবকিছু। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটা হলো মানি ম্যানেজমেন্ট। কীভাবে টাকা জমানো যায়, খরচ করার নিয়ম—এসব সন্তানকে বুঝানোর দায়িত্ব বাবা-মা’রই। মানি ম্যানেজমেন্টের পদ্ধতি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
++ আপনার সন্তান টাকা-পয়সার ব্যবহার বোঝার সাথে সাথে তাকে ধীরে ধীরে মানি ম্যানেজমেন্টের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। অফিসে কী কাজ করেন, আপনার বেতন, সেই টাকা কোথায় কী খরচ করেন—এসব ব্যাপার নিয়ে তার সাথে আলাপ করুন—
++ প্রথমেই আপনার খরচের একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন। দেখুন কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে। কোনো বিশেষ খাতে অতিরিক্ত খরচ কমানো যায় কি না, সেই বিষয়টাও ভেবে দেখুন।
++ অফিসে বা বাড়িতে যেমন অনেক কঠিন কাজ করতে হয় ঠিক তেমন আর্থিক সমস্যাটিও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রথম শর্তই হচ্ছে, সবার সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটা প্ল্যান তৈরি। সেই প্ল্যান অনুযায়ী জমা, খরচ ও ইনভেস্টমেন্টের সব হিসাব রাখলে মাস চালানো সহজ হতে পারে। এসব ব্যাপার নিয়ে আপনার সন্তানদের সাথে আলাপ করে নিন।
++ তালিকা বানানোর সময় সন্তানদের মতামত নিতে পারেন। তাহলে সংসারের কাজে একদিকে যেমন তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তেমনি তাদের ব্যাপারটা নিয়ে একটা চেতনা তৈরি হবে। এর ফলে তাদের বাড়তি খরচের চিন্তা কিছুটা হলেও দূর হবে।
++ প্রতি মাসে নিজের পে স্লিপ আলাদা করে ফাইল করে রাখুন। এই দরকারি কাজগুলো মাসের শেষে প্রয়োজন হতে পারে।
++ সেভিংস ও ইনভেস্টমেন্ট টাকা জমানোর ও বাড়ানোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। প্রথম থেকেই নিজের নামে ব্যাংকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট অবশ্যই রাখবেন।
++ স্যালারি পেয়েই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারেন। সেই ব্যাপারেও আপনার সন্তানকে অবগত করতে পারেন।
++ কিছু টাকা জমানো হয়ে গেলে কোথাও সেটা কাজে লাগানো যেতে পারে। সাধারণত প্রাইভেট জবগুলোতে রিটায়ারমেন্টের পরে কোনো পেনশনের ব্যবস্থা থাকে না। তাই আপনার পছন্দমতো অন্য কোনো রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানে ইনভেস্ট করতে পারেন।
++ হেলথ ইন্সুরেন্স পলিসিগুলোও মাথায় রাখতে পারেন। সেগুলোতেও ইনভেস্ট করে রাখতে পারেন।
++ ছেলেমেয়ে বড় হয়ে রোজগার শুরু করলে, তাকে ইনসিস্ট করুন যাতে পরিবারে কিছু হলেও কন্ট্রিবিউট করে। প্রয়োজন না থাকলেও টাকাটা নিন, তাতে তাদের মধ্যে একটা দায়িত্ববোধ তৈরি হবে।