এবার ২৬ জনে নেমে এলো জাতীয় দল

কোচের দুশ্চিন্তা ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে

জাতীয় দলের প্রতিদিনের অনুশীলন শেষ হলে ফুটবলারদের অনেকেই আশংকায় থাকেন কে কখন বাদ পড়েন তা নিয়ে। এমনি পরিস্থিতিতে পড়ে গতকাল আরো চার ফুটবলারকে ক্যাম্প ছাড়তে হয়েছে। ফলে এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিতে থাকা দলটি নেমে এলো ২৬ জনে। তবে সূত্র মতে কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ থাইল্যান্ড সফরের জন্য আজ দল ঘোষণা করলে আরো ক’জন বাদ পড়বেন এ দলটি থেকে। শেষ পর্যন্ত দল যাই হোক কোচ ক্রুইফের দুশ্চিন্তা খেলোয়াড়দের ফিটনেস আরো বাড়ানো নিয়ে। বাদ পড়া খেলোয়াড়রা হলেন শেখ জামালের ডিফেন্ডার অরূপ বৈদ্য, শেখ রাসেলের ডিফেন্ডার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, মোহামেডানের ডিফেন্ডার তপু বর্মন এবং ব্রাদার্সের ডিফেন্ডার ইউসুফ সিফাত। কাল দুপুরে অনুশীলন শেষে ক্যাম্প ছেড়ে যেতে হয়েছে এদের। বাদ পড়লেও তাদের সম্পর্কে সদয় মন্তব্য করেন কোচ ক্রুইফ। কোচ মনে করছেন তারা তরুণ কিন্তু অন্যরা একটু এগিয়ে। তাই এই সিদ্ধান্ত। আবার বাদ পড়ারা যে একেবারে বাদ হচ্ছেন না সে আভাস দিয়েছেন দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন। তিনি কোচের বরাত দিয়ে বলেন, ‘চার ফুটবলারকে ষ্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ডাকা হতে পারে।’ থাইল্যান্ডে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যে দলই ঘোষণা করা হোক না কেন সেটাই সাফের জন্য চূড়ান্ত হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। কোচ ক্রুইফই নির্ধারণ করবেন চূড়ান্ত দল। ফুটবল দল থাইল্যান্ডের সাথে আপাতত একটি ম্যাচ খেলবে বলে জানা গেছে। বাদ পড়া ফুটবলারদের মধ্যে সিনিয়র খেলোয়াড় অরূপ বৈদ্য জানিয়েছেন, বাদ পড়ায় তার মন খারাপ। তবে অপেক্ষায় থাকবেন ডাক পাওয়ার। এর আগে জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্প থেকে বাদ পড়েছেন শেখ রাসেলের উত্তম বনিক, আবাহনীর আরমান আজীজ ও শাহদুল আলম শাহেদ। আজ জাতীয় দল আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ভুটানগামী আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিরুদ্ধে। ক্রুইফ এরই মধ্যে বিজেএমসি এবং জাতীয় দলে ডাক না পাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বাফুফে একাদশের বিরুদ্ধে অনুশীলনরতদের খেলিয়েছেন। দুটি ম্যাচই জিতেছে ক্রুইফের দল। গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন ফুটলাররা। অ্যাথলেটিকসের হার্ডল মাঝে রেখে দুই পাশে ফুটবলাররা দাঁড়িয়ে এপাশ ওপাশ বলের আদান প্রদান করেছেন। খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়েই মূলত কাজ চলছে এখন। ডাচ কোচরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দিনে দিনে খেলোয়াড়দের উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারছেন তারা। কারণ ডাচদ্বয় মনে করছেন এখনো খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৬০ মিনিটের। তাহলে বাকি ৩০ মিনিটের কী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ক্রুইফ। দলের ফিটনেস কোচ মোহামেত ইয়ামালী খেলোয়াড়দের মান উন্নত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইয়ামালি বলেছেন,‘খেলোয়াড়দের শারীরিক উচ্চতা বৃদ্ধি করা যাবে না, তবে স্ট্রেন্থ এবং স্ট্যামিনা বাড়ানো যাবে। এটা দীর্ঘ মেয়াদী প্রস্তুতি ’ তিনি জানিয়েছেন এই প্রক্রিয়াটা থাইল্যান্ড সফরে অব্যাহত থাকবে।