গম্ভীর-শেবাগের এখনো সম্ভাবনা দেখেন কিরণ মোরে

ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচক কিরণ মোরে ওয়ানডে ক্রিকেট দলে দুই সিনিয়র ব্যাটসম্যান বীরেন্দার শেবাগ ও গৌতম গম্ভীরের ফেরার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। এমনকি ওয়ানডে দলের হয়ে নতুন উদ্বোধনী জুটি শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা ভাল করছেন জেনেও তিনি এমন মন্তব্য করেন। কিরণ মোরে বলেন, ‘প্রতিযোগিতা থাকাটা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ভাল লক্ষণ। বর্তমানে দলে জায়গা পাওয়ার জন্য তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। যারা পারফর্ম করবে তারাই দলে থাকবে। কেউ যদি আনফিট থাকে তখন গম্ভীর অথবা শেবাগ কিংবা জহির খানের দিকে পা বাড়ানো যেতে পারে। কঠিন সফরগুলোর জন্য অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন আছে। সব মিলিয়ে বেশ ভাল মনে হচ্ছে এবং আপনি পিছনের কিছু খেলোয়াড়ের কথাও বিবেচনা করতে পারেন।’ ধাওয়ান-শর্মার বাম-ডান কম্বিনেশন স্বল্প সময়ের মধ্যে খুবই ফলদায়ক হয়েছে। ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতীয়দের ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ে এ দুজনের ধারাবাহিকতা খুবই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। মোরে মনে করেন নতুন জুটির একজন খুব ব্যর্থ হলে এবং আসন্ন ঘরোয়া মৌসুমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে দুই অভিজ্ঞ ওপেনারের মধ্যে একজনকে পুনরায় দলে ডাকা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও নতুনের সংমিশ্রণটাও ভাল হবে। তিনি বলেন, ‘তাদের (শেবাগ-গম্ভীর) ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল পারফরমেন্স দেখাতে হবে। তাদের আত্মবিশ্বাস থাকা দরকার। কারণ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এই মুহূর্তে যারা খেলছে তাদের মধ্যেও কারো খারাপ সময় আসতে পারে এবং তখনই এদের কেউ দলে সুযোগ পেতে পারে।’ ভারতীয় দলের সাবেক এই উইকেট রক্ষক আরো বলেন,‘আপনি দলের ভারসাম্যের প্রতি দৃষ্টি দিলে দেখবেন- একজন ওপেনার হিসাবে দলের জন্য রোহিত খুবই ভাল করছে। নির্বাচক, কোচ ও অধিনায়ক তাকে সুযোগটা দিয়েছে এবং সে এটা কাজে লাগিয়েছে। অভিজ্ঞতা তাকে সাহায্য করছে। অবশ্যই সে একজন মানসম্মত খেলোয়াড়।’ বর্তমান ওপেনারদ্বয় সম্পর্কে তিনি আরো বলেন,‘ফিল্ডার হিসাবেও শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা খুবই ভাল। তারা ভাল পার্টনারশীপ গড়ছে। কিন্তু রোহিত কিংবা ধাওয়ানের কিছু হলে আপনাকে একটা বিকল্পও রাখতে হবে। সুতরাং সুযোগ পেলে গম্ভীর কিংবা শেবাগ একজন দলে আসতে পারে।’ আগামী বিশ্বকাপের এখনো প্রায় দু’বছর সময় আছে উল্লে¬খ করে মোরে পেস বোলিংয়ের ব্যাপারে ভারতের গভীর মনোযোগের তাগিদ দেন মোরে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন ভাল ফাস্ট বোলার। অধিকাংশ ফাস্ট বোলারেরই বড় ধরনের ইনজুরি রয়েছে। ফেরা এবং দলে জায়গা ধরে রাখাটা খুব সহজ নয়। উমেশ যাদব ও ভুবনেশ্বর কুমার খুব ভাল বোলিং করছে। ফাস্ট বোলিং বিভাগে আমাদের আরো কিছু বিকল্প দরকার।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘ভারতীয় দলে কিছু তরুণ খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের তাগিদে খেলা দরকার এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে আয়োজিত আগামী বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলে ২৫ সদস্যের একটি পুল তৈরি থাকা দরকার। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ৮০-১০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।’ তরুণদের ব্যাপারে তার বক্তব্য-‘আমি মনে করি ভুবনেশ্বরের মতো খেলোয়াড়দের আরো বেশি ম্যাচ খেলা দরকার যাতে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগে সে আরো বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। সকল খেলোয়াড়ই ভাল ক্রিকেট খেলে আসছে। হোক রায়না, জাদেজা অথবা অশ্বিন, রোহিত শর্মা কিংবা দিনেশ কার্তিক। গত দু’দিন বছর যাবত্ তারা ভাল ক্রিকেট খেলে আসছে ঐ অভিজ্ঞতা সত্যিই তাদের জন্য সহায়ক হবে।’ সাবেক এ নির্বাচক মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বেরও প্রশংসা করে তাকে এ যাবত্কালে ভারতীয় সেরা অধিনায়কদের মধ্যে একজন বলে অভিহিত করেন। বাসস