অবশেষে ‘হোম অব ক্রিকেটে’ আজ ফিরছে ক্রিকেট
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৮
সেই ২০১২ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মুখ দেখেছিল শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এর মাঝে এখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের কয়েকটা ম্যাচ হয়েছে; সর্বশেষ এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে বাংলাদেশের যুব দলের খেলা হয়েছে। তা না হলে বলা যেত, ছয় মাস ধরে ক্রিকেটের মুখ দেখে না বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট।
ছয় মাস না হলেও সময়টা কম নয়। আজ প্রায় তিন মাস পর আবার শেরে বাংলা স্টেডিয়াম দেখতে যাচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট ম্যাচ। অবশ্য আজকের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৩ বনাম জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের মিশ্রণে তৈরি দলের খেলাটিকে যদি আদৌ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বলা চলে!
প্রতিযোগিতামূলক হোক আর নাই হোক; এই ম্যাচের ভেতর দিয়ে একটা জড়তা কাটবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের বাইরে থাকার জড়তা। আর এই জড়তা কাটাতেই হরতালের ভয় থাকার পরও এই ম্যাচ আয়োজন করছে ক্রিকেট বোর্ড। অন্তত প্রধান নির্বাচক আকরাম খানের কথাতেই সেটা পরিষ্কার, ‘তিনটি দল যাবে দেশের বাইরে খুব গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সফরে। তাদের ম্যাচ প্র্যাকটিস দরকার। আবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরও খেলা দরকার। সব মিলিয়ে এই অনুশীলন ম্যাচগুলো খুবই দরকার ছিল।’
অনুশীলন ‘ম্যাচগুলো’ বলার কারণ আছে। আজকের এই ম্যাচটি ছাড়াও আরো দুটি ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা আছে টিম ম্যানেজমেন্টের। আগামী ১৯ ও ২০ তারিখ হতে পারে পরের দুটি অনুশীলন ম্যাচ। সেখানেও এরকম ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও যোগ দেবেন। ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়রা বলতে এখন তিনটি সফরের জন্য অনুশীলন করে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব-২৩, অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দল।
এর মধ্যে অনূর্ধ্ব-২৩ দল যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে এমার্জিং কাপ খেলতে। সেখানে এশিয়ার চারটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল অংশ নেবে। এছাড়া নেপাল, আফগানিস্তান, আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের মূল দল খেলবে টুর্নামেন্টে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল যাবে ইংল্যান্ডে। সেখানে ত্রিদেশীয় একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে তারা। ‘এ’ দলেরও গন্তব্য ইংল্যান্ড। সেখানে ইংল্যান্ডের ‘এ’ দল বা লায়ন্সের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে তারা।
শেষ পর্যন্ত কোন দলে কাকে পাঠানো হবে, সেটা জানতে আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। আকরাম খান জানালেন ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে তিনটি দলই পাওয়া যাবে। তিনি কোনো ধারণা দিতে চাইলেন না যে, কোন দলে কারা থাকবেন। তবে বিসিবি সূত্র জানালো, ইতিমধ্যে ‘এ’ দলের সফরের জন্য ২০ জন খেলোয়াড়ের পাসপোর্ট জমা নেওয়া হয়েছে। এর ভেতর থেকে ১৫ জন যাবেন সফরে। অন্য কিছু সূত্র থেকে জানা গেল, এখনো বিসিবি চাচ্ছে মাশরাফিসহ ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ড সফরে যাক। কিন্তু চিকিত্সকদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত মিলছে না এখনো।
এর আগে খেলোয়াড়দের যাচাই করার জন্য এই তিনটি ম্যাচকেই সুযোগ হিসেবে দেখছেন নির্বাচকরা। জাতীয় দলের কোচিং দলও এই ম্যাচ তিনটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। কোচ ও তার সহকারীদের এই আগ্রহের কথা জানা গেল প্রধান নির্বাচকের কথাতেই। তিনি বলেন, ‘আমরা কোচের ওপর নির্ভর করছিলাম। সে খুব আগ্রহী খেলার ব্যাপারে। যদিও হরতালে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে একটু শঙ্কা ছিল। কিন্তু বেশিরভাগ খেলোয়াড় যেহেতু এখন মিরপুরেই আছে, তাই কোচ চায় খেলাটা হোক।’