বাংলাদেশেও সার্ভাইলেন্স সিস্টেম চালু হওয়া দরকার
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৩, ২১:৪১
আজ থেকে বছর দশেক আগেও যেকোনো পিসি তৈরিতে গড়পড়তা হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা হতো ২০ থেকে ৪০ গিগাবাইট। বছর দশেক পরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখতে পাই আমরা। এখন বাজারে ৫০০ গিগাবাইটের নিচে হার্ডডিস্ক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ডিজিটাল কনটেন্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, মাল্টিমিডিয়া ফাইলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, হাই-অ্যান্ড গ্রাফিক্সের ব্যবহার প্রভৃতি কারণে হার্ডডিস্ক স্টোরেজে আসছে নানা ধরনের পরিবর্তন। সেই সব পরিবর্তনের সাথে তালমিলিয়েই গোটাবিশ্বকে স্টোরেজের নতুন নতুন প্রযুক্তি উপহার দিয়ে যাচ্ছে ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল (ডব্লিউডি)। বাংলাদেশের আইটি বাজারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
সম্প্রতি দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপে ডাব্লিউডি পণ্যের নানা কথা জানান ডাব্লিউডি’র ভারত ও দক্ষিণ-এশীয় বাজারের ডিরেক্টর সুব্রত দাস। যে পরিমাণ বৈচিত্র্যময় পণ্য রয়েছে ডাব্লিউডি’র, তা অন্য কোনো কোম্পানির নেই—এমনটাই জানালেন তিনি।
সুব্রত জানান, বাংলাদেশে ডাব্লিউডি হার্ডডিস্কের মধ্যে ইন্টার্নাল হার্ডডিস্কগুলোর বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল। পাশাপাশি এক্সটার্নাল ড্রাইভের বাজার দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আমাদের দুই ধরনের এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক রয়েছে—ইলেমেন্ট এবং পাসপোর্ট। এর মধ্যে ইলেমেন্ট সিরিজের হার্ডডিস্কগুলো সাধারণ ইউএসবি হার্ডডিস্ক। আর পাসপোর্ট সিরিজের হার্ডডিস্কগুলো অটো পিসি ব্যাকআপ রাখতে সক্ষম। উভয় হার্ডডিস্কের জন্যই আলাদা আলাদা ক্রেতা তৈরি হয়েছে।’
অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির প্রবাহের এই যুগে ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় তথ্য ধারণ ক্ষমতা আরও বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ছে অনেকের জন্য। এরকম জানিয়ে সুব্রত বললেন, ‘এখন মানুষ ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ফোন, ক্যামেরা, ট্যাবলেটের মতো নানা ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করছে। প্রয়োজন হচ্ছে চলতি পথে বাড়তি স্টোরেজের। এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কও যাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, তাদের জন্য ডাব্লিউডি’র রয়েছে নেটওয়ার্ক অ্যাটাচড স্টোরেজ বা সংক্ষেপে ন্যাস (NAS)। ‘মাইবুকলাইফ’ সিরিজে হোম ন্যাস ধরনের স্টোরেজ হিসেবে আমরা একাধিক ওয়াই-ফাই স্টোরেজ ডিভাইস সংযুক্ত করার সুবিধা দিচ্ছি। রাউটারের পেছনে এই ড্রাইভগুলো সংযুক্ত করে মূলত আমরা পার্সোনাল ক্লাউড তৈরি করে দিচ্ছি গ্রাহকের জন্য। ফলে গ্রাহক যেকোনো স্থান থেকেই তার ওয়াই-ফাই ডিভাইস ব্যবহার করে এই ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারছেন। মজার বিষয় হচ্ছে, এতে আপনি ১ বা ২ টেরাবাইট স্টোরেজ ব্যবহার করলে তার খরচ সাধারণ ১ বা ২ টেরাবাইটের প্রায় সমান পড়ে। অর্থাত্ বাড়তি খরচও করতে হবে না গ্রাহককে।’
সুব্রত জানান, এর বাইরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকৃতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অফিসের জন্যও রয়েছে ডাব্লিউডি’র তথ্য সংরক্ষণ ডিভাইস। আর যে ক্ষেত্রটিতে এখন মানুষের চাহিদা তৈরি হচ্ছে, তা হলো মিডিয়া সেন্টার। সুব্রত বললেন, ‘এটিও মূলত এক ধরনের ক্লাউড সার্ভিস, যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে তথ্য। আর এগুলো স্মার্ট টিভির মতো ডিভাইসে সরাসরি চালানো যাবে। অর্থাত্ এই স্টোরেজে যে ফাইল বা ফোল্ডার থাকবে, সেগুলো টিভিতে চলবে সরাসরি। সংরক্ষিত মাল্টিমিডিয়া ফাইলগুলো নাগরিক বিনোদনের চাহিদা পূরণেও কাজে লাগবে।’
পরিবেশবান্ধব স্টোরেজ ড্রাইভও তৈরি করছে ডাব্লিউডি। সুব্রত জানান, ‘ডাব্লিউডি গ্রিন ড্রাইভ নামে রয়েছে ডাব্লিউডি’র পরিবেশবান্ধব ড্রাইভ, যেগুলো ৪০ ভাগ পর্যন্ত কম বিদ্যুত্ খরচ করে। ফলে এই ডিভাইসগুলো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত্ সাশ্রয় করতে সক্ষম।’
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এবং ভারতের বাজারের চিত্র প্রায় একই রকম বলে জানালেন সুব্রত। তবে ভারতের বাজারে এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে পণ্যের চাহিদা একটু বেশি। বাংলাদেশের বাজারের বিষয়ে সুব্রত বললেন, ‘আগেই বলেছি বাংলাদেশে এক্সটার্নাল ড্রাইভের বাজারটি প্রসারমাণ। পাশাপাশি হোম ন্যাসের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে এই পণ্যগুলোতেই আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। যারা কিছুটা পুরোনো ডিভাইস ব্যবহার করছেন, তাদেরও কিন্তু স্টোরেজ আপগ্রেডের চাহিদা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইন্টার্নাল ড্রাইভও আমাদের দৃষ্টিতে রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি হোম ডিভাইসগুলো খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে গ্রাহকদের কাছে।’
নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সেবা কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ এবং তা সময়মতো ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে ভারতের মুম্বাইয়ের মতো বাংলাদেশেও সার্ভাইলেন্স সিস্টেম চালুর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন ডব্লিউডি’র ভারত ও দক্ষিণ এশীয় ডিরেক্টর সুব্রত। পৈত্রিক সূত্রে যশোর জেলার এই ভারতীয় নাগরিক জানান, বাংলাদেশে সার্ভাইলেন্স সিস্টেম চালু করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে প্রস্তুত রয়েছে ডব্লিউডি। বাংলাদেশেও কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো শহরকে মাল্টিপল হাইডেফিনেশন ওয়েবক্যাম স্থাপন করলে হালনাগাদ তথ্য সেবা প্রদান সহজতর হবে। সাথে থাকবে প্রামাণ্য দলীলও। যা বিচারিক কাজ থেকে শুরু করে কমাবে দুরাচারের ঘটনাও।