উখিয়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন ক্যাটাগরির গ্রাহকদের অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে উখিয়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির নিয়মিত প্রায় ৩৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উত্তেজনা।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী সরাসরি অভিযোগ করে জানান, তার বাড়িতে ইতিপূর্বে ৩শ’ টাকার বিল দেওয়া হতো। চলতি নভেম্বর মাসে তাকে বিল দেওয়া হয়েছে ১২শ’ টাকা। তিনি বলেন, তার মতো শত শত গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের গায়েবি বিল নিয়ে প্রতিনিয়ত তার কাছে অভিযোগ জানাচ্ছে।
উখিয়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মোট ৩৬ হাজার পল্লী বিদ্যুত্ গ্রাহক রয়েছে। এদের মধ্যে আবাসিক ৩০ হাজার, বাণিজ্যিক ৫ হাজার ও অন্যান্য ১ হাজার গ্রাহক। গায়েবি বিল হওয়ার অভিযোগ তাদের।
মঙ্গলবার সকালে পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, শত শত গ্রাহক গায়েবি বিলের অভিযোগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। এদের একজন ভালুকিয়া পালং গ্রামের মোর্শেদুল আলম জানান, তার বাড়িতে একটি ফ্রিজ, দুটি ফ্যান, ৩টি বাল্ব ছাড়া আর কিছুই নেই। তাকে ইতিপূর্বে বিল দেওয়া হতো ৬/৭ শত টাকা করে। কিন্তু অক্টোবর মাসে বিল করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে অভিযোগ করা হলে বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মচারী তার বাড়িটি পরিদর্শন করে তারাও অতিরিক্ত বিল নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।
এসময় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মচারীরা তার মিটারটি পাল্টানোর জন্য পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে একটি আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। প্রায় একই অভিযোগ করে পালংখালী ইউনিয়নের রশিদ আহমদ। তিনি জানান, তার বাড়িতে কোন ফ্রিজ নেই। দুটি ফ্যান, ৪টি বাল্ব চলে। তাকে চলতি মাসে বিল দেওয়া হয়েছে ১৬শ’ টাকা। কিন্তু ইতিপূর্বে তাকে ৩/৪শ’ টাকা করে বিদ্যুত্ বিল দেওয়া হতো।
উখিয়া স্টেশনের এক ব্যবসায়ী ইমরান জানান, তাকে আগে বিল দেওয়া হতো ৭/৮শ’ টাকা করে। তার দোকানে একটি কম্পিউটার, দুটি বাল্ব ও একটি ফ্যান রয়েছে। তাকে বর্তমানে বিল দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৫শ’ টাকা।
এ ব্যাপারে উখিয়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির ডিজিএম গোলাম সরওয়ার মোর্শেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে এজিএম প্রকৌশলী আমিনুর রসুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে কম্পিউটারে বিল ভুল হয়ে যায়। অভিযোগ করলে তা সংশোধন করে দেওয়া হয়।