সাফল্যের আলোয় প্রজেক্ট উত্কর্ষ
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৩, ১৯:২৯
সোস্যাল অ্যাকশন ফাউন্ডেশন সম্প্রতি সাফল্যের সাথে তাদের প্রজেক্ট উত্কর্ষের দ্বিতীয় ধাপ শেষ করেছে। দ্বিতীয় ধাপে তাদের তত্ত্বাবধানে ছিল মিউজিক ফর ডেভেলপমেন্টের ২৮ জন ছাত্রছাত্রী। ওদের বেশিরভাগেরই গত জুনে ছিল অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। ইউসেপ স্কুলে পড়ুয়া এই সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েরা তাদের সেই পরীক্ষায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান থেকে দারুণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
এই ছিল প্রজেক্ট উত্কর্ষের সাফল্যের একটা নমুনা মাত্রা। প্রজেক্ট উত্কর্ষ আসলে সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শেহজাদ আমান ও আরিফুল ইসলামের একটা পরিকল্পনা, যা তারা বাস্তবায়ন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের আরও কিছু উদ্যমী তরুণের সাহায্যে। শেহজাদ ও আরিফ অনেকদিন ধরেই অনুভব করে আসছিলেন যে, শহরের দরিদ্র পরিবারের শিশুরা হয়তো তাদের পরিবারের সামান্য আয়ে স্কুলেও পড়াশোনা করে, কিন্তু অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের শিশুদের মতো তারা প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখায় ভালো ফলাফল করতে পারে না শুধুমাত্র সঠিক যত্ন আর তত্ত্বাবধানের অভাবে। একটু যত্ন, একটু ভালোবাসার ছোঁয়া, একটু অনুপ্রেরণা তাদের জীবনে পরিবর্তন তথা উত্কর্ষের ছোঁয়া এনে দিতে পারে। তাই তো, ওরা দু’জন সুবিধাবঞ্চিত এসব ছেলেমেয়েদের জন্য বিশেষ কিছু করার সুযোগ খুঁজছিলেন। বন্ধু মনিরের মাধ্যমে তারা সন্ধান পেলেন ‘মিউজিক ফর ডেভেলপমেন্ট’ নামক একটি প্রকল্পের, যার মাধ্যমে ২৮ জন সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েদের নাচ, গান, অভিনয় ইত্যাদি শেখানো হতো। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে ছিল সুরের ধারা, যেটি কি না প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সংগীত সংগঠন। নাচ, গান ও অভিনয়ে এই ছেলেমেয়েরা পারদর্শী থাকলেও, তাদের ক্লাসে রেজাল্ট অতটা ভালো ছিল না।
শেহজাদ, আরিফ ও তাদের বন্ধুরা ঠিক করল এই ছেলেমেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ শিক্ষায় উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। পরিকল্পনামতো ২০১২ সালের নভেম্বর মাস থেকে তারা এই শিশুদের অংক, ইংরেজি, বিজ্ঞান পড়ানো ছাড়াও সাধারণ জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা, উন্নত জীবনাচরণের উপর ক্লাস নিতে শুরু করলেন। পড়ানো চলল নভেম্বরের পুরোটা আর ডিসেম্বরের অর্ধেক পর্যন্ত। আর তাতেই চমত্কার ফলাফল ভলান্টিয়ারদের হাতে এসে ধরা দিল। দেখা গেল, ছেলেমেয়েদের সবাই ১ম, ২য় বা ৩য় স্থানে থেকে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া স্বপন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে বৃত্তি লাভ করে।
এরূপ অভাবনীয় ফলাফলে মিউজিক ফর ডেভেলপমেন্টের সবাই ছিল অত্যন্ত আনন্দিত, এমনকি সুরের ধারার অধ্যক্ষ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাও উদারভাবে স্যোসাল অ্যাকশন ফাউন্ডেশনের ভলান্টিয়ারদের প্রশংসা করেছেন। তার এ প্রশংসাবাণী ভলান্টিয়াদের জন্য ছিল বড় একটা প্রাপ্তি।
প্রজেক্ট উত্কর্ষের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয় এই বছরের ১৯ এপ্রিল। ১৪-১৫ জন ভলান্টিয়ার এতে কাজ করে, আর এতে তাদের সাফল্যের কথা তো প্রথমেই বলা হয়েছে। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আবু জাফর, অ্যানি ক্লারার মতো অনেকেই প্রথমবারের মতো কোনো সামাজিক উন্নয়ন কর্মে জড়িত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। যা এই প্রজেক্টের আরেকটি সাফল্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু জাফর বলেন, ‘আমরা এখানে সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েদের সাথে জড়িত হওয়ার এবং তাদের জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়েছি। যা এই প্রজেক্টের আরেকটি সাফল্য।’ আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে প্রজেক্টের তৃতীয় ধাপ। এটির সফল সমাপ্তির পর সোস্যাল অ্যাকশন ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য স্থায়ীভাবে দরিদ্র মানুষদের বসতির পাশে প্রজেক্টের চতুর্থ ধাপ শুরু করা, সেখানে তারা প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও মননজগতের উত্কর্ষের জন্য কাজ করে যাবে। আমাদের বিশ্বাস সামনের দিনগুলোতেও তারা সফল হবে।