অনলাইনে সম্পর্কে নির্ভরতা
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৩, ১৯:২৯
ফেসবুক বা টুইটারে নতুন বন্ধুত্ব বা বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কে মোড় নেওয়ার বিষয়টিতে বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম কতটা নির্ভরশীল? এ ধরনের সম্পর্ককে তরুণরা কী চোখে দেখে, আর এর ভিত্তিই বা কতটুকু? এ বিষয়টি নিয়ে এক আড্ডায় দেখা গেল নানা জনের নানা মত।
ফারজানা :ফেসবুক বা টুইটারে থেকে অনেক নতুন নতুন মানুষের সাথে মেশার সুযোগ হয়। নতুন বন্ধুত্ব... নতুন মানুষ... বিযয়টি আমার ভালোই লাগে।
সানি :বর্তমানে ফেসবুক বা টুইটারে বন্ধুত্বের কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। বরং এর ফলে আমরা যারা ছাত্র তারা ফেসবুক বা টুইটারে বসে টাইম ওয়েস্ট করি। নতুন বন্ধুত্বের নামে এ ধরনের সম্পর্কে আমরা বেশি ঝুঁকে যাচ্ছি, যার ফলে পরিবারকে সময় দেওয়ার চেয়ে আমরা এসব নতুন বন্ধুদের সময় দেওয়াটা বেশি পছন্দ করি। এতে করে আমাদের পরিবারের সাথে একদিক থেকে দূরত্ব বাড়ছে, অন্যদিক নতুন বন্ধুত্বের নেতিবাচক দিকের শিকার হচ্ছি।
সামিয়া :আমি মনে করি নেতিবাচকতা সব বিষয়েই থাকতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে নিজের হাতে। দৈনন্দিন সব কাজের ফাঁকে ফেসবুকে কিছুটা সময় দেওয়াই যায়। আর পড়ালেখার পাশাপাশি একঘেয়েমিতা দূর করতেও এটা একটা ভালো মাধ্যম।
ফয়সাল :কিন্তু যারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তাদের উপর এর প্রভাবটা ক্ষতিকর। কয়েকদিন আগেও ফেসবুকে এতটাই সময় দিয়েছি যে, আমার সেমিস্টার ফাইনাল খুবই খারাপ হয়েছে। আসলে এর উপর এতটাই আসক্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে, নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না।
আফরিন :অনলাইনে বন্ধুত্ব করার মতো এত টাইম কোথায়—সকালে ক্লাস করে পার্ট টাইম জব সেরে বাসায় ফিরে নিজের পড়া। এ ছাড়াও আমার কাছে এসবে সময় দেওয়াটাকে ভিত্তিহীন মনে হয়। যাকে চিনি না তার সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করাটা ভিত্তিহীন ছাড়া আর কী হতে পারে ।
রাসেল :আমি আমার মোবাইলে নেট নিয়ে ফেসবুক বা টুইটারে চ্যাট করি। এর ফলে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফেসবুক বা টুইটারে ব্রাউজ করা যায়। এ ছাড়াও যখন একা থাকি টাইম পাসের একটা ভালো মাধ্যম বলে আমি মনে করি। অনেকে দেখা যায়, ফেসবুক বা টুইটারের থেকে ছবি নিয়ে ফেইক প্রোফাইল খুলে। এ জন্য বুঝে ফেন্ড রিক্যুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করলে এই সমস্যা এড়ানো যায়। আর রিস্কের বিষয়টা সব ক্ষেত্রেই থাকতে পারে, সেটা স্মার্টলি হ্যান্ডেল করলে নানামুখী প্রবলেম এড়ানো সম্ভব।