শেষ অনুশীলন ম্যাচে ইমরুল-লিটনের প্রদর্শনী
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৩, ২১:৫৯
আগের দুইদিনের মতো গতকাল রবিবার আর বৃষ্টি বাধা হয়ে উঠতে পারল না। রৌদ্রোজ্জ্বল মিরপুর স্টেডিয়ামে দুই দলে ভাগ হয়ে খেললেন শীর্ষ ক্রিকেটাররা। ম্যাচটিতে বিসিবি লাল দলকে নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা করলো বিসিবি সবুজ দল। প্রায় দশ ওভার বাকি থাকতে চার উইকেটের সহজ এক জয় পেল জহুরুল ইসলাম অমির অধিনায়কত্বে মাঠে নামা বিসিবি সবুজ দল।
এক তামিম ইকবালকে বাদ দিলে বাংলাদেশ দলের বাকি ‘ওপেনারদের’ ঠিক দলে জায়গাটা নিশ্চিত না। ২০১১ সালে বাদ পড়ার পর সেই দল থেকে ইমরুল কায়েসের নামটা প্রায় বাদ পড়ার মতো অবস্থাতেই ঝুলে ছিল। তবে এবার কিছুটা হলেও আলোচনায় ফিরলেন ইমরুল। সবুজ দলের হয়ে করা ৬৮ রানের কল্যাণে আবারও আশার আলোটা দেখতেই পারেন খুলনার ছেলে ‘সাগর’।
নিজের স্বাভাবিক খেলার কারণেই রানের দেখা পেয়েছেন বলে মনে করছেন ইমরুল, ‘আমি চেষ্টা করি সব সময় নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে। আর আগে থেকেই চাইতাম গুছিয়ে খেলতে। আজও (গতকাল) সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি।’
দিনের নায়ক যদি ইমরুল হয়ে থাকেন তাহলে এর পরেই আসবে লিটনের নাম। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে অনূর্ধ্ব ২৩ দলের হয়ে সেঞ্চুরি করার পর আবার গতকাল সবুজ দলের হয়ে করলেন হাফ সেঞ্চরি।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে সবুজ দলের সামনে ২২০ রানের টার্গেট দেয় বিসিবি লাল দল। ব্যাটসম্যানদের শুরুটা বেশ ভাল হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। নাজমুল হোসেন মিলন ৪৬ ও এনামুল হক বিজয় ৩২ রান করেন। জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ করেন ১৮ রান। সবুজ দলের বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট পান ইলিয়াস সানি, ফরহাদ রেজা ও আলাউদ্দিন বাবু।
টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে জয় পেতে বড় কোন সমস্যার সামনে না পড়লেও বড় রানের দেখা পাননি সবুজ দলের কোন ‘এলিট’ ব্যাটসম্যানই। জহুরুল ইসলাম (২৫), নাঈম ইসলাম (১৮), নাসির হোসেনের (২৭) শুরুটা ভাল হলেও শেষ পর্যন্ত সেটা ধরে রাখতে পারেনি। লাল দলের হয়ে দুটি উইকেট পান মোশাররফ হোসেন রুবেল। ৪০ ওভার দুই বলেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সবুজ দল। ব্যাটসম্যানরা অহেতুক উইকেট বিলিয়ে দিয়ে না আসলে হয়তো জয়ের ব্যবধানটা আরও বাড়তো।
আর ম্যাচে না থেকেও দিনের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড় হলেন পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা। সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছিল এই ম্যাচেই মাঠে দেখা যেতে পারে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার লড়াইয়ে থাকা সাবেক এই অধিনায়ককে। কিন্তু মাশরাফি তো বোর্ডের কোথাও নেই! এই সময় আবার গুঞ্জন শোনা গেল, মাশরাফি আসলে বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাইকমিশনে গেছেন। দুইয়ে দুইয়ে অনেকেই চার মেলালেন— ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। আর বিসিবি সূত্রও জানিয়েছে ‘এ’ দলের হয়ে মাশরাফির সফরটা অনেকটা নিশ্চিত হয়েই আছে। তবে, এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে আরও এক-দুদিন সময় লাগবে। আজ কালকের মধ্যেই স্কোয়াড চূড়ান্ত হওয়ার কথা।