সোনা রুপা পাচার হচ্ছে ভারতে আসছে কাপড় প্রসাধনী হেরোইন
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৮
ঈদকে সামনে রেখে যশোরে চোরাচালানিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য যশোরের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। ঈদের প্রধান পণ্য ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, ইমিটেশন, কসমেটিকসের পাশাপাশি ভারতীয় গরু ও জিরার মতো সামগ্রীর বেজায় চাহিদা এখন বাজারে। হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, গাঁজার মতো নেশাসামগ্রীর সরবরাহ বেড়ে গেছে বহুগুণ। সোনা-রূপার মতো মূল্যবান ধাতু দেদার পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে।
বিজিবি সূত্র জানায়, অতি সমপ্রতি অবৈধপথে ভারতীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে গেছে। এজন্য সীমান্তের বিভিন্ন টহল চৌকিতে কড়া নজরদারি চলছে। তাদের অভিযানে চলতি জুলাই মাসের তিন সপ্তাহে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকারও বেশি চোরাচালান পণ্য ধরা পড়েছে। এই নিয়ে চলতি বছর ২৬ বিজিবি যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে ১২ কোটি ১৩ লাখেরও বেশি টাকা মূল্যের চোরাচালান সামগ্রী জব্দ করেছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, থানকাপড়, তৈরি পোশাক, ইমিটেশন, কসমেটিক্স, গরু, জিরার মতো প্রচলিত চোরাই পণ্যের পাশাপশি ম্যাকাওপাখি রয়েছে। ৪টি এয়ারগান ও এক হাজার রাউন্ড গুলিও ধরা পড়ে চৌগাছার দৌলতপুর সীমান্তে। নেশাসামগ্রীর মধ্যে সাড়ে ৩৫ হাজারের বেশি বোতল ফেনসিডিল, ২৪ কেজি গাঁজা, ২ হাজারের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে আটক তালিকায়। তবে এগুলোকে ছাপিয়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে হেরোইনের চোরাচালান। ৪ কেজি ৭২৮ গ্রাম হেরোইন রয়েছে বিজিবির জব্দ তালিকায়। চৌগাছার ভৈরবা করিডোর থেকে আটক করা হয়েছে ৫ হাজার ২৩৫টি গরুর চালান। বিজিবির খুলনা ২৩ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বেনাপোলের পুটখালী ও অগ্রভুলেট করিডোর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু অবৈধভাবে কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে দেশে ঢুকছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঈদের বাজারে চোরাচালান ব্যবসায় দেশ থেকে মূল্যবান ধাতব পদার্থ সোনা-রূপা পাচার হচ্ছে সীমান্তের ওপারে। গত শুক্রবার বেনাপোলের কাছে পুটখালী সীমান্ত থেকে ৭২ লাখ টাকা দামের এক কেজি ২শ গ্রাম সোনার ১১টি বার আটক করে বিজিবির ২৩ ব্যাটালিয়ন। অভিযানে ২ জন চোরাচালানি গ্রেফতার হয়। শনিবার মনিরামপুরের খেদাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ২ জন চোরাচালানির কাছ থেকে আটক করে ২৯ কেজি ওজনের ২৯টি রূপার বার। এর দাম ২৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
ঈদের আগে সীমান্তে চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে ২৬ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মতিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘চোরাচালান বৃদ্ধির কোনো ব্যারোমিটার আমাদের কাছে নেই। তবে অবৈধপথে পণ্যের আমদানি ও রফতানি বেড়েছে একথা বলতে পারি।’ চোরাচালান পণ্য আটকে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের বাইরে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা না করে কেন শুধু বিজিবির অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, পুলিশকে সাথে নিয়ে একসাথে অভিযান চালাতে গেলে সময়ক্ষেপণ হতে পারে, দ্রুততার সাথে অভিযান চালানো যায় না। তবে অভিযানের খবর আগেভাগে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়।’