মোবারক মাহে রমজান
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৯
আজ ১৩ রমজান। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) বলেছেন, ‘রমজান মাস হলো ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান হলো জান্নাত’। এই মাসেই আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে ধৈর্য্যের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। যাতে রমজান পরবর্তী সময়ের প্রতিটি মুহূর্তে, কথায়, কাজে ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হয়। আল্লাহকে একান্তভাবে পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো এই ধৈর্য। যুগে যুগে যত নবী-রসূল এসেছেন সকলেই ছিলেন ধৈর্যশীল। কারআনে আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতায়ালা বলেন, হে মু’মিনগণ! তোমরা ধৈর্যের সঙ্গে ও নামাজের মাধ্যমে আমার সাহায্য কামনা করো। নিশ্চিয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন (আল-বাকারা-১৫৩)।
“আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়-ভীতি, ক্ষুধা, সম্পদ ও প্রাণের ক্ষতি ও ফল-ফসলের বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও (সেই সব) সবরকারীদের, যখন তারা বিপদে পড়ে, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই কাছে ফিরে যাবো” (আল-বাকারা-১৫৫, ১৫৬)।
রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, মানুষের ওপর এমন একটি যুগ আসবে যখন দ্বীনদারের জন্য দ্বীনের ওপর টিকে থাকার বিষয়টি জ্বলন্ত আগুন হাতে রাখার মতো কঠিন হবে (তিরমিজী, মেশকাত)।
রসূলুল্লাহ (স.) আরো বলেছেন, মু’মিনের সকল কাজ বিস্ময়কর। তার প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর (এ সৌভাগ্য) মু’মিন ছাড়া কেউই লাভ করে না। দুঃখ-কষ্টে পড়লে সে সবর করে আর এটা হয় তার জন্য কল্যাণকর। সুখ-শান্তি লাভ করলে সে শুকর আদায় করে আর এটাও তার জন্য কল্যাণই বয়ে আনে। (অর্থাত্ সর্বাবস্থায় সে কেবল কল্যাণই লাভ করতে থাকে) (মুসলিম)।
হযরত আবু হুরায়রাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, সেই ব্যক্তি শক্তিশালী নয়, যে কুস্তিতে লোককে হারিয়ে দেয়। বরং প্রকৃত পক্ষে সেই শক্তিশালী বীর যে রাগের সময় নিজেকে সামলাতে পারে। (অর্থাত্ ধৈর্য ধারণ করতে পারে) (বুখারী ও মুসলিম)।
একদা এক ব্যক্তি নবী করীম (স.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, হে রসূল (স.)! আপনি আমাকে কিছু উপদেশ দান করুন। রসূল (স.) বললেন, তুমি রাগ করবে না, (ধৈর্য ধারণ করবে) লোকটি বার বার একই প্রশ্ন করছিলেন এবং রসূল (স.) বার বার তাকে একই জবাব দিচ্ছিলেন যে, তুমি রাগ করবে না (ধৈর্য ধারণ করবে) (বুখারী)।
রসুলুল্লাহ (স.) আরো বলেছেন, এমনসব জিনিস জান্নাতকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা মানুষের অপছন্দনীয়, কষ্টকর। আর জাহান্নামকে ঘিরে আছে এমন সব জিনিস যা আকর্ষণীয় (মেশকাত)।
পরিশেষে ধৈর্য, বিনয়-নম্রতা, কোমলতা ও শান্ত প্রকৃতির মাধ্যমে যা কিছু সম্ভব অধৈর্য, রূঢ়তা, উগ্রতা ও রুক্ষ স্বভাবের মাধ্যমে তা কখনোই সম্ভব নয়। সুতরাং রমজানের অন্যতম শিক্ষা ধৈর্য ধারণের সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাছিলের দিকে অগ্রসর হই। আল্লাহ আমাদের সকল ঈমানদার রোজাদারগণকে সেই তাওফীক দান করুন, আমীন।
ই-মেইল: mzhazadi@yahoo.com