শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২১:২২
অর্থনৈতিক উন্নয়নে চাই সুষ্ঠু নির্বাচন পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন
একটি দেশের উন্নয়নে দেশের রাজনীতিবিদরা বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই অস্থিরতা দূরীকরণেও রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে। কিভাবে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা সকল রাজনীতিবিদ একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে তার পাশাপাশি তাদের জনগণের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক তারা তা মেনে নিবেন। আর এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়ার জন্য তাদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে এবং দেশের কথা ভেবে সরকার বিরোধী আন্দোলন আর আন্দোলনের নামে হরতাল, অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন, অবাধে গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ এগুলো বন্ধ করতে হবে। তবেই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।
হাবিবুর রহমান,
শিক্ষার্থী, পাতারহাট আর সি কলেজ,
মেহেন্দীগঞ্জ, বরিশাল
রাজনৈতিক দলগুলোকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে কোন রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট সময়ের বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রতি আস্থা কম। তাই একদল অন্য দলকে বিভিন্নভাবে দোষ দেয়। যদি তারা সমঝোতার মাধ্যমে সংলাপে বসে, মনের সমস্ত ময়লাকে পরিষ্কার করে স্বচ্ছ মনে আলোচনা করলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সমাধান হবে। বিখ্যাত লেখক ডিফেন্স বলেছেন, সমস্যা যত জটিল হউক না কেন, চেষ্টা আর পথ জানা থাকলে সমাধান সহজ হয়। কিন্তু আমরা সেই চেষ্টা করি না বিধায় আজ আমাদের এই পরিস্থিতি। যদি রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে তাহলে জিএসপির যে সুবিধা বন্ধ করেছে তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তবে তারজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ এবং শ্রমিকদের জন্য যথোপযুক্ত পারিশ্রমিকসহ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা। যদি তা না করা যায় তাহলে ভবিষ্যতে জাতি চোখে সর্ষেফুল দেখবে। কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষের কারণে জাতি বিষণ্নতায় ভুগছে, হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। আমরা সাধারণ জনগণ আর কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ। যদি তা করা যায় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব।
মো. আব্দুর রহমান সুমন,
সারাদেশ ফোরাম, সদস্য নং ২৪৩,
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়,
বি.এস.এস. নারায়ণগঞ্জ
দল বা নিজের জন্য নয়, দেশ ও দেশের জনগণের জন্য গণতন্ত্রের চর্চা করা প্রয়োজন
হোঁচট খাওয়া ও পায়ে ব্যথার কারণ হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপের নারীদের কাছে উঁচু হিলের কদর অপরিসীম; তেমনিভাবে আমাদের দেশে দুই বড় দলের দ্বারা সাধারণ জনগণ হোঁচট খাওয়া সত্ত্বেও সেই দুই দলকে নির্বাচিত করে আসছে। সাধারণ জনগণ তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায়ন করার ফলেও বড় দুই দলের মধ্যে কোন দলের কাছে সাধারণ জনগণ তাদের যে প্রাপ্য তা পায় না। রাজনৈতিক সব দলই ক্ষমতার জন্য সদা সর্বদা তত্পরতা চালায়। ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা যা করার তাই করে। এতে অর্থনৈতিক চাকা বিকল হওয়ার সম্মুখীন হয়। অর্থনীতি একটি দেশের ইঞ্জিনস্বরূপ। ইঞ্জিন নামক অর্থনীতিটি যত শক্তিশালী হবে দেশ তত স্বনির্ভর হবে। তাই অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য রাজনৈতিক যে অস্থিতিশীলতা চলছে তা দূর করতে হবে। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া হতে হবে শান্তিপূর্ণ। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া যদি নিরপেক্ষ না হয় তাহলে নির্বাচনের প্রতি কোন দলের আস্থা থাকতে পারে না। তাই আমি মনে করি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর খুবই প্রয়োজন।
মো. সামিউল হক,
প্রথমবর্ষ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ,
তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা
গণতান্ত্রিক মর্যাদা রক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বয়ে আনতে পারে
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে জনগণ। জনগণই নির্বাচিত করে সরকার। সেখানে সরকার যদি কোন কাজ করতে ব্যর্থ হয়, দেশের অর্থনীতির চাকা সমৃদ্ধ করতে ব্যর্থ হয় তখন সুনাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত। সেখানে সরকার যদি অন্যসব রাজনৈতিক দলকে ক্ষেপিয়ে দেয় তাহলে তো দেশের শান্তি নষ্ট হবে। আর শান্তি নষ্ট হওয়া মানেই দেশকে বিপদে ফেলে দেয়া। সরকারি দল যখন তাদের মসনদে বসে ক্ষমতা দেখাতে যান তখন তার প্রতিরূপ হয় হরতাল, ধর্মঘট ইত্যাদি। এগুলো কি দেশের উন্নয়নের জন্য। এসব হরতাল, ধর্মঘট হচ্ছে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের প্রধান বাধা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারি দলের ভুল সুধরানোর মূল পথ হচ্ছে তার প্রতিপক্ষ দল। সেখানে সরকারি পক্ষ তাদের ক্ষমতার মোহ না দেখিয়ে দুই পক্ষ এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করলে নিশ্চয়ই দেশের উন্নয়ন হবে। তবে সরকারের উচিত যদি তার ভুল বুঝতে পারে এবং যদি দেশের মঙ্গল চায় তাহলে ভেবে-চিন্তে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত যাতে দেশের কোন উন্নয়ন বা শান্তি নষ্ট না হয়। এসব বিষয় ভাবাই হচ্ছে যোগ্য সুনাগরিকের কাম্য। তাই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত। এটি দেশের অর্থনীতিসহ সকল ধরনের উন্নয়ন বয়ে আনবে।
মাইনুদ্দীন,
সমাজ বিজ্ঞান (১ম বর্ষ),
সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল