ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প হবে মানুষের চেহারা
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ১৯:৫৯
কেনাকাটার রাজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে প্রযুক্তি। একটা সময় দোকানে গিয়ে পণ্য কেনার বিকল্প ছিল না। সেখানে ই-কমার্সের প্রসারে অনলাইন শপিং পরিণত হয়েছে স্বাভাবিক ঘটনায়। এর মধ্যে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে পেমেন্ট সিস্টেমে। ক্রেডিট কার্ডের যুগ পেরিয়ে এখন মানুষ ব্যবহার করতে শুরু করেছে মোবাইল ওয়ালেট। তবে এবারে ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান ইউনিকুল উদ্ভাবন করেছেন এমন এক প্রযুক্তি যা এই প্রথমবারের মতো মানুষের মুখচ্ছবি দেখেই পণ্যের মূল্য পরিশোধের সুযোগ করে দেবে। কোনো ধরনের ক্রেডিট কার্ড কিংবা মোবাইল ওয়ালেট নয়, মানুষের চেহারা দেখেই পেমেন্ট নিশ্চিত করবে এই পেমেন্ট সিস্টেম। ফলে পণ্যের অর্থ প্রদানের জন্য নগদ টাকা তো বটেই, ক্রেডিট কার্ড কিংবা মোবাইল ওয়ালেটেরও প্রয়োজন হবে না। ফিনল্যান্ডের ওয়েবসাইট গুডনিউজফিনল্যান্ড ডটকম জানিয়েছে, এই পেমেন্ট সিস্টেমের প্রোটোটাইপ ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে এবং ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে এই সিস্টেমটি বাস্তবায়ন করার কাজ শুরু করে দিয়েছে ইউনিকুল। ইউনিকুল জানিয়েছে, পণ্যের মূল্য পরিশোধের সময় কমিয়ে আনতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে তাদের এই প্রযুক্তি। ক্রেডিট কার্ড কিংবা মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলেও সেটার প্রসেসিংয়ে কিছু সময় ব্যয় হয়। নতুন এই প্রযুক্তিতে সিস্টেমের ক্যামেরায় ক্রেতার চেহারাটি প্রদর্শন করলেই কাজ শেষ। সরাসরি ওই গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে সংযোগ স্থাপিত হয়ে যাবে। ফলে সময়ের সাশ্রয় ঘটবে। এই সিস্টেমে গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তাও হবে শক্তিশালী। ইউনিকুল জানিয়েছে, বায়োমেট্রিক সিস্টেম ব্যবহার করায় এই সিস্টেমে কখনই একজন গ্রাহকের সাথে আরেকজনের চেহারা মিলবে না। শুধু তাই নয়, যমজ ব্যক্তিদেরকেও আলাদা করে সনাক্ত করতে সক্ষম হবে এই সিস্টেম। ইউকিনকুলের রুসলান পিসারেংকো এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনের জন্য এই সিস্টেমে মানুষের চেহারাটিই কাজ করবে পিনের মতো এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ এবং নিরাপদ সিস্টেম।’ তিনি জানান, এই সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়েছে ‘মিলিটারি গ্রেড অ্যালগরিদম’; ফলে এর নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে প্রচলিত পিন নম্বর ব্যবহার করার সুযোগও থাকবে। ইউনিকল আশা করছে, আগামী মাসেই হেলসিংকিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিস্টেম যাত্রা শুরু করবে।