একজন বাক্যবাগীশ এমপি ও পেটানোর শিক্ষা
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২১:২৬
এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত কত রকম গোলমেলে ঘটনা ঘটছে, কত মানুষ কত রকম গোলমেলে উক্তি করছে, সেসব শুনলে আমরা মজা পাই। সংশ্লিষ্ট পাত্র-পাত্রীকে নিয়ে হাসাহাসি করি। অনেক সময় নিজেরা টের পাই না যে, আমাদের অনুরূপ কথাবার্তা-কাজকর্মের জন্য অন্যেরা আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করে। অবশ্য টের পেলেও খুব একটা লাভ নেই। আমরা অন্যের ব্যাপার নিয়ে অর্থাত্ পরচর্চায় যতটা উত্সাহী ও বেপরোয়া, নিজের ব্যাপারে বা আত্মচর্চায় ততটাই উদাসীন ও নিরুত্সাহী। কে কি বলল, কে কি করল এসব নিয়ে এত বেশি মশগুল থাকি যে, নিজের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানোর আর সময় পাই না। এই যে আমাদের পরচর্চার স্বভাব এটিই সম্ভবত দুনিয়ার সবচেয়ে বড় গোলমেলে ব্যাপার।
আমাদের দেশে বক্তার সংখ্যা বেশি, শ্রোতার সংখ্যা কম। সবাই কেবল বলতে চায়। শুধু যে বলতে চায় তাই নয়, নিজের বক্তব্যটাকেই সেরা মনে করে। সেজন্য আমাদের দেশে মানুষজনের মুখে সারাক্ষণই কথার খই ফুটতে থাকে। কেউ যদি একটু চুপ থাকে অমনি সবাই তাকে চেপে ধরে, কী ব্যাপার চুপচাপ কেন? মন খারাপ? কিছু হয়েছে-টয়েছে? পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে ব্যক্তি কথা বলতে চায় না তাকেই বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত বাহুল্য প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলতে হয় এবং নাজেহাল হতে হয়।
আমরা যেসব কথা বলি, যেসব কথা শুনি সেসবের বেশিরভাগেরই কোনো বিষয়বস্তু নেই, কোনো মানেও নেই। তারপরও আমরা কথায় কথায় নানা কথা বলে ফেলি। অবশ্য মানে নিয়ে মাথা আর কে ঘামায়? সবাইকে যেন বিটিভির আটটার সংবাদে পেয়েছে। কে শুনল আর কে শুনল না তাতে কিছুই যায় আসে না। তুমি শুনতে ভালোবাস কি না তা আমি জানি না। আমার কাজ আমি করে যাব—এটাই যেন নীতি। তবে কথার মানে থাকুক বা না থাকুক, আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত কথা চালিয়ে যাই। কেউ বোবা হয়ে বসে নেই। সবাই নিজ নিজ মত প্রকাশ করে যাচ্ছি। এসব কথা নিয়ে মতান্তর আছে। অনেক ক্ষেত্রে মনান্তরও ঘটে। আমি-আপনি কোনো ভালো কথা বললেও তাকে পাত্তা দেয়া হয় না। যদি বেশি হৈচৈ করা হয় তাহলে বলা হবে, পাগলে কি না বলে আর ছাগলে...। অথচ কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি, এমপি কিংবা মন্ত্রী যখন কোনো সাধারণ কথাও বলেন, তা হয়ে ওঠে অসাধারণ, মূল্যবান। আমাদের দেশে ব্যক্তির গুরুত্ব বা ওজনের ওপর নির্ভর করে তার কথার দাম। গুরুত্বপূর্ণ লোক গুরুত্বহীন কথা বললেও তা হয় অত্যন্ত মূল্যবান; পক্ষান্তরে সাধারণ মানুষ অতি দামি কথা বললেও সেটা ‘ফালতু বকবক’ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
আমাদের এই বাচাল জাতিকে আরও বেশি ‘কথাবাগীশ’ বানাতে টেলিভিশনগুলো বিরাট ভূমিকা পালন করছে। আমাদের দেশে টাকাওয়ালারা এখন আর দশটা দু’নম্বরী কারবারের সঙ্গে একটা করে টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক বনে গেছেন। এই টেলিভিশনগুলো সারাদিন-সারারাত শুধু বকবকানির অনুষ্ঠান চালায়। আগে টেলিভিশন চ্যানেলে রাত বাড়লে পরে বিভিন্ন রাগপ্রধান গানের অনুষ্ঠান হতো। এসব রাগ-রাগিণীর তালে মানুষ এক সময় ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যেত। এখন যুগ পাল্টেছে। শারীরিক শ্রম থেকে দেশের মধ্যবিত্তরা প্রায় অবসর নিয়েছে। এখন আর মানুষ আগের মতো ক্লান্ত হয় না। তাছাড়া নানারকম স্বার্থচিন্তা, ধান্দা-ফিকির ইত্যাদি মধ্যবিত্তদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এই মানুষগুলোর রুচিও অনেকটাই পাল্টে যাচ্ছে। এখন মধ্যবিত্তরা রাত জেগে টেলিভিশনে বকবকানি শুনতে পছন্দ করে। সারারাত যা শোনে, যা বোঝে, পরদিন সেগুলোর সঙ্গে নিজের মত মিশিয়ে উগড়ে দেয়। এভাবেই চলছে বকবকানির চক্র।
গত এক দশকে আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো তারা একদল সবজান্তা বাক্যবাগীশ লোককে খুঁজে বের করেছে। অধ্যাবসায় এবং চর্চায় এরা খুব ভালো ‘বলোয়ার’ হয়ে উঠেছেন (খেলতে খেলতে খেলোয়াড়, আর বলতে বলতে বলোয়ার!), যে কোনো বিষয়ে (এমনকি বিষয় ছাড়াও) ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতে পারেন। এই বাক্যবাগীশরা নিজেরা যখন যে দায়িত্বে ছিলেন, তখন ভালো কিছু করতে না পারলেও কার কি করা উচিত—এ বিষয়ে গুরুতর সব মতামত ব্যক্ত করেন। তাদের বকবকানি শুনলে মনে হয়, আহা! এই লোকটা যদি আমাদের নেতা হতো! আহা, উনাকে যদি ওই দায়িত্বটা দেয়া যেত! যদিও এই মহামহিমগণ যখন ভালো কিছু করার দায়িত্ব পান তখন আর দশজনের মতো শুধু লাভটা পকেটে ভরেন, আর যখনই উপদেশ দেয়ার সুযোগ পান তখনই ‘দেবতা’ হয়ে যান। এমন ‘বলোয়ার’দের তামাশা আর বকবকানিতে আমাদের জীবনটা বেশ রসেবশেই কাটছে।
আমাদের টেলিভিশনের সেই বিশিষ্ট ‘বলোয়ার’দের একজন হচ্ছেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি বেশ কামেল ব্যক্তি। চমত্কার গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। গত চার বছরে আমরা বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে রনি সাহেবের বয়ান প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন চ্যানেলে দেখেছি এবং শুনেছি। তিনি সরকারি দলের এমপি হয়েও মাঝে মাঝে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করতেন। আবার সুযোগ বুঝে বিরোধীদের মুণ্ডুপাতও করতেন। তিনি প্রগতিশীলতার পোশাকে যেমন মৌলবাদীদের পক্ষে কথা বলতেন, আবার মৌলবাদী হয়েও প্রগতিশীলতার পক্ষে মাঝে মাঝে দারুণ সব যুক্তি তুলে ধরতেন। রাজনীতিবিদ হয়েও রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন ব্যবসায়ী। আবার শুধু ব্যবসায়ী হয়েও তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন না, ছিলেন রাজনীতির লোক। তিনি একই সঙ্গে ছিলেন কলাম লেখক, রাজনৈতিক ‘বিশ্লেষক’। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। ঢাকা বারের তালিকাভুক্ত আইনজীবীও ছিলেন তিনি।
বেশ প্রতাপের সঙ্গেই রনি সাহেব চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কেন জানি মানুষের জীবনে সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয় না। রনি সাহেবের কপালেও সুখ সইল না। আকস্মিকই তিনি ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়লেন। সম্প্রতি তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ৯ম তলায় এমপি রনির অফিসে হামলার শিকার হন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ মমিন সনি ও ক্যামেরাপার্সন মহসিন মুকুল। ওই ঘটনায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সহকারী ব্যবস্থাপক ইউনুস আলী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় এমপি গোলাম মাওলা রনিসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে। ওইদিনই গভীর রাতে শাহবাগ থানায় গোলাম মাওলা রনি বাদী হয়ে হামলার শিকার হওয়া দুই সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নামে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। দু’টি মামলাই থানা গ্রহণ করে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির আহত সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর ছিল ওইদিন এমপি গোলাম মাওলা রনির মেহেরবা প্লাজার ব্যবসায়িক চেম্বারে বস্তায় করে বিপুল অংকের টাকা আসার কথা। ওই টাকার অনুসন্ধান করতেই টিভি চ্যানেলটির সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে হামলার শিকার হন।
সাংবাদিক পিটিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলেও। গোলাম মাওলা রনির নিজ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে তার শাস্তি দাবি করা হয়েছে। ব্রডকাস্ট সাংবাদিকরা সংসদ সদস্য রনিকে বর্জন করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। সাংবাদিকদের মধ্য থেকে উচ্চারিত হচ্ছে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা।
সাংবাদিকদের পিটিয়ে এমপি রনি খুব বেশি অপরাধ করে ফেলেছেন—এটা অবশ্য সবাই মনে করছেন না। সাংবাদিক পেটানো, প্রতিপক্ষকে পিটিয়ে ঠাণ্ডা করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, সম্মেলন, মিছিল, বিক্ষোভ, ঘেরাওসহ যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি শক্তি দিয়ে দমন করা—এগুলো তো আমাদের দেশে অত্যন্ত স্বীকৃত ও কার্যকর পন্থা। এ কাজটি আমাদের দেশের ক্ষমতাবানরা, রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, পুলিশ, মস্তানরা অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে আসছে।
অশিষ্ট, অপছন্দের ব্যক্তি কিংবা প্রতিপক্ষকে পিটিয়ে ঠাণ্ডা করার নীতি আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। ‘মাইরের ওপর কোন ওষুধ নাই’—এটা আমাদের সমাজে স্বীকৃত একটা সামাজিক নীতি। শক্তিমানেরা দুর্বল-অশিষ্ট-অবাধ্যদের শায়েস্তা করতে, নিরীহদের বশে রাখতে যুগ যুগ ধরে ডাণ্ডার ওপরই ভরসা করেছে।
আমাদের রাজনীতিতে সমালোচনা, প্রতিবাদ, আন্দোলন যে কোনো ধরনের বিরোধিতা দমন ও প্রতিপক্ষকে ঠাণ্ডা করতে মাইর বা শক্তি প্রয়োগের নীতি কার্যকর হয়ে আসছে। আইয়ুব, ইয়াহিয়া থেকে শুরু করে জিয়া-এরশাদ-খালেদা-হাসিনা পর্যন্ত সবাই কম-বেশি শক্তি বা ‘ডাণ্ডা’র ওপর নির্ভরশীল হয়েই ক্ষমতার স্বাদ উপভোগ করেছেন এবং করছেন। ডাণ্ডা যে কোনো ‘শক্তিমান’ শাসকের জন্যই প্রধানতম অবলম্বন। বল ও ভরসা।
‘দুর্বল’রা সাধারণত ডাণ্ডা ব্যবহার করতে ভয় পায়। পাছে এসব ডাণ্ডা দ্বিগুণ প্রতিশোধ হয়ে ফিরে আসে—এই আশঙ্কাই সম্ভবত এ শ্রেণিকে ডাণ্ডাবিমুখ করে তোলে। তাতে অবশ্য সব সময় তেমন লাভ হয় না। সাধারণ মানুষ তাদের ভীরু-দুর্বল ভেবে পরিত্যাগ করে। পক্ষান্তরে ডাণ্ডাবাজদেরই জনগণ সমীহ এবং সম্মান করে। ডাণ্ডা, লাঠি, লাঠিপেটা, মাইর—মোটের ওপর শক্তি প্রয়োগের নীতি আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। আমাদের সমাজে এসবের আলাদা গুরুত্ব ও তাত্পর্য আছে। শুধু ‘শক্তিমান’ সরকারের জন্যই এ দাওয়াই নয়, আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও এর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা দেখা যায়।
আমাদের সমাজে অশিষ্ট, বেয়াদব, ঘাড়ত্যাড়া, উদ্ধতদের বাগে আনতে, ঘাড় সোজা করতে লাঠিপেটা বা মাইর মহৌষধ হিসেবে কাজ করেছে। পারিবারিক জীবনে একেবারে শিশু অবস্থা থেকেই মাইরের চর্চা শুরু হয়। মাইরের ভয়েই শিশুরা বাবা-মায়ের অবাধ্য হয় না। মাইর যদি না থাকত, তাহলে অধিকাংশ শিশুই হয়তো বখে যেত। আমাদের সনাতন রীতির শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলে শিক্ষকরা বেতিয়ে তথা মাইরের সাহায্যেই ‘গাধা’ ছাত্রকে ‘মানুষ’ করার দায়িত্ব পালন করতেন!
কুকুর-বেড়াল থেকে শুরু করে যে কোনো অবাধ্যকেই ডাণ্ডা বা মাইরের সাহায্যে উচিত শিক্ষা দেয়ার কাজটি করা হয়। কি পারিবারিক জীবনে, কি সামাজিক জীবনে যে কোনো অপরাধের শাস্তি দেয়া হয় ডাণ্ডা বা লাঠিপেটার মাধ্যমে। মাইরের ওপরে সত্যিই কোনো ওষুধ নেই। মাইরের চোটে ঠাণ্ডা বা সোজা হয়নি, এমন উদাহরণ বড় বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে না। মাইর একাধারে অপরাধী, অশিষ্ট, পাগল, ভূত—সবাইকেই শান্ত বানিয়ে ফেলে। আমাদের সমাজে যতটুকু যা শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা তা সম্ভবত ওই লাঠি, ডাণ্ডা বা মাইরেরই অবদান! অপরাধীদের কথাই ধরা যাক। রিমান্ডে না নিলে অর্থাত্ না প্যাঁদালে কারও পেট থেকে কোনো তথ্য বের হয় না।
কোনো গুরুতর অভিযোগে কাউকে আটক করুন, এরপর বাবা-সোনা বলে, গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করুন, সেই ওই কর্মটি করেছে কি না, নিশ্চিতভাবেই সে তা অস্বীকার করবে। অথচ তাকে আচ্ছামতো পেঁদিয়ে তারপর জেরা করুন, সে যা করেছে তা তো স্বীকার করবেই; এমনকি যা করেনি তাও সুবোধ বালকের মতো কবুল করবে। এই ‘ডাণ্ডা-অস্ত্র’ প্রয়োগ করে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কত না অসাধ্য সাধন করছে। এ প্রসঙ্গে জজ মিয়া নামে এক যুবককে আটক ও রিমান্ডের ঘটনাটি উল্লেখ করা যায়। খালেদা জিয়ার শাসনামলে পুলিশি-ডাণ্ডা জজ মিয়া নামে এক অখ্যাত ব্যক্তিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার নায়কে পরিণত করেছিল!
আসলে মাইরের একটি আলাদা শক্তি আছে। এর মাধ্যমে অবশ্যম্ভাবী ঘটনাকে যেমন ভেস্তে দেয়া যায়, ঠিক তেমনি অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তবে ডাণ্ডাতন্ত্র নিয়ে একটাই শুধু ভয়, বিজ্ঞানী নিউটন সাহেবের পদার্থ বিজ্ঞানের সেই যুগান্তকারী সূত্র: ‘প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।’ এ সূত্রের অন্তর্নিহিত তাত্পর্য নিয়েই যতটুকু যা শঙ্কা। এখনকার এই ডাণ্ডা, মাইর, লাঠিপেটা যদি কখনও দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসে তখন কী হবে? মাইর, শক্তি এবং ডাণ্ডা যারা ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটাই শুধু ভাবনার ব্যাপার! তবে হাতি খালে পড়লে নানা ধরনের উত্পাতের সম্মুখীন হতে হয়। আপাতত রনি সাহেবকেও নানা ধরনের ঝামেলার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শক্তি প্রয়োগ করেও তিনি সুখে নেই। খবর বেরিয়েছে, গোলাম মওলা রনির অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নামতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন। রনি নির্বাচনের আগে তার যে সম্পদের হিসেব দিয়েছিল আর এখন তার কি পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার তুলনা করে যদি দেখা যায় রনি এই সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—আয়কর দেননি তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করবে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।
এতদিন অন্ধ-ঘুমিয়ে থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের এই জেগে উঠার ‘মতলব’ ছাড়া যেমন কোনো ‘মানে’ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, পাশাপাশি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিকদের রনি সাহেবের অফিসে যাওয়া, তাকে অনুসরণ করা, অন্যদিকে উত্তেজিত হয়ে রনি সাহেবের সাংবাদিকদের ধোলাই করা—এগুলোর কোনোটারই কোনো মাথামুণ্ডু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে, গোলাম মাওলা রনির একটা টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানা নেই। যদি থাকত তাহলে কি খেলাটাই না আমরা দেখতে পেতাম!
লেখক : কলামিস্ট