রাজনীতিতে নতুন ধারা :আস্তিক-নাস্তিক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছে নতুন ধারা আস্তিক না নাস্তিক। অর্থাত্ লোকটি কি নাস্তিক? যদি নাস্তিক হয় তাহলে তার কাছ থেকে দূরে থেকো, আর যদি আস্তিক হয় তাহলে তাকে সমর্থন করো। এই খেলা চলছে আমাদের রাজনীতিতে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, একজন বললেই যে লোকটি নাস্তিক হয়ে যাবে, আবার আস্তিক হয়ে যাবে এটা ঠিক নয়। এটা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন কে আস্তিক আর কে নাস্তিক। আলমগীর হোসেন ভালুকা, ময়মনসিংহ মুসলমানকে বিভক্তকরণের হাতিয়ার হিসাবে আস্তিক এবং নাস্তিক শব্দ ব্যবহার করা একটা কৌশলমাত্র। বাংলাদেশ অধ্যুষিত অধিষ্ঠিত এবং সম্ভাবনাময় সোনার দেশ। আস্তিক এবং নাস্তিক শব্দ দুটির বিচরণ এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধূম্রজালের মধ্যে ফেলে নিজেদের মধ্যে আত্মঘাতীমূলক ঘটনা ঘটিয়ে বিপরীত শক্তি ফায়দা লুটতে তত্পর হয়ে উঠেছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে। আমাদের দেশের জন্য আস্তিক ও নাস্তিক এ ধারা দেশের মেরুকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার ইঙ্গিত বহন করে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ঐক্যবদ্ধ সমঝোতার প্রয়োজন, প্রয়োজন রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সচেতনতা। মন্জু খন্দকার চুয়াডাঙ্গা বর্তমান রাজনীতিতে আস্তিক ও নাস্তিক ধারণার সূত্রপাত সংবিধানের সংশোধনীতে মহান আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দেয়ার মাধ্যমেই আস্তিক ও নাস্তিক ধারণার সূত্রপাত। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগে সাম্প্রদায়িকতার দোহাই কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন বিস্ময়কর পরিস্থিতির প্রশমনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী রাজনীতিতে ধর্মের স্থান খুব বড় না করে দেখাই ভাল। মানুষ তার কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মানুষ ধর্ম এনেছে মানুষের কল্যাণের জন্যই। সেই রাষ্ট্রের সাথে ধর্মের একটি অপরিহার্য সম্পর্ক সৃষ্টি করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা মানুষের জন্য শুভ নয়। আমরা মনে করি বিজ্ঞানের উত্কর্ষের যুগে কোনভাবেই ধর্মের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়া যায় না। ধর্ম তার আপন গতিতে চলবে, মানুষ আস্তিক কি নাস্তিক রাষ্ট্রের কাছে এটা বিবেচ্য নয়। রাষ্ট্র চাইবে তার আপামর জনগণের কল্যাণ করতে। সভ্যতা আমাদের এতটুকু শিখিয়েছে যে, শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা আমরা ক্রমান্বয়ে উন্নতি করবো। বর্তমান বিশ্বের কেউ যদি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে সে অনেক পিছিয়ে পড়বে। তাই আমরা মনে করি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ধর্মের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পালন সাপেক্ষে রাষ্ট্রীয় কল্যাণ চিন্তা করবে। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। রাজনীতিতে যত নতুন ধারাই আসুক সংবিধানের বাইরে তা হতে পারে না। নাস্তিক না আস্তিক এই ধারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরাট ধস নেমে আসবে। এ ধারা সুস্থ বিবেকবান মানুষের অভিপ্রেত নয়। আশা এলিজাবেত গোমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০ রাজনীতিতে আস্তিক না নাস্তিক নামে যে বিষয়টি মানুষের মুখে মুখে তা রাজনীতিকে ধ্বংস করবে। যারা প্রার্থীকে আস্তিক বা নাস্তিক এমন কথা বলে তারা প্রার্থীকে ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে হেয় করে ফেলে, পরে এইসব ধর্মপ্রাণ মানুষ তাকে ভোট দেয়া থেকে দূরে থাকে। প্রকৃতপক্ষে লোকটা কতটুকু ভাল সে বিষয়টাই মুখ্য। জসিম উদ্দিন পুরান থানা, কিশোরগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক এই এন্টিবায়োটিক শ্লোগান এখন আর তেমন জনমনে সাড়া দেয় না বলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার হাই পাওয়ারের নতুন এন্টিবায়োটিক শ্লোগান আস্তিক না নাস্তিক। তবে আমাদের দেশের সচেতন জনগণ এখন আর সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী শ্লোগান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে কিংবা নব আবিষ্কৃত শ্লোগান আস্তিক আর নাস্তিকের ফাঁদে পা দেবে না। আমাদের জনগণ এখন রাজনৈতিক যতসব আবর্জনা সম্পূর্ণ দেশীয় হারবাল পদ্ধতিতে সরল পথে ধুয়ে-মুছে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সকল ধর্মের মর্মকথা সত্ভাবে জীবন-যাপন কর, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। নইলে ধ্বংস অনিবার্য। মো. লুত্ফুর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বাংলাদেশের মানুষ ধর্মান্ধ নয়, ধর্ম ভীরু, অথচ এক শ্রেণীর ধর্মান্ধ মৌলবাদী সহজ সরল স্পর্শকাতর আমাদের পবিত্র এবং শান্তির ধর্ম ইসলামকে পুঁজি বানিয়ে রাজনীতি করতে চায় কোমলমতি অবুঝ শিশু, মাদ্রাসার ছাত্র এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে নিয়ে। অথচ এই সেই চক্র যারা আমাদের সহজে মুক্তিযুদ্ধের সময় একই আওয়াজ তুলেছিল আস্তিক আর নাস্তিক বলে। ব্যবহার করেছিল পবিত্র ধর্মকে-বাঁচলে গাজী মরলে শহীদ। এই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষয় বর্ষণ ছড়িয়ে দিতে চায় তারা। যারা ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে গঠন করেছিল করেছিল রাজাকার, আলবদর, আলশামস, হত্যা করতে সহযোগিতা করেছিল ৩০ লক্ষ শহীদকে আর ৪ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত। আজ তারা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে নারীকে ব্যঙ্গ করে। তারা নারীদের ঘরে বসে রাখতে চায়। তারা আস্তিক আর নাস্তিকের দোহাই দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়। মুুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির প্রায় প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে রোজা রাখে, তাবলিগও করে। অথচ খবর নিয়ে দেখেন তাদের ছেলে মেয়েরা লন্ডন আমেরিকায় পড়ালেখা করে। চার সিটি নির্বাচনকে যারা হেফাজতি রাজনীতির সাথে দেখছেন তাদের বলবো ভুল। চার সিটি নির্বাচন পরাজয়ের কারণ- ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব ক্ষমতার মোহে অন্ধ। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে প্রধানমন্ত্রীকে তারা নাস্তিক বলেছেন তারা যদি খোঁজ নিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রোজা এশরাকের নামাজ, তাহাজ্জুতের নামাজ, আওয়া বিনের নামাজ এবং পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন। যারা আমার আল্লাহ রাসুল (সঃ) কে ব্যঙ্গ করবে তাদের বিচার নয় শুধু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কারণ আমাকে আল্লার কাছে যেতে হবে। আমাকে মরতে হবে এটাই সত্যি। তাই এই কল্প হেফাজত ইসলামের নয় প্রতিটি ধর্ম প্রাণ মুসলমানের কথা। এ. জেড. এম খাইরুল হুদা (রাসেল) ধুম সাহাদ্দী ফেনী শতকরা নব্বইভাগ মুসলমানের এদেশে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী লোকজনও দীর্ঘদিন থেকে অত্যন্ত শান্তিতে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। এদেশে নাস্তিক থাকলেও তাদেরকে কেউ ধর্মবিশ্বাসে বাধ্য করছেন না। কিন্তু কিছু কিছু নাস্তিক নামের ব্যক্তিবর্গ ধর্ম বিশ্বাসীদের বিশেষ করে মুসলমানদের সহ্যই করতে পারেন না। ইসলামের কথা বললেই গেল গেল বলে রব তোলে। ইসলামের কথা বললেই প্রতিক্রিয়াশীল বলে কটাক্ষ করতে দ্বিধা করে না। উক্ত নাস্তিক বা ধর্ম অবিশ্বাসীর তথা মুসলমানদের শত্রুরা নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করার জন্য পাগল হয়ে যায়, এমনকি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের কর্মকাণ্ডকে প্রগতিশীল এবং মুসলমানদের কর্মকাণ্ডকে জঙ্গি কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল বানানোর জন্য বিদেশি এজেন্সি নিয়ে বসে আছে। আসলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাকসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে আল কায়দা কিংবা তালেবান নামধারী কিছু বিদেশি এজেন্ট মুসলিম বিশ্বকে আজ তসনস করে দিচ্ছে। তেমনি আমাদের দেশেও নাস্তিক তথা বামপন্থি তথা প্রগতি নামধারীরা এদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়নক হয়ে কাজ করছে। তাই আজ তারা এদেশে প্রিয় নবী (সা.) কে কটাক্ষ করে পার পেয়ে যায়। আসলে তারা নাস্তিক নয়, তারা মুসলিম বিদ্বেষী। তাই এই আস্তিক নাস্তিক বিষয়টা এদেশের রাজনীতিকেও গ্রাস করেছে। শাহ্ আলম খান সরল বাশখালি, চট্টগ্রাম আস্তিক ও নাস্তিক পুরানো শব্দ কিন্তু হঠাত্ করে এ শব্দগুলোর ব্যবহার বেড়ে গেল কেন? নির্দ্বিধায় বলা যায় এর জন্য এ সরকারই দায়ী। কথিত ব্লগাররা যখন নবী-রাসুল সম্পর্কে আপত্তিকর কথাবার্তা লেখা শুরু করলো এবং তার পৃষ্ঠাপোষকতা করলো গণজাগরণ মঞ্চ। সরকারের পক্ষ থেকে যখন এ ব্যাপারে আশানুরূপ পদক্ষেপ নেয়া হলো না তখন ব্লগাররা আরও উত্সাহিত হতে থাকলো। এই ব্লগারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করলো একমাত্র হেফাজতে ইসলাম। শুরু হলো হেফাজতে ইসলাম এবং গণজাগরণ-এর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। তার পরের ঘটনা আমরা সবাই জানি। রাজনীতিতে তৈরি হলো নতুন ধারা আস্তিক-নাস্তিক। মূলত সরকারের গণজাগরণ মঞ্চকে প্রশ্রয় দেয়াটাকে মানুষ ভালভাবে নেয়নি। প্রথম থেকে সরকার এ বিষয়ে নজর দিলে আজকের এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যে এর প্রভাব পড়েছে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের উপর সরকারের নির্যাতন সাধারণ মানুষের মনকেও ছুঁয়ে গেছে। যতদিন পর্যন্ত না মানুষের স্মৃতি থেকে এটা মুছে না যাবে ততোদিন রাজনীতিতে এর প্রভাব থাকবে বলে মনে হয়। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আস্তিক-নাস্তিক এর এ ধারা বজায় থাকাটা কারোরই কাম্য হতে পারে না। মো. আবদুল্লাহ আল মামুন সারিয়াকান্দি, বগুড়া দেশে নতুন ধারার রাজনীতির আগমনে জনগণ এখন বড় দুঃশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে। সম্প্রতি বিরোধী দলীয় প্রধান নতুন ধারার রাজনীতি করা হবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটা আমাদের কাম্য নয়। বিএনপি জামায়াত জোট সব সময়ই তারা তাদের রাজনীতিতে পুঁজি করে সর্বস্বান্ত করে ফেলে দেশের সম্পদ। বিএনপি সরকার দেশে কতটুকু কি করেছে তা এদেশের জনগণ ভালো মতোই জানেন। সুতরাং রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ করলেই যে সব কিছু হয়ে যাবে তা নয়। আবদুল মালেক মিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মিরপুর, ঢাকা বিশ্বের কোন দেশেই রাজনীতিতে আস্তিক নাস্তিক বিষয় নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র নেই। জামায়াত-শিবির হেফাজত বাংলাদেশে আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টিকে রাজনীতিতে টেনে এনেছেন। এটা তাদের সুগভীর ষড়যন্ত্র। সৃষ্টিকর্তাকে যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশ্বাস করে না সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিচার করার ক্ষমতা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার। সুতরাং জামায়াত-শিবির হেফাজতের রাজনীতিতে নাস্তিকতার বিষয়টি টেনে এনে তাদের ষড়যন্ত্রকে সম্প্রসারিত করার চেষ্টা করেছেন। তাদেরই এই অপপ্রচেষ্টাকে নত্সাত করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশ তালেবানি রাষ্ট্রতে পরিণত হবে। এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। এখনই জাতিকে এ বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে। শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরো কালিহাতি, টাঙ্গাইল সরকারের বেপরোয়া দমননীতি হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মীদের সাথে সরকারের যুদ্ধংদেহী আচরণ, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নানা নাটক, হলমার্কের নামে সোনালী ব্যাংকের লুটপাট, পদ্মা সেতু দুর্নীতিসহ অসংখ্য অভিযোগের দায়ভার এখন সরকারকে বিব্রত করছে। সুতরাং রাজনীতিতে যে নতুন ধারার বাতাস বইছে সেটার সাথে তাল মিলিয়ে চলা বেশ কঠিন। জামান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী কবিরহাট, নোয়াখালী আর কয়েক মাস পরেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর পর নতুন সরকার। নতুন পরিবেশ ও পরিবর্তনশীল রাজনীতিতে আসবে নতুন সূর্যের উদয়। সৈয়দা পারভীন সুলতানা ঝিনাইদহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরিণ সংকট মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোকেই সমাধানের পথ খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অলপার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের কো চেয়ার লর্ড এভুরি। সুতরাং রাজনীতিতে নতুন ধারা বিরাজমান। সেটাকে অচিরেই আস্থাভাজনের দিকে নিয়ে আসতে হবে। নাসরিন সুলতানা স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ মুসলিম দেশ। আর এই মুসলিম দেশের মধ্যে এখন রাজনৈতিক ধারা আস্তিক-নাস্তিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল একটি বিষয়। মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু মহাখালী, ঢাকা এদেশের রাজনীতিতে যে নতুন ধারায় আবর্তিত আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন নিয়ে যত কল্পনা আর উদ্যম ও উদ্যোগের সূচনা সবই কিন্তু এখন আস্তিক ও নাস্তিকের ওপরই। ৫টি সিটি নির্বাচনে বিপুল জয়ের এটা প্রমাণ রেখেছে। শিশির পিলখানা, ঢাকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসেছে নুতন ধারা আস্তিক না নাস্তিক। এই অবস্থাটিকে আমি সম্পূর্ণভাবে নেতিবাচক মনে করছি। রনি নয়াপল্টন, ঢাকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নতুন ইস্যু আস্তিক ও নাস্তিক বিষয়টি অভিপ্রেত বলে আমি মনে করি না। বকুল মতিঝিল, ঢাকা নতুন ধারা পুরান ধারা রাজনীতি বুঝি না, একটাই কথা বুঝি আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের যে আদর্শ রাজনীতির ধারা আছে সেটাই বাংলাদেশে উন্নত রাজনীতির ধারা। সেটাই আমি বুঝি। মো. আবদুল করিম লালবাগ, ঢাকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে তারা নতুনভাবে নতুন ধারার সরকার গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। ৫টি সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর বিএনপি এখন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে যথেষ্ট আশাবাদী। সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে বিরোধী দলের প্রতি সহনশীল ও নমনীয় মনোভাব প্রদানের কথা ভাবছে। বিরোধী দলকে আস্থায় রেখে তাদের সংসদ বর্জন থেকে বিরত রাখা হবে। এবং সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। এই বিষয়গুলোর সাথে আমি আমার মত পোষণ করছি। রিমন মধ্য চালাকচর, নরসিংদী ভাবতে অবাক লাগে রাজনীতিতে এখন আস্তিক-নাস্তিক এসে গেছে। এটা বড় দুর্ভাগ্যজনক আমাদের জন্য। কয়েকটি সংগঠন এটাকে আজ জড়িয়ে ফেলেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আইরিন সুলতানা মঞ্জু ধুপপুর, মাইজপাড়া আমি মনে করি নতুন ধারা রাজনীতি এবং পুরনো ধারার রাজনীতি এসব কিছু নয়। ধারা থাকতে হবে দেশপ্রেম। মানুষের সেবা করা, এমপি হলেই যে সাংবাদিকদের পেটাতে হবে তা নয়, তাদেরকে কাছে নিয়ে এসে ভালোবাসতে হবে সাংবাদিকদের পেটালে চলবে না। নিজেদের স্বার্থকে ছোট করে দেশের স্বার্থেকে বড় করা। আমি মনে করি, এটাই রাজনীতি ধারা। বড় দু’ দল কি এটা করতে পারবে? সেটাই আমার প্রশ্ন। সৈয়দ হায়দার আলী মহাখালী, ঢাকা দেশে এখন দু’ধারা রাজনীতি চলছে আস্তিক ও নাস্তিক। কিন্তু সুস্থধারার রাজনীতির জন্য একটি সুন্দর সুস্থ পরিবেশের দরকার বলে আমি মনে করি। সোহাগ ভাগলপুর, নবাবগঞ্জ, ঢাকা আমরা মনে করি দশম সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ করতে সরকার ও বিরোধী দলের সংলাপের বিকল্প নেই। বিরোধী দলের দাবি নিরপেক্ষ সরকার। আলোচনায় বসে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য সরকারের রূপ রেখা প্রণয়ন অসম্ভব কিছু নয়। বিরোধী দলীয় নেত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে সরকারকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা মনে করি সেটাই মূল কথা। আস্তিক নাস্তিক কোন বিষয় নয়। লাড্লা পিলখানা, ঢাকা আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকেই বাংলাদেশের রাজনীতির ধারা মনে করি। আমরা আর কোন ধারা বিশ্বাস করি না। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক যে ধারা সেই ধারাতেই দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবো। মো. কামরুল লালবাগ, ঢাকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা আস্তিক না নাস্তিক, এটা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। এই ধারাটির মাধ্যমে সরলমনা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে বিশেষ অনুভূতি সৃষ্টি বা কোন বিশেষ রাজনীতিক দলের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে এক প্রকার ধর্মান্ধ স্বার্থপর গোষ্ঠী। আসলে তারা যাদেরকে নাস্তিকদের সহায়ক বলে মনে করছে এদেশে তাদের দ্বারাই ইসলাম ধর্মের খেদমত বেশি হচ্ছে। মূলতঃ তারা আস্তিক আর নাস্তিক এর অর্থই বুঝে না। মো. আনোয়ার হোসেন কালিয়াকৈর, গাজীপুর রাজনীতিতে নতুন চমক, নতুন ধারা আস্তিক না নাস্তিক এই দুটোই এখন সবচেয়ে আলোচনায় আসছে। এই অবস্থাটিকে অভিপ্রেত মনে করছি। খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাই বলছেন জনমত একেবারেই সরকারের বিপক্ষে। রিফতে ঝিনাইদহ দেশের রাজনীতি নতুন ধারা আস্তিক বা নাস্তিক সেটাই হোক না কেন একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা একান্ত উচিত। এম এম কে এ রাজা মতিঝিল, ঢাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে সঠিকভাবে অনর্থক সংঘাতে কোন লাভ নেই। তাতে শুধু সংকট সৃষ্টি হয়। সুতরাং রাজনীতিতে নতুন ধারা যে আস্তিক না নাস্তিক বিষয় কথা উঠেছে সেটাকে সঠিকভাবে নির্ণয় করা দরকার। ফারুক আলম মালিবাগ, ঢাকা বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। রাজনীতিতে নতুন ধারায় যে আস্তিক বা নাস্তিক বিতর্ক শুরু হয়েছে তাতে করে সঠিক তথ্য নিরূপণ করা সম্ভব নয়। নিলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর বিশ্বাস ও অবিশ্বাস দুটো শব্দই ভিন্নতর। এখন রাজনীতিতে আস্তিক বা নাস্তিক বলে যে সুর উঠেছে সেটাকে এখন ভর করেছে কঠিনভাবে। তাছাড়া সঠিক সংজ্ঞার জন্য সবাইকে বুঝতে হবে ও সেটার জন্য ভাবতে হবে। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ মিরপুর, ঢাকা যে দেশের ৯০% মুসলমান সে দেশে আর্থিক অবস্থান থেকে অভিপ্রেত বলে মনে করি। আসাদুজ্জামান উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা ১২০৪ রাজনীতির নতুন ধারায় আসছে বলে এ দেশের মানুষ সঠিক চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিন আগে বিরোধী দলীয় নেত্রী ইফতার মাহফিলে নতুন ধারা সরকার গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে। তারা বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় না গিয়েও এখন যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে লড়াই করছে, রাজাকার নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আর এই লড়াইয়ে মরণঘাতী হয়ে উঠছে জনগণ। হচ্ছে সর্বশান্ত। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এদেশের জনগণকে কি দিয়েছিল জনগণ এখন ভুলে গেল নাকি। ফারুক আহম্মেদ বাগমারা, রাজশাহী রাজনীতিতে আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টির বিশেষ করে ষাটের দশকে ক্রিয়া-বিক্রিয়া শুরু হয়। তারপরেও চর্চাটিতে রাখ-ঢাক ছিলো। মার্কিনীরা কমিউনিজম ব্লককে রুখে দিতে, নাস্তিকের বিপরীতে আস্তিকদেরকে ব্যবহার করে তাদের সাম্রাজ্যবাদী কূট কৌশলটি কাজে লাগায়, বিশ্ব মোড়লের ভূমিকার নামে। ইতিমধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পড়েছে। দৃশ্যপট পাল্টেছে মার্কিনীদের কাছে নাস্তিক বিষয়টি মরে পচে ভূত হয়েছে। আস্তিক বিষয়টি হয়েছে তাদের জন্য পথের কাঁটা। এই যখন অবস্থা তখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টি জাতি বিভাজনের নিয়ামক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। একক পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃপা আর দয়া পেতে, আমাদের দেশের রাজনীতিকরা নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছে। মজার কথা এদেশের বাম রাজনীতিকরা কিছুদিন আগেও যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শত্রু জ্ঞানে বিবেচনা করতো, সেই রাজনীতিকরাই এখন মার্কিনীদের কোলে উঠার ম্যারাথন দৌড় শুরু করেছে বাংলাদেশের নিবিড় বুননে সমাজ ব্যবস্থাকে শব ব্যবচ্ছেদ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এরই পথ ধরে দেশে আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। ধুরন্ধর রাজনীতিকরা, অপরদিকে সাম্রাজ্যবাদী ইঙ্গ-মার্কিনীরা এদেশের ধর্মীয় অনুশীলন ও অনুশাসনে অভ্যস্ত নিবিড় সামাজিক বুননে ফাটল ধরাতে কিছুটা হলেও সক্ষম হয়েছে। বামদের কাছে ধর্ম যেখানে আফিম ছিলো, আর সেই ধর্ম উচ্ছেদে মার্কিনীরা উঠে পড়ে লেগেছে, শত্রুর শত্রু জ্ঞান করে, ধর্ম বিদ্বেষীরা নাস্তিক নামের ঘোমটা খুলে উদ্বাহু নৃত্য শুরু করায়, আলেম সমাজ ও ধর্মদরদীরা ধর্মরক্ষায় মাঠে নেমেছে। সংঘাতময় পরিস্থিতিও তেতে উঠেছে। “আস্তিক-নাস্তিক যার যার, রাজনীতি সবার” এই আলোকে রাজনীতিতে আস্তিক-নাস্তিক প্রসঙ্গটি অভিপ্রেত বা অভীষ্ট হতে পারে না। তথাপিও এদেশের এক শ্রেণির রাজনীতিকরা আস্তিক-নাস্তিক বিষয়টি কাজে লাগিয়ে, মৌলবাদ, জঙ্গীবাদদের জিগির তুলে দেশকে অকার্যকর করে হলেও, রাজনীতি করে ঘর শত্রু বিভীষণের ভুমিকায় নামতে দেখা যাচ্ছে। সর্বোপরি রাজনীতিতে আস্তিক-নাস্তিক প্রসঙ্গটি অভিপ্রেত হতে পারে না। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর আস্তিক আর নাস্তিক বিষয়টি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু এনিয়ে আগে কখনো এতো মাতামাতি ছিল না। শাহাবাগীদের জন্মের পরেই এটি মাথা চড়া দিয়েছে বেশি। বর্তমানে এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্রলীগের কিছু ছেলে-পেলেকে ঘিরে শাহবাগের উত্থন শুরু হলো। সেখানে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মিশে ফেলেছে। যার কুফল শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনই নয় পুরো জাতিকে ভোগ করতে হচ্ছে। আস্তিক আর নাস্তিকরা বর্তমানে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করতে হবে। বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোকে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকতে হবে। আস্তিকদেরকেও কথায় কথায় নাস্তিক বলা বা উপমা দেয়া বন্ধ করতে হবে। তা না হলে এক সময় এটি শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না পুরো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নিবে। তখন এর থেকে আমরা কেউই রেহাই পাবো না। জসিম মজুমদার পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা এ অবস্থাটি অপ্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক এবং অনভিপ্রেত কিন্তু এর জন্য দায়ি আমাদের অপরাজনীতি , হীন ব্যক্তি স্বার্থ ও কিছু অপশক্তির ইন্ধন। আমাদের আমজনতা ধর্মপ্রাণ , গণতান্ত্রিক এবং সর্বাত্মক ভাবে আস্তিক। তারা সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস ও প্রিয়নবীর (সাঃ) সম্মানের প্রতি আস্থায় শতভাগ অনড়। কিন্তু ধর্মের নামে রাজনীতি বা রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। প্রিয়নবী (সাঃ) রাজনীতিকে ব্যবহার করেছেন ধর্মের প্রয়োজনে কিন্তু বর্তমানে ধর্মকে টানা হয় রাজনীতির প্রয়োজনে, এখানেই আসল সমস্যা। আমজনতা কখনো মিথ্যা-বিভ্রান্তির ওপর একমত হতে পারে না এবং এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। তবে অনেক সুস্থ-স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি বা সামষ্টিক উত্থান আলোর মুখ না দেখলেই তা ভুল বা ব্যর্থ বলা যায় না। দেশ-দুনিয়ার অনেক জনজিজ্ঞসার জাগরণ তাত্ক্ষণিক ফলাফলে না পৌঁছালেও তা মিথ্যে হয়ে যায়নি। আবার কখনো কখনো বিশ্বাস ও বাস্তবতার দ্বৈত সত্তায় একসঙ্গে একাধিক বিষয়ের সত্যতাও সম্ভব হয়ে ওঠে। যেমন একদিকে স্বাধীনতার সপক্ষে তারুণ্যের অভূতপূর্ব জাগরণ অন্যদিকে ঈমানী অঙ্গীকার ও নবীপ্রেমের আধ্যাত্ম উন্মেষ, এর সবই আমাদের জাতীয় চেতনার প্রকাশ। মানবিক সাম্য, সামাজিক শান্তি-ন্যায়বিচার , সমঅধিকার , সুষম বণ্টন ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস তথা স্বীকৃতি ইসলামের বিঘোষিত অঙ্গীকার। আর তা রক্ষা করা মহান আল্লাহ্র আদেশ ও প্রিয়নবী (সাঃ) এর আদর্শ। কোন হঠকারিতা, অশান্তি, বৈষম্য, বঞ্চনা ইসলামের শিক্ষা নয় বরং নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার একটি Submissive (আত্মসমর্পিত-অনুগত) সমাজ বিনির্মাণ ইসলামের প্রাত্যহিক চেতনা। তাই মহান আল্লাহ্ জানিয়ে দিয়েছেন, (হে রাসুল : বলুন) “তোমাদের কমের্র ফল শুধু তোমাদের ,আমার কর্মের ফল আমারই নিজের” To you be your way, And to me mine : ‘লাকুম দ্বীনুকুম্ ওয়ালিয়া দ্বীন’। সুতরাং শুধুই ভুল ও ভোটের হিসেবি বিড়ম্বনায় তৈরি রাজনীতিতে নতুন ধারা: ‘আস্তিক না নাস্তিক’ একটি ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক বিভক্তি ! যা বিবেকবান মানুষের অপছন্দনীয় বিষয়। আর আমাদের দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ , গণতান্ত্রিক এবং অবশ্যই আস্তিক। অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ কাপাসিয়া গাজীপুর-১৭৩০ আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার?” এই মতবাদে রাষ্ট্রপরিচালনা এযাবত্কালের মধ্যে সর্বোত্কৃষ্ট পন্থা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু কার্ল মার্ক্সের সূত্রানুযায়ী ফিউডালিজম স্তরে যে সকল দেশ আছে, সে সকল দেশের রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়কগণ উল্লিখিত মতবাদে নিজেদের স্বার্থেই বিশ্বাসী নয়। অপরদিকে এই মতবাদকে দু’পায়ে ঠেলে ধর্মকে পুঁজি করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় জোর-জবরদস্তি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে খ্যাত সামরিক জান্তা ভন্ড তপস্বি সেজে ধর্মকে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের সিদ্ধিলাভে সচেষ্ট থাকে। আমাদের দেশেও তার ব্যত্যয় লক্ষ করা যায়নি। ১৯৭৫-এ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সামরিক শাসনের সময়ে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীরা রাষ্ট্রীয় সাহায্য-সহযোগিতায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। এমনকি কালপরিক্রমায় যে দেশ তারা মনে-প্রাণে চায়নি সে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পর্যন্ত অধিষ্ঠিত হয়ে সেই দেশের পতাকা উড়িয়ে ঘুরতে লাগল। কিন্তু জনগণ তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে স্বাধীনতার সপক্ষ দলকে ক্ষমতায় এনে আমাদের মহান স্বাধীনতা বিরোধীদের কৃতকর্মের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালো। কিন্তু ততদিনে তারা সঙ্গত কারণে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বলীয়ান না হয়েও অর্থনৈতিক এবং আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকাশচুম্বি বলীয়ান হয়ে জনগণের ঘাড়ে পুনরায় সওয়ার হলো। ফলে অনেকেই তাদের অর্থকৃপামুখি হয়ে জাগতিক লাভে পুনরায় দেশ ও দশের সর্বনাশে মেতে উঠলো। তারই বিষবাষ্প হিসেবে আস্তিক ও নাস্তিক মতবাদ অত্যন্ত সচতুরতার সাথে তারা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে অভূতপূর্ব সফলতার সাথে সক্ষম হলো। বিশেষ করে চিহ্নিত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের আন্তর্জাতিক প্রথানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের দাবিতে নতুন প্রজম্ম মাথাচাড়া দিয়ে উঠার সাথে সাথে তাদেরকে নাস্তিক আখ্যায়িত করে সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমে পড়লো, এমনকি তাদের কাউকে খুন করতেও দ্বিধাবোধ করল না। সেই অগ্নিতে ঘৃতাহুতি দিল হেফাজতে ইসলাম নামে অরাজনৈতিক একটি ধর্মীয় সংগঠন, যাদের প্রতি সামাজিক ভাবে সাধারণ মানুষের ভক্তি-শ্রদ্ধা আছে। ফলে আজ আমরা বাঙালিরা আস্তিক ও নাস্তিক নামক নতুন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছি, যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ থেকে পরিত্রাণ না পেলে জাতি হিসেবে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের খেসারত দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। অবশ্য ইতিমধ্যে খেসারত দিতে শুরু করেছিও বটে। তাই আসুন ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ মতাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতিকে রক্ষায় আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি। ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জি ৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩