প্রতিভার আলোয়
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০১৩, ১৬:৫৫
লেখালেখিকে ঘিরেই তার স্বপ্ন ছেলেবেলা থেকে। বাবার উপহার দেওয়া ডায়েরিতেই প্রথম যা লিখেছিলেন, সেটা সাহিত্যের বিচারে মান না পেরোলেও তা তাকে লেখালেখির জগতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। নাইস নূর এই সময়ের একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক। শুধু লেখকই নন; একইসাথে একজন নাট্যকার, সাংবাদিক ও ছড়াকার তিনি। তার সৃষ্টির আলোয় অজস্র তরুণ-তরুণী নতুন করে স্বপ্ন দেখে প্রতিদিন, তার লেখায় ছড়ায় নাটকে যেন তারুণ্যেরই প্রতিচ্ছবি। তরুণ এই
তুর্কীর সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন
সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
গল্প লেখার থেকে বানিয়ে গল্প বলার ঝোঁকটা অনেক বেশি ছিল তার, তাই লেখা হতো বেশি ছড়া ও কবিতা। ২০০৩ সালে ‘স্মৃতির তরঙ্গ’ নামে একটা ম্যাগাজিনে তার প্রথম ছড়া প্রকাশিত হয়। অবশ্য লেখালেখির শুরুটা তার খুব ছোটবেলা থেকে। ক্লাস টু-তে বাবার দেওয়া ডায়েরিতে প্রথম গল্প লেখা। এ সময় রংপুরের স্থানীয় যুগের আলো পত্রিকায় শিশু-কিশোরদের বিভাগ অংকুর মেলা বিভাগের সদস্য হন। এরপর থেকে নিয়মিত লেখালেখি শুরু সব স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাগুলোতে। আর সেই সুবাদে ছোটদের কাছে কিছুটা পরিচিতিও পেয়ে যান নাইস নূর। তার পরিবার থেকে তো বটেই, শিক্ষক আর পাঠকরাও অনুপ্রেরণা দেন তাকে সব সময়।
নাইস জানান, একজন লেখক কখনও প্রাপ্তির কথা ভেবে লেখেন না। লেখার আনন্দের তুলনা চলে সৃষ্টির আনন্দের সাথেই কেবল। আর সেই সৃজনশীলতার আনন্দটুকুই যে বড় দুর্লভ! এর বাইরেও কিছু স্বীকৃতি রয়েছে, যা নাইসকে অনুপ্রেরণা দেয় প্রতিমুহূর্তে। কবি আল মাহমুদ তাকে নিয়ে দুটি কবিতা লিখেছে। কবিতাগুলো হলো ‘গৃহলতা’ ও ‘কাজলরেখা’। কম বয়সী নাট্যকার হিসেবে বিটিভিতে নিজের লেখা নাটক প্রচার হয়েছে। শিশু পাঠকরা যখন তাকে নাইস নূর বলে ডাকে, তখনও প্রাপ্তির এক অনাবিল আনন্দ অনুভব করেন তিনি। এ ছাড়াও লেখালেখি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অনেক পুরস্কারও অর্জন করেছেন তিনি। তার প্রকাশিত চারটি বই হলো ‘মেঠো পথে একদিন’ (কবিতার বই ), না ছোঁয়ার স্পর্শ (বড়দের গল্পের বই), শুণ্ড ভূতের পাঁচকন্যা (ছোটদের গল্পের বই), কার্টুনের দেশে মনিকা (ছোটদের গল্পের বই)। বর্তমানে ইংরেজি ও বাংলা পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত লিখছেন ফিচার, গল্প, ইংরেজি ও বাংলা কবিতা। বেশ কয়েকটি নাটকও নির্মিত হয়েছে তার কাহিনী অবলম্বনে। আর এর সবকিছুতেই তিনি অনুভব করেন নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরার তাগিদ।
বর্তমানের ব্যস্ততার কথা বলতে গিয়ে নাইস নূর বলেন, ‘ঈদের নাটক লিখলাম। ফিচার ফিল্ম লিখছি। এর বাইরে গল্প কবিতা তো লিখছিই। সামনের বইমেলার জন্য বই লিখছি। এবার অনুবাদ বইও লিখছি, নিজের বইয়ের পাশাপাশি। তবে নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখা নিয়েই ব্যস্ততা বেশি।’
প্রতিশ্রুতিশীল এই তরুণীর জন্ম ১ নভেম্বর, ১৯৮৮ সালে, কুড়িগ্রামে নানাবাড়িতে। শৈশব কেটেছে অনেক জায়গায়, অনেক স্কুলে পড়েছেন। খুবই দুরন্ত ছিলেন শৈশবে, তবে সময়মতো আবার চুপচাপও হয়ে যেতেন। কৈশোর কেটেছে ঢাকা ও রংপুরে। বাবা এসএম নূরন্নবী, মা জান্নাতুল ফেরদৌস, এক ভাই তুহিন ও বোন নিসাকে নিয়ে তার পরিবার।
নাইস নূর ভবিষ্যতে বই, নাটক লেখার পাশাপাশি চলচ্চিত্র নিয়েও কাজ করতে চান। নিজের স্বপ্নের কথা জানালেন তিনি—স্বপ্ন যদি আকাশছোঁয়া হয়, তিনি তা ছুঁতে চান না, সারাজীবন মেঘ হয়েই ভাসতে চান। সমাজ সেবামূলক কাজ করার আগ্রহ আছে তার। উচ্চশিক্ষা অর্জন করার আগ্রহটাও বেশ প্রবল। আর তাই এত সবকিছুর মাঝে পড়াশোনাটা তার চলছে সমান তালে।