শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত

শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরই পারে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে রাজনীতি ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। একটি বিঘ্ন তো আরেকটি মন্থর। অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া যেমন গণতন্ত্র আসতে পারে না, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া তেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন আসবে না। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ব্যবস্থার পূর্বশর্ত হল জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। আর এর জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের গলা চিপে ধরে ক্ষমতায় থাকতে চায়। ফলে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। যেমন ১৯৯৬ সাল এবং বর্তমানের মধ্যে তেমন পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। বিশৃঙ্খলা মানে হরতাল, মারামারি, ভাঙচুর ইত্যাদি যা প্রতিদিন গড়ে দেশের ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তাই আম জনতা হিসেবে সরকারি ও বিরোধীদলকে করজোড়ে বলছি, আপনারা ক্ষমতায় থাকা ও আসা নিয়ে দ্বন্দ্ব না করে গণতন্ত্রে ফিরে আসুন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বাঁচান। দেশকে ধ্বংসের দিকে না দিয়ে মালয়েশিয়ার মত উন্নয়নের কথা ভাবুন। মিসা রহমান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশ ও জনগণের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয়ই ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে বেশি ব্যস্ত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্ত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত ঃ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলে অর্থনীতির চাকা বেগবান হবে, দেশ এবং জাতি একটি অশনি সংকেত থেকে বেঁচে যাবে। ক্ষমতার পালাবদল করতে গিয়ে আমাদের মত দেশে যে নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা সৃষ্টি হয় তা কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশের কাম্য নয়। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃংখলা বজায় রেখে জনগণের জীবনমানের উন্নতি সাধন করা। তবে এক্ষেত্রে হরতাল, অবরোধ ও বিভিন্ন আন্দোলন অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। এই আন্দোলনগুলোর বেশিরভাগ হয়ে থাকে ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে। ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত তারা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে সংবিধানকে নানাভাবে সংযোজন ও বিয়োজন করে নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে চায়। আবার বিরোধীদলগুলো বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজের মাধ্যমে অর্থনীতির চরম ক্ষতি সত্ত্বেও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে চান। সরকারি ও বিরোধীদলের এমন বিপরীতমুখী আচরণের কারণে একটি দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে সরকারি ও বিরোধীদল উভয়ই ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে বেশি ব্যস্ত। আর এর ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং বিনিয়োগ ব্যাহত হয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চরম অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করে। শামীম সরকার অর্থনীতি বিভাগ, মনোহরদী ডিগ্রি কলেজ, মনোহরদী, নরসিংদী রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেমই হল শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত বলা হলেও রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেমই হল শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্যতম উপায়। আমাদের রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম নির্ভর করে ক্ষমতা পাওয়া না পাওয়ার ওপর। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যতটুকু দেশপ্রেম দেখানো দরকার ততটুকুই রাজনীতিবিদরা দেখিয়ে থাকেন। এর বেশি কানাকড়িও পাওয়া ভার। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য নতুন প্রথা আমদানি করার প্রয়োজন নেই। আমাদের দেখতে হবে সমস্যাটি কোথায়। তবেই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক উন্নতি দুটোই সম্ভব। লিমন হাসান মোহাম্মদপুর মডেল কলেজ, ঢাকা জনগণের রায়কে মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হলেও এদেশে ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এক সংঘাতময় পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায় নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী অংশে। এই সংঘাতের বলি হিসেবে প্রতিবারই অনেক মায়ের কোল খালি হচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্রের এই যুগে বাংলাদেশের মত স্বাধীন দেশে যা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে অর্জন করা হয়েছে, সেই দেশে এই অগণতান্ত্রিক সংঘাতময় পরিস্থিতির কোন মানে হয় না। জনগণ এখন অবুঝ নয়, তারা দেখছে কারা দেশকে ভালো রাখছে, কারা কথা দিয়ে কথা রাখে না, কারা জনগণের টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠাচ্ছে, কারা দুর্নীতি করছে। তাই জনগণ বুঝেই তার রায় দিবে সঠিক স্থানে এটাই কাম্য। কিন্তু পূর্বে জনগণকে ভয় ও লোভ দেখিয়ে রায় ঠিক স্থানে দিতে দিত না, এখন সে অবস্থা পাল্টিয়েছে মিডিয়া ও সচেতনতার দ্বারা। তাই জনগণ যাতে ঠিকমত রায় দিতে পারে এবং এই রায় মেনে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরই দেশ ও জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এনে দিবে এটাই সকলের কাম্য । আপন মাহমুদ বাংলা বিভাগ, মাস্টার্স, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়