ছাত্রলীগ শূন্য রাবির হলগুলো
অর্ধশত জ্যেষ্ঠ নেতার ক্যাম্পাস ত্যাগ
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৮
বিতর্কিত ও অপেক্ষাকৃত সক্রিয় নন এমন নেতাকে সভাপতি করায় ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখার নেতা-কর্মীরা ইতিমধ্যে অনাস্থা প্রকাশ করে সাবেক কমিটির অধিকাংশ নেতা সংগঠন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে রাজাকার, আলবদর এর নাতিকে সভাপতি আর নিজদলের কর্মী হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামিকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করায় নবগঠিত কমিটিকে মেনে নিতে পারছে না নেতা-কর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের ২৪তম সম্মেলনে গত শনিবার রাতে মিজানুর রহমান রানাকে সভাপতি ও তৌহিদ আল তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে এই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত এই কমিটি ঘোষণার পর সাবেক কমিটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী ও সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী অনেকের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে। যারা অনেকদিন ধরে রাজনীতি করছেন এবং সদ্য মাস্টার্স পাস করা অনেক নেতা-কর্মীই ক্যাম্পাস ত্যাগ করছেন। নেতৃত্ব মানতে না পারায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে আবার আবাসিক হলও ত্যাগ করেছেন। ক্ষোভ আর হতাশায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তি দেখা দেয়ায় ছাত্রলীগ চরম নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে।
ইতোমধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি এবং সভাপতি পদ প্রত্যাশী ইলিয়াস হোসেন, খালিদ হাসান নয়ন, শরীফুল ইসলাম, মাসুদ রানা, সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম রুবেল, ফিরোজ মাহমুদসহ অন্তত অর্ধশত জ্যেষ্ঠ নেতা।
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল হক জাকির বলেন, রাজনীতি খারাপ লোকদের হাতে। ভাল লোক, সংগঠনদরদী নেতাদের আর সংগঠনের দায়িত্ব দেয়া হয় না। এই দেশে যতদিন ঢাকসু, রাকসু চালু হবে না ততদিন প্রকৃত রাজনীতি আর হবে না।
গত ২০ জুলাই নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার পর গত বুধবারের মধ্যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নেতার অভাবে শুক্রবার পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রস্তাব করা সম্ভব হয়নি বলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন। অপরদিকে শের-ই-বাংলা হল সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু, বঙ্গবন্ধু হল সভাপতি আশীষ, মাদার বক্স হল সভাপতি জোবায়ের ইবনে তানিম হল ছেড়ে চলে যাওয়ায় হল শাখাগুলো নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী। আর আগের কমিটিতে তিনি উপ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ক্যাম্পাসে তার রাজনীতি গত দুই বছর চোখে পড়ার মতো ছিল না বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। গত ২০ জুলাই নতুন কমিটিতে তার পদ দেয়ায় তৃণমূল ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। তার নানা আব্দুস সাত্তার ওই উপজেলার তালিকাভুক্ত রাজাকার ছিলেন বলে ঐ সভাপতি মিজানুর রহমান রানা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার নানা সেই সময় পাকিস্তান পীচ কমিটির সদস্য ছিলেন আর তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। যার মধ্য একটি হত্যা মামলা, একটি ডাকাতি মামলা ও অপর দু’টি ইসলামী ছাত্র শিবিরের দায়ের করা রাজনৈতিক মামলা।
সদ্য সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপু বলেন, ‘আমাদের কথা বিবেচনা না করে কমিটি করা হয়েছে। জনপ্রিয়তা বিবেচনা না করে পদ দেয়ায় এখন সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, পদ না পাওয়ায় মন খারাপ থাকায় অনেকে নিষিক্রয় হয়ে পড়েছেন।