বাজার হারাচ্ছে আইফোন, এগিয়ে অ্যান্ড্রয়েড

স্মার্টফোনের বাজারে শুরু থেকেই রাজত্ব করে আসছে আইফোন নির্মাতা অ্যাপল। বলা যায় আইফোনের হাত ধরেই আধুনিক স্মার্টফোন যাত্রা শুরু করেছে প্রযুক্তি বিশ্বে। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের রাজত্বও ধরে রাখতে সমর্থ হয় অ্যাপল। তবে অ্যান্ড্রয়েডের আবির্ভাব স্মার্টফোনের বাজারে আইফোনের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপল শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে স্যামসাংসহ অন্যান্য নির্মাতাদের তৈরি সব স্মার্টফোনে। প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি’র সাম্প্রতিক এক গবেষণাতেও এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। তারা জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় চতুর্ভাগে (এপ্রিল-জুন) এসে অ্যাপল’র আইফোনের বাজার বিশ্বব্যাপী দাঁড়িয়েছে ১৩.১ শতাংশে। আর আরেক বাজার গবেষণা সংস্থা স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইটিকসের হিসেবে এই বাজার ১৩.৬ শতাংশ। স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইটিকের হিসাব গ্রহণ করলেও ২০১০ সালের পর থেকে এটাই অ্যাপল’র সর্বনিম্ন বাজার দখলের পরিমাণ। উভয় প্রতিষ্ঠানের হিসেবেই এখন স্মার্টফোনের বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে স্যামসাং, চলতি বছরের দ্বিতীয় চতুর্ভাগে এসে যাদের দখলে রয়েছে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের এক-তৃতীয়াংশ বাজার। এই সময়ে এলজি, লেনোভো এবং জেডটিই’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বাজারকে অনেকাংশে সম্প্রসারিত করতে পেরেছে। আসলে হাই-এন্ড এবং লো-এন্ড—উভয় দিকেই অ্যান্ড্রয়েডের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে অ্যাপল। স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইটিকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নেইল মসটন জানিয়েছেন, ‘আসলে অ্যাপল এক ধরনের ফাঁদের মধ্যে পড়েছে। এই ফাঁদের একদিকে রয়েছে ৩ ইঞ্চির সব লো-এন্ড অ্যান্ড্রয়েড আর অন্যদিকে রয়েছে ৫ ইঞ্চি ও তার চেয়ে বড় সব হাই-এন্ড অ্যান্ড্রয়েড ফোন।’ স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইটিকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছর সময়ে স্যামসাংয়ের বাজার বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। একই সময়ে সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোনের বাজার ৪৭ শতাংশ বাড়লেও অ্যাপল’র বাজার বেড়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। কেবল বিক্রির সংখ্যাতেই নয়, লাভের পরিমাণেও পিছিয়ে পড়ছে অ্যাপল। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের হ্যান্ডসেট বিভাগের লাভের পরিমাণ ছিল ৫.২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে অ্যাপল’র লাভের পরিমাণ ছিল ৪.৬ বিলিয়ন ডলার। আইডিসি’র হিসাব অনুযায়ী অবশ্য বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বাজার বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে স্যামসাং আর অ্যাপল’র পরে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে এলজি, লেনোভো এবং জেডটিই। সার্বিকভাবে অপারেটিং সিস্টেমের হিসেবে দেখা যায়, অ্যান্ড্রয়েডের দখলে রয়েছে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ স্মার্টফোনের বাজার। ব্ল্যাকবেরি কিংবা উইন্ডোজ ফোনের উল্লেখযোগ্য তেমন উন্নতি ঘটেনি এই সময়ে।