শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত

দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সঠিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা অপরিহার্য আমাদের দেশ বর্তমানে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এরকম দুঃসময় আর কখনো হয়েছে বলে মনে হয় না। আর এ ক্রান্তিলগ্নে যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বিশ্বের দরবারে ঘৃণিত দেশ হিসাবে পরিচিত হচ্ছে। আজ ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক আচরণ। আমাদের দেশে বড় দুটি রাজনীতি দল। কিন্তু কোন দলই কাউকে সহ্য করতে পারে না। সবাই নিজের আধিপত্যকে বিস্তার করতে ব্যস্ত। কে কতদিন ক্ষমতায় থাকবে তা নিয়ে মাথা ব্যথা। । আর এ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিভিন্ন পাঁয়তারা চালাচ্ছে। অপরদিকে বিরোধীদল ক্ষমতাসীন দলকে রোধ করার জন্য হরতাল,সড়ক অবরোধ,বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিচ্ছে। এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন গাড়ি ভাংচুর, দোকানপাটে আগুন লাগানো, মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন কর্যাকলাপ করা হচ্ছে। এর দায়ভার নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাই যদি বর্তমান এই দুই দল শান্তভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তাহলে দেশ যেমন শান্ত থাকবে তেমনি দেশের উন্নতি করা সম্ভব। আর এভাবে যদি আমাদের দেশ চলতে থাকে তাহলে দেশ একদিন অচিরেই অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে বলে মনে হয়। তাই আসুন কোন ক্ষমতার লোভ নয়, দেশের উন্নতি সাধন করাই আমাদের হোক একমাত্র লক্ষ্য। মনিরুল ইসলাম নাঈম বিএ অনার্স, ১ম বর্ষ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় === শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরই কাম্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর গণতান্ত্রিক শাসন প্রদ্ধতির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় তখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। ফলে লাগাতার হরতাল, অবরোধ এর কবলে পড়ে অর্থনীতির চাকা থেমে যায়, দেশের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, ফলশ্রুতিতে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে, দেশে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকে তাহলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে, তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি বলা যায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে, যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কি ধরনের সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে মূলত প্রধান দুদলের মতানৈক্যের কারণে এই সংশয় দেখা দিয়েছে, সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের অলীক স্বপ্ন না দেখে যেকোন গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করুন। তাহলেই গণতন্ত্র বাঁচবে, বাঁচবে দেশ, বাঁচবে অর্থনীতি। শহিদুল ইসলাম যন্ত্রকৌশল বিভাগ, ২য় বর্ষ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট == দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে চাই সঠিক সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর একটি দেশের সরকারের যখন মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তখন নিয়ম হচ্ছে সেই সরকারকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া। শান্তি ও সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর জাতির কাম্য। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায় তার উল্টো চিত্র, ক্ষমতা হস্তান্তরে সরকার গড়িমসি করে, অপর দিকে বিরোধীদলগুলো তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। সরকারকে হটিয়ে তারা ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে ওঠে, লেগে যায় দু’পক্ষে হানাহানি, আর এর ফলে কি হয়? জাতি চরম বিপর্যয়ে পড়ে। আর দেশ অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ফলে বিভিন্ন বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা তাদের হাত গুটিয়ে নেয়, দেশ তখন ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নামে। জনগণ সরকার ও বিরোধীদলগুলোর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। তাই সঠিক সময়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সবাইকে সমঝোতার মাধ্যমে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। মো. শাকিল মাহমুদ ইতিহাস বিভাগ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় === রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিহিংসা ও সহিংসতার মনোভাব ছাড়তে হবে সরকারি দল যদি কোন উন্নয়ন এর পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায় তখনই তার প্রতিহিংসা স্বরূপ বিরোধীদল সহিংসতার রূপ নেয়। তাদের সহিংসতার পথগুলো হচ্ছে হরতাল, ধর্মঘট বা জ্বালাও পোড়াও। এই সব সহিংসতার মনোভাব ও কর্মকাণ্ডগুলো কখনও দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির উন্নয়ন তো বয়ে আনবেই না ধ্বংস ছাড়া। অন্য দিকে যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দল বিরোধীদলের দোষ খুঁজে। এই সকল কর্মকাণ্ডগুলো কোন আদর্শ রাজনৈতিক দলের কাজ নয়। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির উন্নয়ন এর জন্য চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। তার জন্য প্রত্যেককেই প্রতিহিংসা ও সহিংসতার মনোভাব ছাড়তে হবে এবং সমঝোতায় আসতে হবে। আর এটাই হতে পারে দেশের শান্তিপূর্ণ অর্থনীতির উন্নয়নের পূর্বশর্ত। মাইনুদ্দীন সম্মান (১ম বর্ষ), সমাজ বিজ্ঞান সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল