প্রজন্মের ফ্যাশন ডিজাইনার

শা হ না জ খা ন প্রধান নির্বাহী, কে ক্র্যাফট শাহনাজ খান ডাক নাম :নাজ মায়ের নাম :জোহরা খান বাবার নাম :আবদুল হাফিজ খান প্রথম স্কুল :শাহজাদপুর ইব্রাহীম বালিকা বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :মা প্রিয় উক্তি :মানুষ বেঁচে থাকে তার কাজের মাঝে। প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :ঘুরে বেড়িয়ে, গান শুনে। সাফল্যের সংজ্ঞা :একাগ্রতা, পরিশ্রম, সততা ও আন্তরিকতার বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগ সাফল্য নিয়ে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই নিজে কিছু করার তাগিদ অনুভব করেছিলেন তিনি। বিসিক-এ নেওয়া কিছু প্রশিক্ষণ আর মানুষের রুচি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ছিল তার প্রধান পুঁজি। পোশাক ক্রেতাদের নতুন কিছু চাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে এটা বুঝতে পেরেছিলেন। সেই বোধ থেকেই নতুন নতুন ডিজাইনের ছোট্ট আয়োজন নিয়ে প্রথম হাউস শো করেন। প্রথম থেকেই ক্রেতা-শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন তার এগিয়ে যাওয়ার প্রধান সাহস হিসেবে কাজ করেছে। কাছে পেয়েছেন খালিদ মাহমুদ খানকে সেই শুরু থেকেই। কথা বলছিলাম কে ক্র্যাফটের প্রধান নির্বাহি শাহনাজ খান সম্পর্কে। খুব ছোটবেলায় তিনি বাবাকে হারিয়েছেন। বাবা একজন সম্মানীত সমাজসেবক ছিলেন। বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের আদর আর ভাইবোনদের স্নেহ-ভালোবাসায় শাহনাজ খানের বেড়ে ওঠা। চার ভাই, তিন বোনের পরিবার। ছোটবেলায় একজন ভাইকে হারিয়েছেন তিনি। শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি তাকে আবিষ্ট করে প্রতিনিয়ত। এই পেশায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় কোনটি—এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহনাজ খান বলেন, ‘সময়ের সাথে থেকে ক্রেতার আকাঙ্ক্ষা বুঝা। ক্রেতাকে সময়ের আগে নতুন কিছু দেওয়া। সমস্ত পরিকল্পনা মতো উত্সব অনুযায়ী নতুন ডিজাইনের পোশাক সঠিক সময়ে ক্রেতাদের কাছে উপস্থাপন করা। ডিজাইন, ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, বিপণন সবগুলো বিষয়ই ভালোভাবে সম্পন্ন করতে হয়।’ বিগত বিশ বছরের মতো কে ক্র্যাফট এবারও তার ক্রেতা, শুভানুধ্যায়ীদের জন্য নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকের সমাহার নিয়ে এসেছে। গরমের মধ্যে ঈদ হওয়াতে পোশাকগুলোতে আরামদায়ক সুতি ও এন্ডি কাপড় ব্যবহার হয়েছে বেশি। ছিমছাম ডিজাইনের পাঞ্জাবিগুলোতে আরও নতুনত্ব এসেছে। এগুলোর সঙ্গে এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি তো রয়েছেই। উত্সবের কারণে সালোয়ার-কামিজগুলোতে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার হয়েছে এবং কন্ট্রাস্টও রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের নিজস্ব ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ডিজাইনে বোনা সুতি ও তাঁতের শাড়ি, উইভিং বৈচিত্র্যমণ্ডিত কোটা সিল্ক শাড়ি, মানিকগঞ্জে বোনা এন্ডি শাড়ির সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বলাকা সিল্কের কম্বিনেশনের কথা বলাইবাহুল্য। কে ক্র্যাফট ডিজাইন স্টুডিও সব সময়ই দেশীয় ঐতিহ্যবাহী সুচিকর্মকে আধুনিকভাবে উপস্থাপনে সচেষ্ট। আর তাই, কে ক্র্যাফটের এসব পোশাকে দেশীয় তাঁত শিল্পের নানা উপাদানের ব্যবহারের পাশাপাশি ব্লক বা স্ক্রিনপ্রিন্টের উপর দক্ষ কারুশিল্পীদের জরি-সালমা-ডলার-চুমকি-পুতি দিয়ে করা কারচুপিসহ রয়েছে এপ্লিক, এমব্রয়ডারি, কাশ্মিরী, গুজরাটি, হাজার বুটি, ভরাট, কাঁথা-সেলাইয়ের মতো নানা রকম কাজ। আমাদের এবারের ডিজাইনে প্রিন্টের ব্যবহার বেড়েছে, কারুকাজে পরিমিতিবোধের সঙ্গে সঙ্গে রুচিশীলতার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। কে ক্র্যাফটের এসব শাড়ি-পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজগুলোর দাম মধ্যবিত্ত ক্রেতাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই।’ একজন ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে ক্রেতাদের জন্য তার ভাবনার কথা জানতে চাইলে শাহনাজ খান বলেন, ‘ক্রেতাদের দেশীয় পোশাকের প্রতি আস্থা আমাদের সাহসী করে। আমরা ক্রেতাদের এ আস্থা ধরে রাখার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। একজন ক্রেতা দেশীয় পোশাক ব্যবহারের মাধ্যমে শুধু একটি পোশাক কিনছে না। এর মধ্যেমে তিনি দেশের গুণী কারুশিল্পী, তাঁতী সূচিকর্ম শিল্পীসহ এর সাথে যুক্ত লাখো মানুষের কর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছেন।’ আর এ প্রজন্ম সম্পর্কে তার মূল্যায়নের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভালো করছে। আমার বিশ্বাস নতুন প্রজন্মের ডিজাইনাররা এই সেক্টরটিকে আরেকটি নতুন মাত্রা দেওয়ার জন্য ক্রিয়াশীল। অবশ্যই আমাদের সেক্টর এগিয়ে চলেছে, নতুন প্রাণ দিচ্ছে নতুন উদ্দীপনা। যারা এ ব্যবসায় আসতে চান, তাদের অবশ্যই এ ক্ষেত্রে ফ্যাশন থাকতে হবে এবং অবশ্যই প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। ধৈর্য রাখতে হবে। সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। আপনার মেধা, ধৈর্য, পরিশ্রম ও সততা এবং সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে এগিয়ে নেবেই।’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আরও অনেক মানুষকে কে ক্র্যাফটের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং দেশে ও দেশের বাইরে ক্রেতাদের আরও কাছাকাছি কে ক্র্যাফটকে পৌঁছে দিতে চাই।’ ০০০ লি পি খ ন্দ কা র স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার, বিবিয়ানা লিপি খন্দকার ডাক নাম :লিপি জন্ম তারিখ :৩০ সেপ্টেম্বর, ঢাকা মায়ের নাম :ফাতেমা বেগম বাবার নাম :খন্দকার মোহাম্মেদ হোসেন প্রথম স্কুল :আজিমপুর গালর্স হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার সব বন্ধুরা প্রিয় উক্তি :চেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর সময় কাটে যেভাবে :পরিবার ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা, পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়। ছবি আঁকা দিয়েই স্বপ্নের গাঁথুনিটা তৈরি করেছিলেন লিপি খন্দকার। তখন বয়সটা তেমন হয়নি। সবেমাত্র তের কি চৌদ্দ। আর ওখান থেকেই শুরু। কিন্তু হঠাত্ করেই স্বপ্নটা কিছু বাঁক নেয়। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে থাকেন ডিজাইনার হওয়ার। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল আর্টিস্ট হবেন। নবম-দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই আর্ট কলেজে ভর্তি হন। আর্ট কলেজে ২য় বর্ষে পড়ার সময় প্রথম এবং শেষবারের মতো কোনো প্রতিযোগিতায় তিনি অংশগ্রহণ করেন। প্রিয়জন নামে পত্রিকায় একটি ফ্যাশন ডিজাইনিং প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে তার ডিজাইন করা কয়েকটি ড্রেস পাঠিয়ে দেন। ফলাফল যা হওয়ার কথা ছিল তাই। সফল হলেন এবং সেই সাথে নিজেকে প্রথমবারের মতো একজন মেধাবী ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে চিনে নিলেন। তারপর চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে। ভারতের বিখ্যাত ডিজাইন স্কুল আহমেদাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন (এনআইডি)-তে টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল ডিজাইনের উপর এক বছরের কোর্স করেন। এভাবেই নিজের ডিজাইনার হওয়ার শুরুর গল্পটা তৈরি হয়েছিল বর্তমান সময়ের অতি পরিচিত ডিজাইন হাউস বিবিয়ানার স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকারের। নিজের প্রেরণার জায়গায় চন্দ্রশেখর সাহা এবং মাহিন খান বরাবরই তার কাছে উল্লেখ্যযোগ্য। একাগ্রতা এবং মনের সাহস এই দুইয়ের সংমিশ্রণ সামনে এগিয়ে নেয় তাকে। চারুকলাতে পড়াকালীন সময়েই কাজ করতে থাকেন জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস আড়ংয়ে। নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর শুরু সেই থেকেই। এরপর একই সাথে পড়ালেখা এবং কাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বাড়াতে থাকেন এই সৃজনশীল উদ্যোক্তা। কিন্তু পরিবারে নতুন অতিথির আগমন উপলক্ষে কাজ থেকে নিজেকে কিছুটা বিরতি দেন। সন্তানের আগমনে খুশির ফোয়ারা ছড়িয়ে পড়লেও নিজেকে কাজ থেকে দূরে রাখতে পারেননি কাজপাগল এই ফ্যাশন ডিজাইনার। ঘরে বসেই ঠিক করলেন নিজের কাজের জগতটাকে। পরিকল্পনা করলেন একটি এক্সিবিশন করার এবং এর মাধ্যমেই স্বদর্পে ফিরে আসার। এরই মধ্যেই পত্রিকায় দেখলেন একটি টু-লেট। তখনই নিজের পরিকল্পনাকে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ফ্যাশন হাউস ‘বিবিয়ানা’। সেই থেকেই বিবিয়ানাকে নিয়ে নিজের মেধাকে একই সুতোয় বাঁধতে থাকেন তিনি। যার ফলে আস্তে আস্তে করে সফলতার দিকেও এগিয়ে যেতে দেখা যায় তাকে। এবারের ঈদে বিবিয়ানার পোশাক প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আরব স্থাপত্যের স্তম্ভের অলংকরণের অনুপ্রেরণায় বিবিয়ানায় এবারের ঈদ কালেকশনের সব পোশাকের অলংকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সারা বছর ধরে যে পোশাকগুলোর চাহিদা ছিল ব্যাপক সেই পোশাকগুলোকে ভিন্ন রঙে ভিন্ন আঙ্গিকে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে ঈদ উপলক্ষে। এবার ঈদে সব ধরনের উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন—লাল, কালো, কমলা, ময়ূরী, নীল, কলাপাতা সবুজ, হলুদ। বেশিরভাগই সুতি, ভয়েল, তাঁতের চেক, স্ট্রাইপ, ডোবি ও জ্যাকার্ড ডিজাইন। যা এই গরমের জন্য বেশ উপযোগী। শাড়ির ডিজাইনে রয়েছে নান্দনিকতা। আর শাড়ির দাম পড়বে ৮৫০ থেকে ৭ হাজার টাকা।’ এই সৃষ্টিশীল মানুষটির ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ফ্যাশন সচেতন মানুষের ঘরে ঘরে অন্তত পক্ষে একটি করে বিবিয়ানার পোশাক থাকবে বলেও প্রত্যাশা করেন এই গুণী ডিজাইনার। ০০০০০ লা য় লা খা য়ে র ক ন ক চিফ ডিজাইনার, অঞ্জন’স লায়লা খায়ের কনক ডাক নাম :কনক মায়ের নাম :মাজেরা খাতুন বাবার নাম :আবুল খায়ের শিকদার প্রিয় মানুষ :বাবা প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম করতে হবে। ফ্যাশন সময়ের বাহন। ফ্যাশন নিয়ে নিজের ভাবনাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তাই এই পেশায় জড়িয়েছেন বলে জানালেন ফাশন ডিজাইনার লায়লা খায়ের কনক। তার মতে, অন্যান্য পেশা থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং ভিন্ন। ফ্যাশন হাউস পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ভালোলাগার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিতে হয়। এ দেশে বিদেশি পোশাকের আধিপত্য বেশি ছিল। এ ছাড়া ক্রেতারা মনে করত বিদেশি পোশাকের গুণগত মান ও ডিজাইন ভালো। এ বিষয়টির পরিবর্তন করাটা অনেকের স্বপ্ন ছিল। ফ্যাশন উদ্যোক্তারা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। এখন ক্রেতারা দেশীয় পোশাককে গুরুত্ব দিচ্ছে। তারপরও এটিই ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ—এ দেশের বাজারকে আরও বড় করতে হবে। একজন ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে ক্রেতাদের জন্য ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা সব সময় গুণগত মান ও ডিজাইন ভালো চায়। ডিজাইনে পরিবর্তন চায়। এ ছাড়াও তারা চায় অনেক ডিজাইন ও একই সাথে দামটা একটু কম। আমরা চেষ্টা করি এ বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দিতে। সেই চেষ্টারই ফল হিসেবে ক্রেতাদের ভালোলাগা ও ভালোবাসা নিয়ে আমাদের আজকের অবস্থান। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সামনে এগোনো সম্ভব না।’ ঈদকে সামনে রেখে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এবার রাজশাহী সিল্ক, কটন, এন্ডি সিল্ক, হাফ সিল্ক, মসলিন, তাঁত কটনসহ বিভিন্ন কাপড়ে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, কাঁথা স্টিচ, বিভিন্ন ম্যাটারিয়ালের কাজ করা হয়েছে। বেশির ভাগ শাড়িতে একাধিক মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে। নিজস্ব বুনন ডিজাইনে তাঁতের শাড়ি করা হয়েছে। বয়স ও উত্সবকে মাথায় রেখে শাড়ি ডিজাইন বিন্যাস করা হয়েছে। এসব শাড়ির দাম পড়বে সুতি ৭৫০ থেকে ৪ হাজার টাকা, সিল্ক ১২ শ থেকে ২৫ হাজার টাকা, মসলিন ৩৫ শ থেকে ১২ হাজার টাকা, হাফ সিল্ক ২৫ শ থেকে ৬ হাজার টাকা।’ এই প্রজন্মের নতুন ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে মূল্যায়ন জানতে চাইলে লায়লা খায়ের কনক বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম দেশীয় পোশাকের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এটা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রেরণা দেয়। আমরা তাদের কথা ভেবে ডিজাইন করি। ফ্যাশনের পরিবর্তনগুলোতে তরুণরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। আমি মনে করি, নতুন প্রজন্ম দেশীয় ফ্যাশন ও সংস্কৃতির ব্যাপারে অনেক আগ্রহী।’ আর যারা এই ব্যবসায় আসতে চায়, তাদের জন্য পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু ফ্যাশন ডিজাইনিং অন্য পেশা থেকে আলাদা। এখানে সৃষ্টিশীল বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায় তাই যারা এই পেশায় আছেন তারা যেন বিষয়টির গুরুত্ব দেন। এখন অনেক ফ্যাশন ইনস্টিটিউট হয়েছে। সেখান থেকে ডিপ্লোমা বা যেকোনো কোর্স করে নিজেদেরকে আরও ভালোভাবে প্রকাশ করতে যায়। এই ইন্টারনেট যুগে সহজেই সারা পৃথিবীর খোঁজ রাখা যায়, সেই চেষ্টা তারা যেন করে। ক্রেতাদের নিজেদের বিজ্ঞাপনের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। একটু ধৈর্য নিয়ে শুরু করলে এ পেশায় ভালো করা যাবে। যেকোনো পেশায় কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভালো অবস্থানে যাওয়া যাবে।’ তার শৈশব-কৈশোর ও পরিবারের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার শৈশব ও কৈশোর চট্টগ্রামে কেটেছে। বাবার সরকারি চাকরির কারণে ওই সময় চট্টগ্রামে ছিলাম। পরবর্তীতে ঢাকায়। আমরা চার ভাই তিন বোন। বড় ভাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন ডিরেক্টর। মেজো ভাই ইঞ্জিনিয়ার, দেশের বাইরে থাকেন ব্যবসা করেন। সেজো ভাই ইঞ্জিনিয়ার দেশের বাইরে চাকরি করেন। বড় বোন দেশের বাইরে থাকেন ব্যবসা করেন। অন্য ভাই বিদেশে থাকেন। আরেক বোন দেশে থাকেন চাকরি করেন।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে কনক বলেন, ‘বাংলাদেশের ফ্যাশনকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা চেষ্টা করছি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদেরকে তুলে ধরার। এ ছাড়া পোশাকের পাশাপাশি গহনা ও হোম টেক্সটাইলকে ভালো রূপে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি।’ ০০০ মো. আ লী আ ফ জা ল প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, নগরদোলা মো. আলী আফজাল ডাক নাম :নিকোলাস জন্ম তারিখ :২২ ফেব্রুয়ারি বাবার নাম :সামসুল আলী মায়ের নাম :আলম আরা সুলতানা প্রথম স্কুল :উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার মেয়ে নিকিতা প্রিয় পোশাক :পোলো শার্ট ও জিন্স অবসর কাটে যেভাবে :টেলিভিশন দেখে ও মেয়ে ও স্ত্রীর সাথে গল্প করে। সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম, সততা, ধৈর্য, নিষ্ঠা ও মেধার সমন্বয়ই হলো সাফল্য। অনেকটা হঠাত্ করেই ফ্যাশন ব্যবসায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন মো. আলী আফজাল। দেশীয় পোশাকের ব্যাপক চাহিদা ও সম্ভাবনা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে দেশীয় ফ্যাশনের সাথে সম্পৃক্ত হতে। সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁত শিল্প এবং অসংখ্য কারুশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা তথা দেশীয় পোশাককে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা নিয়েই নগরদোলার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় সবার আদর ও স্নেহে মো. আলী আফজালের বড় হয়ে ওঠা। সারাদিন আড্ডা মেরে বেড়ানো স্বভাব ছিল তার। ছোটবেলা থেকেই তার বিভিন্ন রকম সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি আকর্ষণ ছিল। ঢাকা কলেজে এইচএসসি পড়ার সময় সংগীতের সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বেশকিছু বছর দেশবরেণ্য শিল্পীদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ১৯৯৬ সালে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। সেখান থেকে এমবিএ শেষ করে দেশে ফিরে বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িয়ে অবশেষে ২০০৭ সালে নগরদোলা প্রতিষ্ঠা করেন। স্ত্রী ও কন্যা নিয়ে মো. আলী আফজালের ছোট পরিবার। তার কন্যা ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী, আর স্ত্রী শিক্ষকতা করছেন একটি ইংরেজি-মাধ্যম স্কুলে। এই ব্যবসায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় কোনটি এমন প্রশ্নের উত্তরে মো. আলী আফজাল বলেন, ‘ফ্যাশনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হচ্ছে ক্রেতাসাধারণের পছন্দ বুঝতে পারা। কোন সময়ে কোন ফ্যাশন চলবে সেটা বুঝে মৌলিক ডিজাইনের পোশাক তৈরি করাটাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। এ ছাড়াও বিদেশি পোশাকের ভিড়ে দেশীয় পোশাক তৈরি করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাটাও বিরাট চ্যালেঞ্জ।’ থিমেটিক পোশাক তৈরির ধারাবাহিকতায় নগরদোলা এবারের ঈদের পোশাক সম্ভার সাজিয়েছে মুঘল শিল্পকর্মের কিছু থিম ব্যবহার করে সুনিপুণ অলংকরণের মাধ্যমে। নগরদোলার নিজস্ব ডিজাইন ইউনিটের কর্ম প্রচেষ্টায় এসব শিল্পকলা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে নান্দনিক ও বর্ণিলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে প্রতিটি পোশাকে। নগরদোলার ঈদ উত্সব পোশাক মেলায় থাকছে দু ধরনের পোশাক—এক্সক্লুসিভ ও ইকোনোমি। এক্সক্লুসিভের মধ্যে রয়েছে একটু ভারি কারুকাজ ও ফেব্রিক হিসেবে রয়েছে দুপিয়ান, জয়সিল্ক, সিল্ক, এন্ডি সিল্ক ইত্যাদি। ইকোনমি পোশাকের ফেব্রিক থাকছে কটন, যাতে স্ক্রিন প্রিন্ট, ভ্লক প্রিন্টের সাথে এমব্রয়ডারি করা হয়েছে। একজন ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে ক্রেতাদের জন্য একান্ত ভাবনার কথা জানতে চাইলে মো. আলী আফজাল বলেন, ‘ক্রেতাসাধারণ ও অনুরাগীদের অনুপ্রেরণায়ই সমৃদ্ধ হয় ফ্যাশন হাউসগুলো। ক্রেতারাই মূলত ট্রেন্ডকে বহন করে এবং সে অনুপ্রেরণায় হাউসগুলো নতুন নতুন ট্রেন্ড বিস্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। ক্রেতাসাধারণের প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরাগ, আকর্ষণ ও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানকে লালন করে চলার কারণে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত হয়। মূল কথা ক্রেতাসাধারণকে বাদ দিয়ে কোনো ফ্যাশন হাউস কল্পনা করা যেতে পারে না।’ নতুন প্রজন্ম যারা এই ব্যবসায় আসতে চায় তাদের জন্য তার পরামর্শ হচ্ছে, ‘যারা এই ব্যবসায় আসতে চায় তাদের আর্থিক সচ্ছলতার সাথে শ্রম, মেধা ও একাগ্রতা থাকতে হবে। নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে ধৈর্য সহকারে এগিয়ে যেতে হবে। ’ সবশেষে তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশীয় ফ্যাশনকে দেশের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের স্বপ্ন। এই স্বপ্নকে সামনে রেখে এ বছর নগরদোলা পাড়ি জমিয়েছে যুক্তরাজ্যে। আশা রাখি, আগামী বছর অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় নগরদোলার দুটি শাখা চালু হবে।’