সাফল্যের পথে

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে বিশ্বের দরবারে দেশকে সম্মানের আসনে উন্নীত করার দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে ক্রমাগত। এমন একটি ছোট দেশে অনেক কৃতী সন্তানদের জন্ম হচ্ছে যারা পৃথিবীজুড়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন স্ব-স্ব কাজে। সেই ধারায় সম্প্রতি নতুন প্রজন্ম বিমান প্রকৌশলীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে গিয়ে দারুণ সুনাম অর্জন করছে। গর্বিত এসব পেশায় তাদের বাবা-মায়ের মনে যেমন আশার সঞ্চার হচ্ছে, একই সাথে সম্মানজনক ধারায় এ দেশে আসছে ফরেন কারেন্সি। এ পর্যায়ে সাফল্যের পথে উঠে এসেছে বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন খান। এবারের সংখায় তার সাফল্যেও বিষয় নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে মো. জাকির হোসেন। রাহাত হোসেন খান এইচএসসি পাস করার পর উচ্চশিক্ষা নিয়ে বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। সায়েন্স নেওয়ার কারণে ইচ্ছা ছিল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু এ বিষয়ে চান্স পাওয়াটা প্রকৃত পক্ষেই দুরূহ বিষয় ছিল। আর এসব বিষয় অনেকটা গতানুগতিক মনে হয়েছে তার কাছে। তিনি শিক্ষা অর্জনে বৈচিত্র্য এবং একটু নতুনত্ব নিয়ে চিন্তা করতেন। যে কারণে খোঁজ করতে থাকেন সময়োপযোগী বিষয়ের। এরই মধ্যে চোখে পড়ে ক্যাটেকের অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার বিষয়টি। এরপর এদের প্রধান ক্যাম্পাস উত্তরার এগার নম্বর সেক্টরে দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেয় এবং ভর্তি হয়। বাংলাদেশে প্রলোভন দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর হয়রানিতে পড়ার বিষয়টি তিনি জানতেন। যে কারণে একটু সংশয় ছিল। কিন্তু সে আশঙ্কা কেটে গেল দুই বছরের মাথায়। কলেজের কমিটমেন্ট অনুযায়ী তিনি ভিসা নিয়ে চলে আসেন আয়ারল্যান্ডে। এখানে শ্যানন অ্যারোস্পেসে যোগ দেন। প্রতি মাসে তিনি অন্যান্য সুযোগের সাথে সাথে যথেষ্ট আয় করছেন। পক্ষান্তরে এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স লাইসেন্স পাওয়ার পর তার শুরুতেই বেতন হবে দু’হাজার ইউরো। এখন কেবল তার সফল হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এ প্রসঙ্গে রাহাত হোসেন খান বলেন, ‘এ বিষয়ে পেশা গড়া এখন যেমন সহজ এটি আগে এত সহজ ছিল না। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশেই এর শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা একসময় বিদেশে গিয়ে সম্পন্ন করে আসতে হতো। কিন্তু এ দেশে শিক্ষার সুযোগ থাকায় ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। আর এতে শুধু ছেলেরা নয়, সমধিক হারে মেয়েরাও পেশাগত সাফল্যে এগিয়ে যাচ্ছে। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে উড়োজাহাজের প্রকৌশলী বা এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ার। বিমান প্রকৌশল একটি হাইটেক প্রফেশন। যেখানে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্ম সাফল্যের সাথে পেশাদার কর্মকাণ্ডে সমহারে ছড়িয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এডেক্সেল বোর্ডের আওতায় শিক্ষার্থী এই ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিশ্বজুড়ে চাকরির সুযোগ নিতে পারছে। আর সারা বিশ্বে সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে এই পেশায় চাকরির অবারিত সুযোগ।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই পেশায় আসতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে রয়েছে লেভেল-৬ অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনার্স, বিএসসি ইন অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্স। ইএএসএ-৬৬ কোর্সের মধ্যে রয়েছে—ইএএসএ পার্ট-৬৬ ক্যাট-এ, এএমএল ক্যাট বি-১/বি-২। বিটেক এডেক্সেলের লেভেল-৩ এবং লেভেল-৫-এর মধ্যে রয়েছে এনডি এইচ এনডি ইন অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্স, ইউরোপীয়ান অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সি ইএএসএ পি-৬৬ এয়ারক্রাফট পরিচালনা সনদ এএমএল। এর শিক্ষা পদ্ধতি অনেক সহজ। আরও বিস্তারিত জানা যাবে এই নম্বরে কথা বলে :৮৯৯১৩৭১। এসএসসি-এইচএসসি, ‘এ’ লেভেল-‘ও’ লেভেল সম্পন্নকারীরা এই কোর্সটি করতে পারে।’ রাহাত হোসেন খান বলেন, ‘শর্ট সময়েও কোর্সটি করতে চাইলে শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ইএএসএ কমন মডিউলে থিউরিটিক্যাল সম্পন্ন করে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার জন্য চলে আসা যায় আয়ারল্যান্ডের শ্যানন এয়ারপোর্টে। এক্ষেত্রে প্র্যাকটিক্যাল টাইমে শ্যানন অ্যারোস্পেসে প্রতি স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার আগ পর্যন্ত মাসে ৫ শ ডলার করে সম্মানী পেয়ে থাকে। আর অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে রয়েছে ১৮ মাস লেভেল-৩ বা ‘এ’ লেভেল, ১৮ মাস লেভেল-৫ এবং আনন্দের বিষয় এখন বাংলাদেশ থেকেই ১ বছর ক্যাটেক থেকে লেভেল-৬ অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (অনার্স) করা যাচ্ছে।