সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রয়োজন কিন্তু অল্প পরিমাণে সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যু এখন আমাদের দেশের একটি মূল কথিত বিষয়। আমার মতে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রয়োজন কিন্তু অল্প পরিমাণে। আমাদের দেশে চাকরির ক্ষেত্রে পোষ্য কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ইত্যাদি কোটা বিদ্যমান। আমাদের দেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম এবং সে ঋণ কোনভাবেই পরিশোধ করা যায় না। মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলেদের এজন্য এক্ষেত্রে কোটায় সরাসরি চাকরি পাওয়া উচিত। কিন্তু আমি মনে করি মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনীদের এক্ষেত্রে বিবেচনায় না আনাই ভালো। আবার প্রতিবন্ধী যারা আছে তাদেরও কোটায় সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিবেচনা করা উচিত। কোটায় চাকরি না দিলে যারা কোটার আওতাধীন তারা সংগ্রাম করবে। আবার কোটায় চাকরির জরিমানা বেশি করলে কোটাবিরোধীরা সংগ্রাম করবে। ফলে দেশে এবং অরাজক ও বিশৃঙ্খল অবস্থা লেগেই থাকবে। এজন্য আমি মনে করি সরকারের প্রয়োজন সরকারি চাকরিতে কোটার পরিমাণ কমানো। এরফলে মুক্তিযুদ্ধের সন্তান ও প্রতিবেশীরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে। প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হবে না। দেশও প্রকৃত মেধাবীদের পেয়ে উপকৃত হবে। দেশে সুখ ও শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করবে। সঞ্জিত মন্ডল নাট্যকলা বিভাগ, ৩য় বর্ষ, ৫ম সেমিস্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোটা পদ্ধতি বাতিল নয়, চাই প্রয়োজনীয় সংস্কার ইংরেজি Quata শব্দটির অর্থ Proportional Share যার বাংলা অর্থ আনুপাতিক অংশ। আমাদের দেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে এই কোটা (আনুপাতিক অংশ) মেধাবীদের জন্য এক আতঙ্কের। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ বরাদ্দ আর বাকি ৪৪ শতাংশ মেধাবীদের জন্য। এই কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে সম্প্রতি সারা দেশে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আন্দোলন শুরু করে যা অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তবে বর্তমানে যে কোটা পদ্ধতি রয়েছে তা সংস্কার করে মেধাবীদের কোটা বাড়ানো উচিত। এতে করে মেধাবীদের মেধা দেশ পরিচালনার কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং দেশ খুব দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব। তাই কোটা পদ্ধতি বাতিল নয়, কোটা পদ্ধতি আশু সংস্কার জরুরি। হাবিবুর রহমান স্নাতক (সম্মান), ইতিহাস বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করতে হলে সরকারি চাকরিতে কোটা বিলুপ্ত করতে হবে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত, মেধাবী, জ্ঞানী ও দক্ষ জনশক্তিই দেশের সম্পদ। কোন দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে মেধাবী, দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি প্রয়োজন। আর এজন্য দরকার মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে মেধার মূল্যায়নের বিকল্প নেই। কোটা দ্বারা মেধার মূল্যায়ন করা যায় না। কেননা, মেধাবীরা কোটার তোয়াক্কা না করে মেধাকে প্রাধান্য দেয়। আর কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কোটা পদ্ধতিকে সমর্থন করতে পারে না; কেননা কোটার মাধ্যমে মেধাকে অবমূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯-এর ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্র নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান করতে পারে। এক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অনগ্রসর হিসেবে ধরে তাদেরকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে আর্থিক সুবিধা দিলেও তাদেরকে তুচ্ছ করা হয় বলে আমার বিশ্বাস। কোটাভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বে কোটার প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা কোটার প্রার্থী থেকে কোটা পূরণ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে কোটার প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা সংরক্ষিত রাখতে হবে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা পূর্ণ না হলে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-পুতি দ্বারা কোটা পূরণ করতে হবে। সুতরাং সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করে মেধার মূল্যায়ন করা হলে বাস্তবে রাষ্ট্রই উপকৃত হবে। মো. ইয়াছিনউদ্দিন বিএসসি অনার্স, ৩য় বর্ষ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা বৈদেশিক সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিবিদদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) গত ২৭ জুন বাংলাদেশের জন্য স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আমরা দেখতে পেলাম সরকারি এবং বিরোধী উভয় দলই একে অপরের দোষারোপ করছে। প্রকৃত অর্থে, জিএসপি সুবিধা স্থগিতের জন্য সরকারি এবং বিরোধী উভয় দলের ব্যর্থতার কারণেই আমাদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। যদি দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের এই সোনার দেশকে সোনার দেশ হিসেবেই দেখত, মোটকথা, সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করত না, তাহলে আর আমরাও ভাল দেশ হিসেবে বিশ্বে জায়গা দখল করে থাকতে পারতাম। তাই বলে, আমরা খারাপ দেশে পরিণত এখনও হইনি। যদি আমরা পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে ভবিষ্যত্ দিনগুলো অতিবাহিত করতে পারি। সামনে জাতীয় নির্বাচন, এই নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সকল রাজনৈতিক দল সমঝোতার মাধ্যমে হারানো সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং রক্ষা করার জন্য কাজ করতে হবে। মো. সামিউল হক অনার্স ১ম বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা