রাজশাহীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে আমের ক্ষতি

আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা উপজেলায় এ বছর আমের উৎপাদন এমনিতে কম। তার উপর সোমবার রাতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে যারা বাগান চুক্তি অগ্রিম  আম ক্রয় করেছেন তারা এই মুহূর্তে চরম হতাশা ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। তবে এ বছর বাগানে আম কম থকায় উৎপাদন ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ৬ থেকে ৭ মেট্রিক টন। এ দিক থেকে সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কালবৈশাখী তাণ্ডবে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

কৃষি বিভাগ দাবি করছে, বিভিন্ন বাগানে ১ শতাংশের বেশি আম ঝড়ে গেছে। আর চাষিরা দাবি করেছেন ৫ শতাংশের বেশি আম ঝড়ে গেছে। এ থেকে ধারনা করা হচ্ছে, বাঘা উপজেলায়  প্রায় ২৫ কোটি টাকার আম ঝরে গেছে। অনুরূপ ক্ষতি হয়েছে পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলায়। 

এ অঞ্চলের আম চাষিদের মতে, রাজশাহীকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও আম প্রধান অঞ্চল মূলত জেলার চারঘাট-বাঘা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ঘিরে। এখানে খাদ্য শস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে আমই প্রধান। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঘার আমের সু-খ্যাতি সবচেয়ে বেশি বলে জানান আম ব্যবসায়ীরা। 

আরও পড়ুন: 

তারা বলেন, বিগত দুই বছর কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সরকারিভাবে সময় বেধে আম পাড়া  শুরু এবং  বাজার মূল্য ভাল না পাওয়ায় আমের সঙ্গে সম্পৃক্তরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ দিক থেকে যদি এ বছরও বাজার মূল্য ভাল না হয়, তাহলে আবারও আম চাষিদের মাথায় হাত পড়বে। 

বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার আম ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, এবার লিজ নিয়ে আমের চাষ করেছি। ঝড়ে বাগানে যে পরিমাণ আম পড়েছে তার ক্ষতি অপূরণীয়। এ ঝড় না হলে সঠিক সময়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা বিক্রি হতো। তবে আমার বাগানে গড়ে প্রায় ৫ শতাংশের মতো আম ঝড়ে গেছে। 

অনুরূপ কথা বলেন, আমোদপুর গ্রামের বাগান মালিক আকবর আলী। তার মতে, অত্র উপজেলার কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে প্রতি বছর অর্থ উপার্জন করেন ৬ থেকে ৭শ কোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান জানান, এক বছর ভাল আম হলে অন্য বছর এমনি কম হয়। এ দিক থেকে পরপর দুই বছর দেশে  প্রচুর পরিমাণ আম উৎপাদন হওয়ায় এবার আম কম হয়েছে। 

তিনি বলেন, এবার উৎপাদন কম হওয়ায় দাম ভাল পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ থেকে আগামীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই ঝড়ের ক্ষতি অনেকটা সহনীয় হয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ