সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

কোটায় নয়, মেধা ও মননে হবে দেশ ও জাতির উন্নয়ন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে কোটা পদ্ধতি। দেশের প্রকৃত মেধাবীরা দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু আমাদের দেশের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি বিপরীত। এখানে কোটা নামক সীমাবদ্ধতা দিয়ে অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হয়। আজকে আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখতে পাব যে, তাদের দেশে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন করা হয়। আর সে জন্য তারা উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে আমরা বিপরীত। প্রয়োজনে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোটার বিলুপ্তি চাই না। চাই সুষ্ঠু সংস্কার। ১০% কোটার আসন রেখে বাকি ৯০% প্রকৃত মেধাবীদেরকে সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের বিরাজমান আন্দোলন রোধ করা সম্ভম। তাহলে পুরো জাতির মাঝে যে ক্ষোভ বা ধিক্কার বিরাজ করছে তার লাঘব ঘটবে। মো. আলামীন নাট্যকলা বিভাগ(৩য় বর্ষ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি মেধাবী বাংলাদেশ গড়তে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের বিকল্প নেই বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। বাংলাদেশের বয়স ৪২ বছর। আর এ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশের চেয়ে প্রাচীন। মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোটা পদ্ধতি ৫% থেকে ১০% করা যেতে পারে। তবে তাও একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে হবে, এর বেশি নয়। স্বাধীনতা উত্তর ৪২ বছর ধরে কোটাওয়ালারা এই সুবিধা ভোগ করে আসছে, এভাবে আর চলতে পারে না। স্বাধীনতার পূর্বে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক নানা প্রকার বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানিরা নানান সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছিল। ঠিক তেমনি এখন মেধাওয়ালারা পূর্ব পাকিস্তানের ন্যায় বঞ্চিত হচ্ছে আর কোটাওয়ালারা পশ্চিম পাকিস্তানের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। এ যেন স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের প্রতিকৃতি। এখান থেকে উত্তরণ আমাদেরই ঘটাতে হবে। তাই দেশকে ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষার জন্য কোটা পদ্ধতি সংস্কারের বিকল্প নেই। মো. আনোয়ার হোসেন ইসলামের ইতিহাস বিভাগ, এম,এ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক বিশ্বে অনেক রাষ্ট্রেই পশ্চাত্পদ জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা প্রথা বিদ্যমান। রাষ্ট্রের সুষম উন্নয়নের স্বার্থেই তা প্রয়োজন। রাষ্ট্র তার সকল নাগরিককে সমান সুযোগ সুবিধা দিতে পারেনি বলে কোটা প্রথার মাধ্যমে তা সামান্য সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য, দেশে মাত্র ৩১৯টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। সুতরাং সমগ্র দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমবিন্যাস ব্যতিরেকে ১০% জেলা কোটা বাতিলের দাবি বোকামো। নারী কোটার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; পুরুষের সমান সংখ্যক নারী চাকরিতে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত এটি বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার সময়ের দাবি। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কিন্তু বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ও সনদ বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। বিশেষত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সরকারগুলো যেখানে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থেকে এ সনদ জালিয়াতি করেছে। শ্যামল কান্তি দত্ত পি-এইচ ডি গবেষক, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কোটা বলতে কিছু নাই মেধার প্রতিযোগিতাই আসল মেধার মূল্যায়ন সব দেশেই আছে। আমাদের দেশে কেন মেধার মূল্যায়ন করা হবে না? মেধাই আসল, মেধার বলেই আমরা চাকরি নিতে চাই। কোন রেফারেন্স আমাদের দরকার নাই। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমাদেরই বন্ধু-বান্ধব, তাদের অগ্রাধিকার বেশি আমাদের কম হবে কেন? আমরা ৭১-এ মুক্তিকামীদের ঘরে জন্মাইনি এটা আমাদের অপরাধ হতে পারে না। তাই দেশের সুখ ও শান্তির প্রত্যয়ে কোটার অবসানই নতুন একটি ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন করাবে। কোটা নিয়ে সব নিয়ম-কানুন ভেঙ্গে মেধার নিয়মে দেশ পরিচালনা করলে এদেশ নিমিশেই সোনার দেশ হবে। এতে কোটাবাদীদের লজ্জার কিছু নাই। কারণ যারা কোটার পক্ষে তারাও আমাদের সমপাঠী তফাত্ মুক্তিযুদ্ধার সন্তান নামক কুসংস্কার প্রথার। আসুন আমরা কোটার কথা ভুলে মেধার জোরে দেশের জন্য কাজ করি, দেশ ও দশের উপকার করি। সাইদুল হাসান সাদ্দাম ১ম বর্ষ, বিএসসি অনার্স (পদার্থ বিজ্ঞান) তিতুমীর সরকারি কলেজ, ঢাকা ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির স্বীকৃতি মাত্র “বদান্নতার উপহার নয়, নয় এ স্বাধীনতা কুড়িয়ে পাওয়া এক মুঠো মুক্তো, এ স্বাধীনতা আনতে দিতে হয়েছে নারীর সম্ভ্রম, দিতে হয়েছে লক্ষ প্রাণের বুকের তাজা রক্ত।” যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেলাম, যাদের নয় মাসের ঘুমহীন চোখের দুঃসাহসিক পরিশ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেলাম, তাদের সন্তানদের বিসিএস কোটার বিরুদ্ধে যখন ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রকাশ করে তখন নিজেকে ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিতেও খুব লজ্জা করে। তাই স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনীদের জন্য কোটা রাখতে হবে। তবে নাতি-নাতনীদের বিষয়ে একটু না বললেই নয়, সেটা হল নাতি-নাতনীদের কোটা দেয়া হোক যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা কোটার সুবিধা ভোগ করে নাই তাদের নাতি-নাতনীদের এবং তা অবশ্যই অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনাপূর্বক হতে হবে। নারী, উপজাতি, প্রতিবন্ধী ও পোষ্য কোটা নিয়ে অনেকেই অনেক কথাই বলছেন। কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি যে, একবিংশ শতাব্দিতেও নারীদেরকে এখনো আমরা কর্মক্ষেত্রে কতটা পিছিয়ে রেখেছি। তবে যে ভিত্তিতেই নিয়োগ দেয়া হোক না কেন তা যেন হয় স্বজনপ্রীতিহীন, দুর্নীতিহীন এবং মেধার ভিত্তিতে। না হলে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়বে ব্রেইন-ড্রেইন-এর মত ঘটনার মাধমে। নূর-ই-আলম অপু মাস্টার্স শেষ পর্ব, সমাজকর্ম বিভাগ, ভাওয়াল বদরে আলম সরঃ কলেজ