একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ বুধবার। বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। দেশের নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই প্রার্থীদের দলীয় প্রত্যয়নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, বেশিরভাগ আসনে একাধিক ব্যক্তিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতেও এই কার্যক্রম চলমান ছিল দলীয় অফিসগুলোতে। আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আচরণবিধি লংঘনের ঘটনা বাড়তে পারে বলে শঙ্কিত নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় মন্ত্রী ও এমপিদের গাড়ির পতাকা নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া কোনো প্রার্থী ৫-৭ জনের বেশি লোক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন না।
গতকাল বিকালে ইসির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো প্রার্থী বাস বা ট্রাক মিছিল, মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা, মশাল মিছিলসহ কোনো ধরনের শোডাউন করতে পারবেন না। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে কোনো কোনো স্থানে এধরনের শোডাউনের তথ্য তারা পেয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থিত কেউ হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কেউ লিফলেট বা প্রচারপত্র ছড়াতে পারবেন না। তবে রাজনৈতিক দলের প্রধান নির্বাচনি কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাতে কেউ ব্রিফ না করে সেজন্য জন প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারাও যেনো কারও ব্রিফে অংশ না নেন তারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, তার মনোনয়নের বিষয়টি আইনি ব্যাপার। এখানে ইসির কিছু বলার নেই।
ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচারে ইসির কিছু করণীয় নেই জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়ে ইসি কিছুই বলেনি, এটা আচরণবিধিতে আনার সুযোগ নেই। তবে যেনো অপপ্রচার না হয় এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দুই ওসি প্রত্যাহার দুই এসপির বিরুদ্ধে তদন্ত
নির্বাচন বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার দায়ে দুটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার ওসি’র বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ইসিতে অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিনি অহেতুক গ্রেফতার ও হয়রানির মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছেন। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায়। একইভাবে রংপুরের মিঠাপুকুর থানার ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন রংপুরের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ছাড়াও দু’জন এসপির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করছে ইসি। ভোলা-১ আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলার এসপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। এবিষয়ে ইসি তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলার এসপির স্ত্রী আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি হওয়ায় তার বিষয়টি ইসি বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইসির সম্মতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ
রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের নির্বাচন কমিশনের সম্মতি ছাড়া কর্মস্থলের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত ও প্রতিপালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়েছে ইসি। সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
অনুদান ও ত্রাণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের অনুদান ও ত্রাণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প অনুমোদন না করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আদেশে বলা হয়েছে, বিশেষ কারণে কোনো প্রকল্পে অর্থ ছাড় করাতে হলে তার আগে ইসির সম্মতি নিতে হবে।
ওয়াজ মাহফিলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল
ভোট গ্রহণের আগে অনুমতি নিয়ে ওয়াজ মাহফিল করা যাবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং অফিসার অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা রিটার্নিং অফিসারের মনোনীত কোন কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে এসব ওয়াজ-মাহফিল করতে হবে। তবে কোন ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য বা কোন প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য দেয়া যাবে না। মঙ্গলবার ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাম আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ কথা বলা হয়। এর আগে ২০ নভেম্বর ভোটের আগে নতুন কোনো ওয়াজ-মাহফিলের অনুমতি না দেয়া প্রসঙ্গে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল ভোট গ্রহণের আগে আর ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দেয়া যাবে না। তবে ইতোমধ্যে যেসব ওয়াজ-মাহফিলের তারিখ নির্ধারণ রয়েছে, সেগুলো করা যাবে।