তিনশ’ আসনে ৮শ’ প্রার্থীকে বিএনপির চিঠি!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে মনোনীতদের মধ্যে চিঠি বিতরণ প্রায় শেষ করেছে বিএনপি। মনোনীত প্রার্থীরা মিছিল নিয়ে শোডাউন করে চিঠি সংগ্রহ করছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের আসন বাদে প্রায় প্রতিটি আসনে দুই থেকে ৬ জন প্রার্থীকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় প্রত্যায়নপত্র দেওয়া হচ্ছে। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চিঠি বিতরণ চলছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ৩০০ আসনের বিপরীতে বিএনপি থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮০০-র মতো। এর বাইরে ২০-দলীয় জোটের শরিকদেরও দেওয়া হয়েছে। আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছে। পরে যখন বাছাই হয়ে যাবে, তখন ঠিক করা হবে কে কে প্রার্থী থাকবেন। এটা আলোচনা করে ঠিক করা হবে। তিনি বলেন,শরিকদের সঙ্গে সর্বমোট আসন বণ্টন ৬০-এর বেশি হবে না। ২০-দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াত, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, এলডিপি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, এনপিপি, লেবার পার্টি ও সাম্যবাদী দলকে (একাংশ) আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এর সঠিক সংখ্যা পরে জানা যাবে।

জানা গেছে, চিঠি বিতরণ করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। প্রথমদিন সোমবার মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হলেও গতকাল কোনো ঘোষণা ছাড়াই ফোনে ডেকে নিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে তারা। ফলে ৩০০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কে কে হবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও ৯-১০ দিন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে দলীয় প্রার্থীদের নাম জানানো হবে না। সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারণ আমাদের একটি প্রতিকূল অবস্থার মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে। তাদের প্রায় সবার নামে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। অনেকের নামে দুর্নীতির অভিযোগে কিংবা ফৌজদারি অপরাধেও মামলা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মামলার কারণে অনেকেরই মনোনয়ন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া এখনো জোটের সঙ্গে আসন বন্টনের চূড়ান্ত ফায়সালা হয়নি। ফলে আমাদের কৌশল করতে হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর। এই সময়ের মধ্যে কোন প্রার্থীকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে সে সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিএনপির হাতে থাকছে। আপাতত দল ও জোটের এক বা একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রাখবেন। বিধি অনুযায়ী বিএনপি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে যাকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলবে সেই হবে বিএনপি বা জোটের প্রার্থী। বাকিরা স্বয়ংক্রিয় ভাবেই নির্বাচন থেকে বাদ পড়বেন।

জানা গেছে, কয়েকটি কারণে বিএনপি প্রতিটি আসনে একাধিক বিকল্প প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: মামলার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হলে আসন শূন্য না রাখা। গতকাল চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ডা.জাহিদ হোসেনসহ ৫ নেতা উচ্চ আদালতে গিয়েছিলেন নিন্ম আদালতের দন্ড স্থগিত করার আবেদন নিয়ে। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়েছে। তাদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে আদালত। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ঠেকানো, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা এখনও না হওয়া, ঋণখেলাপির কারণে কারও প্রার্থিতা বাতিল হলে যেন আসন শূন্য না থাকে,  সেসব বিবেচনায় নিয়ে দলের হাইকমান্ড এক আসনে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে।

খালেদা জিয়ার ৩ আসনে বিকল্প প্রার্থী :আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩টি আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তাকে দল থেকে তিনটি (বগুড়া-৬,৭ ও ফেনী-১)আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।  খালেদা জিয়ার আসনেও একাধিক বিকল্প প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে  বিকল্প হিসেবে পৌরসভার মেয়র একেএম মাহবুবর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকেও মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। বগুড়া-৭ আসনে বিকল্প হিসেবে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটন এবং গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম তালুকদারকে মনোনয়ন দিয়ে রাখা হয়েছে। একইভাবে ফেনী-১ আসনেও বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে এখানে ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত তাকে এই আসনে দলীয় মনোনয়নের চিঠি ইস্যু করা হয়নি। আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে ফেনী-৩ আসনের মনোনয়ন চিঠি ইস্যু করা হয়।

ছাতা নিয়ে লড়বেন অলি আহমদ:লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড.অলি আহমদ বলেছেন, ধানের শীষ নিয়ে নয়,দলীয় প্রতীক ছাতা নিয়ে নির্বাচন করব।  সোমবার গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, এলডিপি জোটের কাছে ১১টি আসন চেয়েছে। আমি ছাড়া অন্যরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম এই নেতা চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে নির্বাচন করবেন।

মান্নাকে ৯ আসন ছাড় দিয়েছে বিএনপি:শরিক নাগরিক ঐক্যের নয়জন প্রার্থী বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বেন। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্রগুলো তুলে দেওয়া হয় নাগরিক ঐক্যের এক প্রতিনিধির হাতে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে এসব চিঠি প্রার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে নাগরিক ঐক্য। মনোনয়ন প্রাপ্তরা হলেন: বগুড়া-২ মাহমুদুর রহমান মান্না, নারায়ণগঞ্জ-৫ এস এম আকরাম, চাঁদপুর-৩ ফজলুল হক সরকার, ময়মনসিংহ-২ এডভোকেট নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ মোবারক হোসেন, সাতক্ষীরা-২ রবিউল ইসলাম, রংপুর-১ শাহ মো. রহমতউল্লাহ, রংপুর-৫ মোফাখখারুল ইসলাম নবাব ও বরিশাল-৪ আসনে কে এম নুরুর রহমান।