অষ্টম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণায় বিলম্ব কেন

সরকার গত বত্সরের ১৮ জুন শ্রম আইন ২০০৬-এর ক্ষমতা বলে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও সাধারণ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য অষ্টম ওয়েজ বোর্ড গঠন করে। অবসারপ্রাপ্ত বিচারপতি কাজী এবাদুল হকের নেতৃত্বাধীন ১৩ সদস্যের বোর্ড এক বত্সর পর ৭০% বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করিয়া গত জুন মাসের ৩০ তারিখ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নিকট এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই বিএফইউজের দেওয়া ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন যে, যদি তথ্য মন্ত্রণালয় ঈদের আগে মন্ত্রিপরিষদের শেষ সভায় (যাহা আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হইবে) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাজির করিতে পারে, তাহা হইলে ঈদের আগে নূতন ওয়েজ বোর্ডের ঘোষণা দেওয়া হইতে পারে। উল্লেখ্য, ইহার আগে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলিয়াছিলেন যে, জুনের মধ্যেই ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করা হইবে। তাহার মতে, এক সপ্তাহ কম সময় নহে। এই সময়ের মধ্যে হিমালয়ও জয় করা সম্ভব। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ হয় নাই। অর্থাত্ হিমালয় জয় করা হয় নাই। এই কালক্ষেপণ কেন তাহা একটি বড় প্রশ্নই বটে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর দেড় মাস অতিবাহিত হইতে চলিল। তাহার পরও কেন ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করা হইতেছে না তাহা অনেকের নিকট অজানা থাকার কথা নহে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ সংবাদপত্রে ঈদ উপলক্ষে বোনাস বা উত্সব ভাতা প্রদান করা হইয়াছে। ইত্তেফাকসহ কোন কোন পত্রিকা একাধিক বোনাস দিয়াছে। এমতাবস্থায় উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইয়া যাইবার পর অযথা আর বিলম্ব কেন? উল্লেখ্য, ‘দ্য নিউজপেপার ইমপ্লয়িজ ( কনডিশনস অব সার্ভিস) অ্যাক্ট ১৯৭৪ অনুসারে পঞ্চম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ প্রণয়ন ও প্রদান করা হইয়াছিল ১৯৯৭ সালের ২৯ মে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন দ্বারা। মধ্যখানে ২০০৫ সালের ২১ জুলাই্ ৬ষ্ঠ ওয়েজ বোর্ড গঠিত হয়। ২০০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর তাহা প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষণা করা হইলেও কিছু অসংগতির কারণে নূতন করিয়া ৭ম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। ২১ মে ২০০৮ সালে প্রজ্ঞাপন দ্বারা তাহা ঘোষণা করা হয়। সেই মজুরি বোর্ডের পাঁচ বত্সরের আগেই অষ্টম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হইয়াছে। অনেক সময় দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশের সরকার বামপন্থিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। যদিও সরকার বুর্জোয়াদের নিয়া গঠিত হয়, তথাপি বামপন্থিরা মহাদেবের বিশ্বস্ত সর্পের ন্যায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়াইয়া থাকেন। কেননা তাহারা কোনকিছুকে সুন্দরভাবে পরিবেশন ও উপস্থাপন করিতে পারেন। ফলে তাহাদের চিন্তাধারা গৃহীত হয়। কিন্তু তাহারা এমন ঘটনাও ঘটান যাহা কমিউনিজমের কোন থিওরির মধ্যে পড়ে না। ইহাতে এসব রাষ্ট্রে যুক্তি-তর্ক ও আইন-কানুনের ভিত্তিতে কোনকিছু আলাপ-আলোচনাও করা যায় না। এই সমস্ত দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোন বেতনকাঠামো নাই। যাহার যাহা ইচ্ছা সেইভাবে বেতন-ভাতা দিয়া কোনরকমে সমস্যা ধামাচাপা দিয়া থাকেন। বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম বেতন ধরা হয় তিন হাজার টাকা। এখন ইহা পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীতকরণের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম চলিতেছে। কিন্তু এই্ দেশে এমন কল-কারখানাও আছে যেখানে ন্যূনতম বেতন ইহার চাইতেও অনেক বেশি। এই বৈষম্যের কারণে সমাজে সুবিধাভোগী শ্রেণী তৈরি হইতেছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন কম বলিয়া রাষ্ট্রের অর্থে অর্থাত্ ট্যাক্সপেয়ারের টাকায় তাহাদের চাউল-ডাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হইতেছে। কিন্তু এই নীতি আবার সর্বত্র গ্রহণ করা হইতেছে না। সে যাহাই হউক, সাংবাদিক ও কর্মচারীদের জন্য অনতিবিলম্বে এবং সম্ভব হইলে ঈদ-উল-ফিতরের আগেই অষ্টম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করা হইবে বলিয়া আমরা প্রত্যাশা করি। নির্বাচনের আগে সরকারের জন্য এই ঘোষণা সুবিধাজনক হইবে এমনটিই আশা করা যায়।