১৯০৪ সাল থেকে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের জনপ্রিয় নাম
রাজশিশুর নাম কি সাধারণের ওপর প্রভাব ফেলে?
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৩
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনে নামের একটা ভূমিকা আছে। কেউ কর্মের দ্বারা নামকে ছড়িয়ে দেন মানুষের মাঝে। আবার কেউ কর্মের দ্বারা নামের বদনাম করেন। বর্তমান সময়ে নাম নিয়ে নানা হৈ-চৈ হয়। নাম রাখতে ভোটও হয়। মৌখিক পরীক্ষার সময় পরীক্ষক অনেককেই তার নামের অর্থ জিজ্ঞাসা করতে পারেন। বিশ্বের কম মানুষের নাম নিয়েই মাতামাতি হয়। জন্মের কয়েক ঘন্টা পরই নাম রাখা হয়। আবার কারো ক্ষেত্রে জন্মের আগেই নাম নির্দিষ্ট করে রাখা হয়। তবে সবার চেয়ে কিছুটা হলেও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায় ব্রিটিশ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে। তার নাম রাখা হয়েছে জর্জ আলেকজান্ডার লুইস। রাজশিশুদের নাম নিয়ে বাজিকররাও কম খেলেন না। বহু আগে থেকেই রাজশিশুর নাম নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয় বাজিকরদের মধ্যে। কিন্তু আগের মতো নামের প্রভাবটা সাধারণ মানুষের জীবনে তেমন প্রভাব ফেলে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার রাজশিশুর জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। শিশুর নামের জায়গায় রয়েছে, ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস প্রিন্স জর্জ আলেকজান্ডার লুই অফ কেমব্রিজ’। বাবা-মা’র নামে লেখা আছে, হিজ রয়্যাল হাইনেস প্রিন্স উইলিয়াম আর্থার ফিলিপ লুই ডিউক অফ কেমব্রিজ অ্যান্ড ক্যাথরিন এলিজাবেথ হার রয়্যাল হাইনেস দ্যা ডাচেস অফ কেমব্রিজ। রাজপরিবারের নাম রাখা হয় ইতিহাসের ঘটনাবলির দিকে পর্যবেক্ষণ করে। ব্রিটিশ সিংহাসনে এই পর্যন্ত আরোহণ করা ছয়জন রাজার নাম ছিল জর্জ। এই নামের সর্বশেষ রাজা বর্তমান রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা। তার নাম ছিল ষষ্ঠ জর্জ। আলেকজান্ডার নামটি ছিল কেটের পছন্দ, আর লুইস আসে উইলিয়ামের নামের চতুর্থ অংশ থেকে। সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে উইলিয়াম ও কেট পূর্বসূরীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। উইলিয়ামের নিজের নাম রাখতে চার্লস ও ডায়ানা সাতদিন সময় নিয়েছিলেন। প্রায় একমাস পর নিজের প্রথম সন্তান চার্লসের নাম ঠিক করতে পেরেছিলেন রাণী এলিজাবেথ ও ডিউক অফ এডিনবরা। অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন যে রাজপুত্রের নাম ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণের নাম হয়তো অবজ্ঞাসূচক। কিন্তু আসলে সেটা নয়।
ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের সন্তানের নামের ক্ষেত্রে ভিন্নতা খুব একটা হয় না। রাজসিংহাসনের সর্বশেষ এগার রাজা বা রাণীর নাম ছিল যথাক্রমে এলিজাবেথ, জর্জ, এডওয়ার্ড, জর্জ, এডওয়ার্ড, ভিক্টোরিয়া, উইলিয়াম, জর্জ, জর্জ, জর্জ এবং জর্জ। পরিবারের সামপ্রতিক প্রবণতা অনুযায়ী বাজিকরদের কাছে জর্জ নামটি অনেক বেশি প্রিয় এবং ভবিষ্যত্ রাজাদের জন্য এই প্রবণতা আরো বেশি। বলছিলেন, ম্যাজেস্টি ম্যাগাজিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জো লিটল। আর রাজসিংহাসনের শাসকদের ক্ষেত্রে এটাকে একটা ঐতিহ্য হিসেবে দেখা দেয়। এই নাম অনেকক্ষেত্রে তাদের সম্মানিত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ রাখা হয়। প্রতিবছরই ব্রিটেনে প্রচুর জর্জ নামকরণ করা হয়। ১৯০৪ সালে জর্জ নামটি ছিল জনপ্রিয়তার দিক থেকে তৃতীয়। তিন দশক ধরে এই জনপ্রিয়তা অব্যাহত ছিল। ১৯৫০ সালে জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে। কিন্তু এর পরের বছর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০ এর মধ্যে ছিল।
১৯৮২ সালে প্রিন্স উইলিয়াম নামটি তেমন একটা প্রভাব ফেলেনি। তবে ১৯০৪ সালে জনপ্রিয়তার দিক থেকে একনম্বরে ছিল। এর জনপ্রিয়তার একট বড় ধরনের ইতিহাস রয়েছে। ১৯১৪ সালে দ্বিতীয় নম্বরে এবং ১৯৩৪ সালে তৃতীয় নম্বরে ছিল। তবে ১৯৭৪ সালে এটি ৪১ নম্বরে নেমে আসে। এরপর ১৯৮৪ সালে ৩৪ নম্বরে এবং ১৯৯৪ সালে ১৯ নম্বরে ছিল। কিন্তু উইলিয়াম নামটি অন্যান্য নামের দিক থেকে কতটা জনপ্রিয় ছিল সেটি বিচার করা খুবই দুষ্কর হয়ে পড়েছিল। হ্যারি নামটি ১৯৬৪ সালে একশ’ বালকের নামের মধ্যে ছিল না। কিন্তু দশ বছর পর ১৯৮৪ সালে প্রিন্স হেনরি নাম ধারণ করে যা ওই সময় জনপ্রিয়তার দিক থেকে ত্রিশতম ছিল। ২০০৬ সালে পঞ্চম এবং ২০০৯ সালে তৃতীয় ছিল। ২০১১ সালে ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম। এই বছর ব্রিটেনে পাঁচটি নামের মধ্যে হ্যারি, জ্যাক, আলফি এবং চার্লি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
১৯৮১ সালে জারা ফিলিপসের জন্মগ্রহণের পর নামটি জনপ্রিয়তায় শীর্ষে ছিল। এই নামটি ক্রমেই ঊর্ধ্বগতির দিকে যাচ্ছিল। পরে ১৯৯৭ সালে ১৪২তম, তারপর ১২৩তম এবং ২০০৭ সালে ৬৬তম অবস্থানে আসে। অন্যদিকে প্রিন্স অ্যান্ড্রিউর সন্তান বিট্রিস এবং ইউজিনির নামের তেমন কোনো প্রভাব ছিল না। বিট্রিস একশ’ তালিকার মধ্যে ছিল না। আর ইউজিনি ১৯৯৮ সালে ১৬২২তম ছিল। বাকিংহাম প্রাসাদের গ্রেট মিসেনডেনের ভিকার রোজি হারপার বলেন, রাজ সিংহাসনের নাম নিয়ে আগে যতোটা শোরগোল ছিল সেটা এখন আর নেই। দম্পতিরা সন্তানদের সাধারণ নাম রাখতে পছন্দ করে। কেউ কেউ আবার বাইবেলে বর্ণিত নাম রাখতে পছন্দ করে। যীশু খ্রিস্টের বাণী প্রচার করেছিলেন এমন সাধক যেমন ম্যাথিউ, মার্ক, লিউক এবং জন এখনো জনপ্রিয়। অনেকে নাম এসব নামের প্রথমে না রেখে মাঝখানে রাখে। কিন্তু এখনকার মা-বাবারা কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির নামের দিকে ঝুঁকছে। মেয়েদের নাম সাধারণত ডাবল ব্যারেলড হয়ে থাকে। যেমন- সোফি-জো এবং এলি-মে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। আর অন্যদিকে ছেলেদের নাম শুনতে কঠিন মনে হয় এরকম নাম রাখা হচ্ছে। যেমন- জ্যাকব, নোয়াহ, টবি এবং থিও। তিনি বলেন, এছাড়া কিছু পুরাতন নাম এখনো বহাল আছে যেমন স্ট্যানলি এবং ফ্রেডারিক। এগুলো সাধারণত গোষ্ঠীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে রাখা হয়।