জেলখানা ভেঙ্গে পলায়ন
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৬
সম্প্রতি কয়েকটি দেশে জেলখানা ভেঙ্গে বন্দীদের পালানোর সঙ্গে আল-কায়েদা জড়িত থাকার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। ইরাক, পাকিস্তান, লিবিয়ায় জেলখানা ভেঙ্গে বন্দীদের পালানোর ঘটনা উল্লেখ করে সেসব ঘটনার সঙ্গে ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলোর কোন সম্পর্ক আছে কিনা তা যাচাই করে দেখতে বলা হয়েছে। ইন্টারপোলের সদর দপ্তর ফ্রান্সের লিওন থেকে গত শনিবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে আল-কায়েদার কোন পরিকল্পনার তথ্য, পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের অবস্থান অথবা সন্ত্রাসী হামলা রোধে সহায়ক তথ্য থাকলে তা দ্রুত অবহিত করতে সংস্থার ১৯০টি দেশকে অনুরোধ জানিয়েছে। সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে ইন্টারপোলের সদস্যদের সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়।
সর্বশেষ ৩০ জুলাই পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানে তালেবান জঙ্গিরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জেলখানা ভেঙ্গে ২৮৪ জন বন্দী পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে গুরুতর অভিযোগে আটক অন্তত ৩০ জন আছে। গত ২২ জুলাই ইরাকের রাজধানী বাগদাদের পশ্চিমে অবস্থিত আবু গারিব কারাগার ও তাজি কারাগার ভেঙ্গে প্রায় ৫শ বন্দী পালিয়ে যায়। বোমা বিস্ফোরণ ও মর্টার হামলা চালিয়ে কারাগার ভাঙ্গা হয়। এসময় কয়েক ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২০ জন নিহত হয়। এ দুই কারাগারের বন্দীদের মধ্যে আল-কায়েদার ঊর্ধ্বতন নেতাও ছিল। এর পাঁচদিন পর লিবিয়ার বেনগাজিতে জেলখানা ভেঙ্গে ১২ শতাধিক বন্দী পালিয়ে যায়। আল-কায়েদার জঙ্গিরাই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের বিশ্বব্যাপী ভ্রমণে সতর্কতা জারি করার একদিন পর ইন্টারপোল সতর্ক করলো। আল-কায়েদা ও এর সহযোগী জঙ্গি গ্রুপগুলো বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় একাধিক হামলা চালানোর পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকদের সতর্ক করেছে। নিরাপত্তার কারণে ওয়াশিংটন ২১টির বেশি কূটনৈতিক মিশন গতকাল রবিবার এবং কোন কোনটি বেশি সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়। হামলার আশঙ্কায় ইয়েমেনে ব্রিটিশ দূতাবাস গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার বন্ধ রাখে। ইয়েমেন থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের চলে আসারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
১৯৯৮ সালে তানজানিয়া ও কেনিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে আল-কায়েদার বোমা হামলায় কয়েকশ লোক নিহত হয়। তখনই আল-কায়েদার প্রয়াত নেতা ওসামা বিন লাদেন প্রথম মানুষের নজরে আসেন। এই হামলার ১৫তম বার্ষিকী আগামী ৭ আগস্ট।