আলোকপাত
সংকট নিরসনে তরুণ নেতৃত্ব
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:১৪
রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্ব আসছে। খুবই আশার কথা, খুবই আনন্দের কথা। গত কয়েকদিন যাবত্ সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যমে এটা নিয়ে তুমুল প্রচরণা চলছে। বিশেষ করে সজীব ওয়াজেদ জয় রাজনৈতিক বক্তব্য দেবার পর থেকে এ ব্যাপারে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে অনেকেই জয়ের আগমনকে সহজভাবে নিতে পারছেন না। এটাও আসলে রাজনৈতিক ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণ করাও এখন অত্যাবশ্যক। বয়স্ক রাজনীতিবিদদের কথাবার্তা বা আচার-আচরণ অনেকেই পছন্দ করছেন না। যেমন অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের কথায় অসন্তুষ্ট হয়ে মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী বললেন, তার কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এরকম অজস অভিযোগ পাওয়া যাবে সিনিয়র নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে। সুতরাং নতুন নেতৃত্ব বা তরুণ প্রজন্ম সঠিক আসন দখল করুক এটা আমাদের কাম্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তারা তাদের আসন ধরে রাখতে কতটা সমর্থ হবেন? কিছুদিন আগে সাংসদ গোলাম মাওলা রনিকে নিয়ে যে কাণ্ড ঘটে গেল, তারপর আস্থা রাখতে বড্ড ভয়। টকশোতে অংশগ্রহণ করে বা কলাম লিখে জনাব রনি অনেকের আস্থাভাজন হয়েছিলেন, নেতৃত্বের আসনে বসার যোগ্যতাও গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? তার বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের যেমন অভিযোগ রয়েছে তেমন অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবেও। তিনি সাংবাদিকদের পর্যন্ত আমলে নিতে চাননি ক্ষমতার দাপটে। ফলে ভয়টা এখানে যে এমপি হয়েই এ অবস্থা, মন্ত্রী-মিনিস্টার হলে এরা কী হবেন? এরকম সব তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের ফলে আমরা সাধারণ জনগণ তরুণ নেতৃত্ব নাকি বৃদ্ধ নেতৃত্ব— কোনটার উপরই আস্থা রাখতে পারি না, ফলে সরাসরি রাজনীতিকে দোষারোপ করি। মূলত রাজনীতির কোন দোষ থাকতে পারে না। রাজনীতিবিদরা যেভাবে পরিচালনা করবেন, রাজনীতি সেভাবেই পরিচালিত হবে। পরিচালনার প্রশ্ন যখন উঠল তখন গোড়ার কথা না বললেই নয়। বঙ্গবন্ধু, মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক— এরকম রাজনীতিবিদের রাজনীতি কেমন ছিল তা জানা আবশ্যক। তাদের পরিচালনায় কারো কোন ভুল থাকতে পারে কিন্তু কখনো অদক্ষতার পরিচয় মেলেনি। অথচ আমরা এখন অদক্ষতা, প্রতিহিংসা আর অপকৌশলের রাজনীতির বেড়াজালে আটকে আছি। পরিত্রাণের জন্য তরুণদেরকে একবার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তথ্য-প্রযুক্তির যুগটা যেহেতু তাদের ভালো করে জানা, নিশ্চয়ই তারা দেশ ও মানুষের অমঙ্গল চাইবেন না।
তরুণ প্রজন্মের অনেককেই বিস্ফোরকের মতো মনে হয়। তারা ফুটলে বারুদের গন্ধ নিয়ে ফুটবেন তা নয়, এই ফোটা মানে প্রস্ফুটিত হওয়া, ফুলের মতো— বাতাসে বাতাসে সৌরভ বিলিয়ে দিতে পারবেন সারা বিশ্বে। এরকম বিশ্বাস থেকেই বলছি, রনির মতো নেগেটিভ দিকে না নিয়ে বিষয়টিকে আশার ও ভালোবাসার দিকে নিতে চাই। তারেক রহমান, সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও এমন নেতৃত্বে আসতে পারেন মাহি বি চৌধুরী, আন্দালিব রহমান পার্থ, সোহেল তাজ, নিলোফার চৌধুরী মনি, জাহিদ আহসান রাসেল, শামা ওবায়েদ, মোহাম্মদ জুনাইদ আহমেদ পলক— এরকম আরও বেশ কিছু নাম যাদের একটা রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। আমি বলছি না এরা সবাই একই মঞ্চে থাকবেন। রাজনৈতিক দর্শন আলাদা বিষয়— ভিন্ন মত অবশ্যই থাকবে। কিন্তু তা হবে গঠনমূলক, জনসচেতনতামূলক, আত্মসমালোচনামূলক।
শুধু ক্ষমতায় থাকার লোভে আর ক্ষমতায় যাওয়ার লোভের মাঝখানে পড়ে আমরা জনগণ আজ অতিষ্ঠ। এই শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে আমরা কত বিকল্প চিন্তাই না করছি। কেউ বলছি তৃতীয় শক্তি, কেউ বলছি নাগরিক ঐক্য, কেউ বলছি সুশীল সমাজ। আমরা এসব বিকল্প চিন্তা থেকে বের হয়ে রাজনীতিবিদদের হাতেই ছেড়ে দিতে পারি। নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে পারি। সকল রাজনৈতিক দল নতুনদেরকে সামনের সারিতে নিয়ে আসতে পারেন। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে নতুনদেরকে আসন ছেড়ে দিতে পারেন। নিজেরা যখন জনগণের প্রত্যাশিত একটি সংলাপ করতে ব্যর্থ তখন আর আসন দখল করে থেকে কী লাভ? তরুণরাও সকল দল মিলে একটি সংলাপ করতে পারেন। আমরা তো কারো না কারো উপর আস্থা রাখতে চাই, বিশ্বাস রাখতে চাই।
লেখক: কবি ও শিশু-সাহিত্যিক