আসছে পিকমিন-এর তৃতীয় পর্ব
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:২২
রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি ভিডিও গেম হিসেবে ২০০১ সালে নিনটেনডো তৈরি করে ‘পিকমিন’। এই গেমটিতে রয়েছে গাছের মতো দেখতে একদল প্রাণী, যাদের নানা ধরনের বস্তু এবং খাবার সংগ্রহ করতে হয়, সামনে বাঁধা আসলে সেটাকে অতিক্রম করতে হয় এবং দানবদের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। নিনটেনডো’র জন্য তৈরি এই গেমটি শুরু থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ২০০৪ সালে বাজারে আসে এবং সিক্যুয়েল ‘পিকমিন ২’। এরপর গত নয় বছরে পিকমিন-এর কোনো সিক্যুয়েল বাজারে আনেনি নিনটেনডো। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো পিকমিন-এর তৃতীয় পর্বের ঘোষণা দেন নিনটেনডো’র গেম প্রযোজক এবং গেম ডিজাইনার সিগেরু মিয়ামটো। তার ঘোষণার ছয় বছর পর অবশেষে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তি পেয়েছে ‘পিকমিন ৩’।
জাপান থেকে যাত্রা শুরু করে গত মাসের শেষ সপ্তাহে ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়াতে মুক্তি দেওয়া হয় গেমটি এবং চলতি সপ্তাহেই উত্তর আমেরিকাতে ছড়িয়ে পড়েছে গেমটি।
তৃতীয় পর্বে এসে পিকমিনের খেলার ধরণ কিছুটা সম্প্রসারিত হয়েছে। এই পর্বে এসে পিকমিনের দলে থাকবে ১০০টি পর্যন্ত পিকমিন। এই বিশাল দলকে নিয়ন্ত্রণ করেই খেলতে হবে গেমারদের। বিশাল এই বাহিনী থেকে কয়েকটিকে লাগাতে হবে সেতু তৈরির কাজে, কয়েকটি কাজে লাগবে সামনে আসা বাঁধা সরাতে কিংবা কয়েকটিকে কাজে লাগাতে হবে শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে। তবে যেকোনো পিকমিনকে যেকোনো কাজে পাঠানো যাবে না। পিকমিনগুলো হয়ে থাকে বিভিন্ন রঙের। আর প্রতিটি রঙের পিকমিনের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য বা ক্ষমতা। যেমন, লাল রঙের পিকমিনগুলো আগুনের মধ্যে দিয়েও অনায়াসে চলতে পারে। আবার নীল রঙের পিকমিনগুলো পানির মধ্য দিয়ে চলতে পারে সহজে। আবার হলুদ পিকমিনগুলো অন্যদের চাইতে অনেক বেশি উঁচুতে লাফ দিতে পারে এবং এরা ‘বম্ব রক’ নামের বোমা বহনে সক্ষম। এদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে লাল পিকমিনগুলো একটি বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। আগের দুই পর্বেই এই তিন ধরনের পিকমিনের উপস্থিতি ছিল। তৃতীয় পর্বে এসে এদের সাথে যুক্ত হয়েছে রক পিকমিন নামের নতুন এক ধরনের পিকমিন, যেগুলো বেশি শক্তিশালী দেয়াল এবং বাঁধা অতিক্রমে সক্ষম। এর সাথে সাথে গোলাপী রঙের আরও এক ধরনের পিকমিন যুক্ত হয়েছে, যেগুলো আকাশপথে আসা শত্রুদের মোকাবেলা করতে পারে এবং আকাশপথে বস্তু বহন করতে সক্ষম।
তৃতীয় পর্বে এসে গেমাররা একইসাথে তিন ধরনের পিকমিনদের পরিচালিত করতে পারবে, যেখানে দ্বিতীয় সিক্যুয়েলে সর্বোচ্চ দুইটি পিকমিনকে নিয়ন্ত্রণ করা যেত। আবার এই দলগুলোকে ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করেও খেলা যাবে।
তিনভাবে খেলা যাবে এই গেমটি। নিটটেনডো’র উই গেমপ্যাড, উই প্রো কন্ট্রোলার এবং নাচুক অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করে উই রিমোট (প্লাস) দিয়ে খেলা যাবে গেমটি। সিঙ্গেল প্লেয়ার এবং মাল্টি-প্লেয়ার মোডে খেলার সুবিধা ছাড়াও এই গেমটির বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মাল্টি-প্লেয়ারর ‘বিংগো ব্যাটল’ মোড ব্যবহার করে একাধিক স্ক্রিনে খেলা যায় গেমটি।
গেমটির পটভূমিতে রয়েছে ভিনগ্রহ কোপ্পাই। গেমের শুরুতেই দেখা যাবে কোপ্পাইয়ে খাবারের অভাব শুরু হয়েছে। এখান থেকে আলফ, চার্লি এবং ব্রিটানি নামক তিন প্রাণী মহাকাশে যাত্রা করে এবং তাদের মহাকাশযান বিকল হয়ে পিকমিন গ্রহে এসে পতিত হয়। এখানে এসে তারা দেখতে পায় খাবারের কোনো অভাব নেই, বরং খাবারের প্রাচুর্য রয়েছে। কিন্তু এখানকার ফল-ফলাদির আকার তাদের তুলনায় অনেক বড় হওয়ার কারণে তারা এগুলো সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়ে। এমন অবস্থায় তারা পিকমিনদের খুঁজে বের করে এবং তাদের এসব ফল চাষ করা শেখাতে বলে। এর বীজ সংগ্রহ করে নিজেদের গ্রহে নিয়ে যেত চায় তারা।
ইতোমধ্যেই বাজারে আসা গেমটি সাড়া ফেলেছে গেমারদের মাঝে। গেম সমালোচকরাও পছন্দ করেছেন গেমটি।