রূপকথার গল্পের মতো আলাদিনের জাদুর চেরাগ(!) হাতে পেয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান গোলাম ফারুক। ২০০৯ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে স্ত্রী আফরোজা আক্তারকে নিয়ে কাজের সন্ধানে আসেন গাজীপুরে। পরে একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে পরিচয় সূত্রে জড়িয়ে পড়েন অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়। কয়েক বছরেই শূন্য হাতে ঢাকায় আসা গোলাম ফারুক দম্পতি শতকোটি টাকার মালিক বনে যান। এসব অভিযোগে ২০০৯ সাল থেকে ফারুকের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মানিলন্ডারিং আইনে ৮টি মামলা হয়। এসব মামলার ভিত্তিতে সোমবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে ফারুক ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার এ্যানীকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল মঙ্গলবার মালিবাগে সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।
মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি মাদকের মামলা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভুট্টো, তার বড় ভাই, ভাগ্নে এবং বিকাশ এজেন্টসহ ১৭ জনের নামে ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট টেকনাফ থানায় একটি মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করা হয়। ওই মামলায় গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তারকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, গোলাম ফারুক তার স্ত্রীকে নিয়ে এক সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি গ্রামে থাকতেন। ওই সময় তাদের সচ্ছলতা ছিল না। স্বামী-স্ত্রী ২০০৯ সালে শূন্য হাতে ঢাকায় আসেন। পরে গাজীপুরে একটি গ্রুপের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। সে পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা অস্ত্র ব্যবসা শুরু করেন। এর পাশাপাশি তারা একটি গার্মেন্টস ব্যবসা খুলে বসেন। এর কিছুদিন পর তারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তারা প্রথমে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হক ভুট্টোর চাচা গুড়া মিয়ার কাছ থেকে ইয়াবা এনে ব্যবসা করতেন। গোলাম ফারুক পরে নুরুল হক ভুট্টো এবং তার বড় ভাই নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে ইয়াবা এনে ব্যবসা করতে থাকেন।
গোলাম ফারুক মাদকের টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তিনি এলেজা এক্সপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। যাতে তার প্রায় এক কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে। এছাড়াও তার এবং স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে টাকা রেখেছে।
মোল্লা নজরুল বলেন, তদন্তে তাদের শতকোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যা শিগগির বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা করার ব্যবস্থা করা হবে ।
সিআইডির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী গ্রেফতারের আগে মাদকের গডফাদার নুরুল হক ভুট্টোর সঙ্গে অর্থনেতিক লেনদেনের সূত্র ধরে মিরপুর থেকে আরেক মাদক ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন ইমন, তার স্ত্রী সানিয়া আফরোজ ও ছেলে সালাউদ্দিন প্রিন্সকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে নুরুলের বড় ভাই নুর মোহাম্মদের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনের সূত্র ধরে মিরপুর বিহারী ক্যাম্পের মাদক সম্রাজ্ঞী রূপা ইসলাম, রুপা তার স্বামী আল আমিন, সহযোগী রিয়াজ, ফয়সাল এবং বিকাশের এজেন্ট জনি ও কুদ্দুসকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে নরসিংদী থেকে মাদকের ডিলার রায়হান, আসাদুজ্জামান, স্বপন, কেরানীগঞ্জের বিকাশ এজেন্ট আব্বাস, টঙ্গীর মাদক সম্রাজ্ঞী রানী, তার সহযোগী নাইম, ইব্রাহিম, বিকাশ এজেন্ট শাহজালাল, নাসির উদ্দিন সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও নুরুল হক ভুট্টোর সঙ্গে অর্থনেতিক লেনদেনের সূত্র ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুসা মিয়া, জয়পুরহাটের আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।