শেয়ারবাজার এবং বিএসইসির ভূমিকা

বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তাহার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হইতেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরিয়া শেয়ারবাজারের লেনদেন ও সূচকের ক্ষেত্রে যেই ধরনের গতি-প্রকৃতি লক্ষ্য করা যাইতেছে তাহার প্রেক্ষিতে এই উপসংহারে পৌঁছা কোনভাবেই অযৌক্তিক নহে। কয়েক সপ্তাহ ধরিয়া শেয়ারবাজারের সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়িতে বাড়িতে একটা পর্যায়ে আসিয়া আবার ক্রমাগত কমিতে থাকে অর্থনীতির মৌলিক বিষয়সমূহের সহিত কোন ধরনের সম্পর্ক ছাড়াই। অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক চাপের পরেও যখন এক-দেড়শত কোটি টাকা দৈনিক লেনদেন বাড়িয়া বার-তেরশত কোটি টাকা হইয়া যায় তখন প্রশ্ন আসে কেন এমনটি হইতেছে। কোন কারণ ছাড়া যখন সূচক ও লেনদেন অনেকটা বাড়িয়া যায় তখন আবার কোন কারণ ছাড়াই তাহা নামিয়া আসাটাও স্বাভাবিক। তবে কোন কারণ থাকিবে না এমনটি ঘটিবার তাহা বলা যাইবে না। তবে এই কারণ অর্থনীতির ব্যারোমিটারে পারদের উঠা-নামার সহিত সম্পর্কযুক্ত নহে বলিয়াই কারণহীন বলা হইতেছে। তাহা হইলে অবশ্যই অর্থনীতির বিবেচনার বাহিরের কোন ধরনের কারসাজির কারণে এমনটি ঘটিতেছে। সার্বিক সূচক ও লেনদেনের এই উঠা-নামা ছাড়াও কতিপয় কোম্পানির শেয়ারের দাম অকারণে কয়েকগুণ হইয়া যাওয়াটাও এই কারসাজির ব্যাপারে সন্দেহের উদ্রেক তৈরি করে। এই প্রসঙ্গে বলা আবশ্যক যে, যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকহারে বাড়িয়া যায় বা বাড়িতে থাকে, তখন বিধিসম্মতভাবেই বিএসইসি তাহার কারণ জানিতে চাহিয়া সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে লিখিতে পারে। কোম্পানি কি জবাব দেয় সেই অনুযায়ী বিএসইসি ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারে। কোম্পানি যদি বিএসইসিকে এই মর্মে অবহিত করে যে, তাহাদের শেয়ারের দাম বাড়িয়া যাইবার কারণ তাহাদের জানা নাই, তাহা হইলে রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ হিসাবে বিএসইসি যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে এমনটিই প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে এই ধরনের অস্বাভাবিক দর বাড়িবার- কমিবার কিংবা লেনদেন বাড়িবার-কমিবার পিছনের কারণ অনুসন্ধানে কতটা ভূমিকা রাখিতে পারিতেছে বিএসইসি, তাহাই প্রশ্ন। আমরা জানি, বিএসইসি এই ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ ব্যাখ্যার জন্য বিভিন্ন ধরনের সার্ভিল্যান্স যন্ত্রপাতির সুবিধা নিতেছে। এই সার্ভিল্যান্সের আওতায় আনিয়া যদি শেয়ারবাজারের বর্তমান অস্বাভাবিক আচরণকে ব্যাখ্যা করিয়া দায়ীদের চিহ্নিত না করিতে পারে তবে এই সার্ভিল্যান্স সুবিধা কি উপকারে আসিতেছে? আর যদি এইসব আচরণের পিছনের শক্তিকে চিহ্নিত নাই করিতে পারে তাহা হইলে বিএসইসি কি করিয়া তাহার রেগুলেটরি ভূমিকা পালন করিবে? শেয়ারবাজারের সামপ্রতিক ধসের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিএসইসি আরও শক্তিশালী হইয়া তাহার রেগুলেটরি ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সফলতার প্রমাণ দিবে। কিন্তু বাস্তবে তাহা করিতে বিএসইসি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হইতেছে। এই বাজারের সূচক ও লেনদেনকে টানিয়া আরও অনেক উপরে নিয়া আসাকে আমরা সফলতা বলিতেছি না। বাজার তাহার নিজস্ব গতিতে চলিবে। তবে তাহাকে কোন শক্তিশালী গোষ্ঠী কোন ধরনের কারসাজির দ্বারা প্রভাবিত করিতেছে কিনা তাহা চিহ্নিত না করিতে পারিলে বিএসইসি কি ভূমিকা পালন করিতেছে প্রকৃতপক্ষে? যখন অর্থনীতির মৌলভিত্তির গতি-প্রকৃতির সহিত সম্পর্কহীনভাবে লেনদেন ও সূচকের বড় ধরনের উঠা-নামা পরিলক্ষিত হয় তখন তাহা কারসাজি ছাড়া আর কি কারণে হইতে পারে?