মনের কথা বুঝতে সক্ষম হবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন!!

প্রযুক্তির সাথে মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখন জড়িয়ে গেছে ওতপ্রোতভাবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তি। প্রযুক্তির অগ্রগতি এখন এত দ্রুত হচ্ছে যে কল্পবিজ্ঞানের অনেককিছু এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আরও কিছু বাস্তবে পরিণত হওয়ার পথে। কল্পবিজ্ঞানের নানা গল্পে এমন হরহামেশাই দেখা যায় যে ঘরের রোবটটি ওই ঘরের মানুষের মনের কথা বুঝতে পারে। ফলে মানুষটি ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই ওই রোবট তার চাহিদা অনুযায়ী সব কাজের আয়োজন করে। এর জন্য তাকে কোনো নির্দেশনাও দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এমন রোবট এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বাস্তবে তৈরি না করতে পারলেও এবারে মোবাইলের জন্য তৈরি হচ্ছে এমন অ্যাপ্লিকেশন যা ওই মোবাইল ব্যবহারকারীর মনের কথা বুঝতে পারবে ওই রোবটের মতোই। কোনো প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারকারীর মনের কথাটি বুঝতে পারার উপযোগী অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে গবেষণা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। ছোট-বড় নানান প্রতিষ্ঠান এসব গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত। টেক জায়ান্ট গুগলও জড়িত রয়েছে এই ধরনের গবেষণার সাথে। তাদের প্রধানতম সেবা ‘গুগল সার্চ’-এই তারা এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাচ্ছে। ‘প্রেডিক্টিভ সার্চ’ শীর্ষক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ব্যবহারকারী কোনোকিছু সার্চ করতে গেলেই তাকে গুগল’র পক্ষ থেকে অনুমান করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সার্চের জন্য পুরো কথাটাও লিখতে হচ্ছে না। এরকম সেবার বাইরে এখন নতুন ধরনের যে গবেষণা হচ্ছে, তা সত্যিই চমকপ্রদ। মনে করুন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনি আপনার স্মার্টফোনটির ডিসপ্লে’র দিকে তাকালেন। আর সাথে সাথেই আপনার ফোনটি জানিয়ে দিল আজ আপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং রয়েছে, যার জন্য আপনাকে একটু আগেই অফিস থেকে বের হতে হবে। কারণ, আপনার রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই মিটিং সম্পর্কে কোনো ধরনের তথ্য আপনি আপনার স্মার্টফোনকে সরাসরি জানিয়ে রাখেননি। তাহলে কী করে সম্ভব হলো এটা? আসলে আপনার ফোনেই থাকবে এই অ্যাপ্লিকেশন যে নিজে থেকেই আপনার ফোনের ক্যালেন্ডার, ইমেইল, রিমাইন্ডার প্রভৃতি সার্ভিস স্ক্যান করে নেয় এবং আপনার প্রতিদিনের অবস্থান, যাতায়াত প্রভৃতি তথ্যও সংগ্রহ করে। এরপর নিজে নিজেই এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দিতে পারে আপনার কোথাও জরুরি কোনো কাজ রয়েছে কি না এবং তার জন্য বাড়তি প্রস্তুতি আপনার দরকার রয়েছে কি না। এটি তো একটি উদাহরণ মাত্র। এরকম চমকিত অনেককিছু করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে সিলিকন ভ্যালি’র মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপাররা। সেগুলো সফল হলে আপনার স্মার্টফোনটিই হয়ে উঠবে আপনার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট।