ঘুষ ছাড়া মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির বিদ্যুত্ সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটার প্রতি সাত হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে নতুন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। যারা ৭ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন তারা মিটার পেয়েছেন। কিন্তু যারা টাকা দিতে পারেননি তাদের ঘরে মিটার লাগানো হয়নি। এতে সাধারণ গ্রাহক দীর্ঘ অপেক্ষা করেও বিদ্যুত্ সংযোগ পাচ্ছেন না। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির এক শ্রেণির কর্মকর্তা ও দালালরা এ ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ সাধারণ গ্রাহকদের।
অভিযোগে জানা গেছে, সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের চর মকিমপুর গ্রামে ২টি বাড়িতে একসাথে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হবে। এর জন্য প্রত্যেক বাড়ি থেকে ৭ হাজার টাকা করে নেন ওই ইউনিয়নের মেম্বার মুরাদ মিয়া ও তার সহযোগী মজনু মিয়া। যারা মেম্বার মুরাদের কথা মত সাত হাজার টাকা দিতে পেরেছেন কেবল তারাই মিটার পেয়েছেন। ৩ জন ঐ টাকা না দিতে পারায় মিটার নিতে পারেননি। এছাড়া মিটার লাগানোর সময় প্রত্যেকটি বাড়ি থেকে দুইশত টাকা করে নিয়েছেন মজনু মিয়া। যারা দুইশত টাকা দেন নি তাদের মিটার দেওয়া হবে না বলে বলেন মজনু। পরে বাধ্য হয়ে দুইশত টাকা দিতে রাজি হন গ্রাহকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক ব্যক্তি জানান, ‘৭ হাজার টাকা না দেওয়ায় আমার বাড়িতে মিটার লাগানো হয় নি। জানি না কবে আমার বাড়িতে মিটার আসবে আর কবে বিদ্যুত্ পাবো। তবে পল্লী বিদ্যুতের এক লাইনম্যানকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি সে আমাকে সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই গ্রামের আরেক জন মহিলা জানান, ‘আমি গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ আনতে যে টাকা লাগে সেই টাকা আমি কোথায় পাবো। ’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘নতুন সংযোগ পেতে ৭ হাজার টাকা করে মেম্বার মুরাদকে দিয়েছি। মিটার লাগানোর সময় মুরাদের সহযোগী মজনুু মিয়া আবার সবার কাছ থেকে ২ শত টাকা করে নেন। ’
এদিকে মজনু মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি বাড়ি থেকে ৭ হাজার টাকা করে নিয়ে মুরাদ মেম্বারের কাছে দিয়েছি। আর মিটার লাগানের সময় দুই শত টাকা সার্ভিস চার্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর আগে মুরাদ মেম্বারের চাচার মাধ্যমে নতুন বিদ্যুত্ সংযোগ আনতে যাই। কিন্তু সে প্রতিটি মিটারে ১০ থেকে ১২ হাজার করে টাকা চায়। পরে মেম্বার মুরাদের মাধ্যমে আমরা ৭ হাজার করে টাকা নিয়ে নতুন সংযোগ আনতে রাজি হই।’ এ বিষয়ে মুরাদ মেম্বারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, চর মকিমপুর গ্রামে প্রত্যেক বাড়িতে মিটার পৌঁছে গেছে। আর তিনটি বাড়িতে মিটার না পৌঁছানোর ব্যাপারে তিনি জানান, টাকা দিলে তারা মিটার পাবে। তিনি আরো জানান, আপনি এসব বিষয়ে পল্লী বিদ্যুত্ অফিসে যোগাযোগ করেন।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ ওবায়দুর রহমান জানান, ‘সরকার বিনামূল্যে বিদ্যুতের সংযোগ দিচ্ছে। অর্থ নেওয়ার সঙ্গে আমরা জড়িত নই। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’