‘উবুন্টু এজ’ স্মার্টফোনের রেকর্ড

শিরোনাম পড়ে মনে হতে পারে ‘উবুন্টু এজ’ নামে নতুন একটি স্মার্টফোন এসেছে প্রযুক্তি বাজারে এবং সেটা অন্যসব স্মার্টফোনের রেকর্ডকে ভেঙে ফেলেছে। তবে বিষয়টি আসলে তেমন নয়। ‘উবুন্টু এজ’ নামের একটি স্মার্টফোন তৈরিরই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উবুন্টুর নির্মাতা ক্যানোনিক্যাল। মজার বিষয় হচ্ছে, বাজারে আসার আগেই পরিকল্পনা পর্যায়েই রেকর্ড গড়তে সক্ষম হয়েছে এই স্মার্টফোনটি। প্রযুক্তি বিশ্বে ওপেন সোর্স প্রযুক্তির প্রসার আর নতুন ঘটনা নয়। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছরে প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আরেকটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যার নাম ক্রাউডফান্ডিং। এটি মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ক্রাউডফান্ডিংয়ের নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। ওই সাইটের ভিজিটরদের মধ্য থেকেই যারা প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করে, তারা বিনিয়োগ করে ওই প্রকল্পে। যেকেউ যেকোনো অংকের অর্থই বিনিয়োগ করতে পারে ওই প্রকল্পে। এর আগে প্রথম সফল স্মার্টঘড়ি হিসেবে ‘পেবল’ যখন বাজারে আসে, সেটিও মূলত ক্রাউডফান্ডিং ওয়েবসাইট থেকেই তার বিনিয়োগ গ্রহণ করে। উল্লেখযোগ্য ক্রাউডফান্ডিং ওয়েবসাইটের মধ্যে রয়েছে কিকস্টার্টার, ইন্ডিগোগো প্রভৃতি। ‘উবুন্টু এজ’ এমনই একটি ক্রাউডফান্ডিং প্রকল্প হিসেবেই যাত্রা শুরু করে এবং এটি যুক্ত হয় ইন্ডিগোগো (www.indiegogo.com) ওয়েবসাইটে। এই প্রকল্পের জন্য এই সাইট থেকে ৩২ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে ক্যানোনিক্যাল। ইন্ডিগোগোতে যুক্ত হওয়ার মাত্র ৬ দিনের মধ্যেই এটি ১০,২৮৮,৪৭২ ডলার বিনিয়োগ লাভে সমর্থ হয়েছে। কোনো ক্রাউডফান্ডিং সাইট থেকে বিনিয়োগ সংগ্রহের অর্থের পরিমাণে এটি একটি নতুন রেকর্ড। এর আগের রেকর্ডটি ছিল স্মার্টঘড়ি পেবল’র দখলে। কিকস্টার্টার সাইট থেকে পেবল সর্বমোট ১০,২৬৬,৮৪৫ ডলার বিনিয়োগ লাভে সমর্থ হয়। মাত্র ৬ দিনেই এই রেকর্ড পেরিয়ে যাওয়ার কারণে উবুন্টু ধারণা করছে তারা তাদের লক্ষমাত্রার ৩২ মিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারবে এবং সেটা পারলেই তারা তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থাত্ উবুন্টু এজ নির্মাণে উঠে পড়ে লাগবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ‘উবুন্টু এজ’ কী ধরনের স্মার্টফোন, যার জন্য ক্রাউডফান্ডিং সাইট থেকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ আসছে? আসলে এটি হচ্ছে উবুন্টুর একটি বিরাট পরিকল্পনার অংশ। কিছুদিন আগেই উবুন্টু উন্মোচন করে তাদের ‘উবুন্টু ওয়ান’ নামের অপারেটিং সিস্টেমের বিশেষ সংস্করণ যা সব ধরনের কম্পিউটিং ডিভাইসের মধ্যে একটি সম্মিলন ঘটাতে সক্ষম। পিসি, ট্যাবলেট পিসি কিংবা স্মার্টফোনের মতো আলাদা আলাদা ডিভাইসের জন্য সাধারণত আলাদা আলাদা সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন হয়ে থাকে। ‘উবুন্টু ওয়ান’ এই সীমাবদ্ধতার গণ্ডিকে ভেঙে দিয়েছে। এটি একাধারে একটি ডেস্কটপ, ট্যাবলেট পিসি এবং স্মার্টফোনে ব্যবহূত হতে পারে এবং এসব ডিভাইসের মধ্যে সিনক্রোনাইজেশনের কাজটিও করতে পারে। ফলে উবুন্টু ওয়ানকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলেই মনে করেন ক্যানোনিক্যালের কর্ণধার মার্ক শাটলওয়ার্থ। তবে একে সফলভাবে বাজারে নিয়ে আসাটাও চ্যালেঞ্জের বলেই মনে করেন তিনি। ক্যানোনিক্যাল প্রথাগত কোনো প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা নয় বলেই তাদের উবুন্টু ওয়ানে চালিত উবুন্টু এজ নিয়ে আসতে নির্ভর করতে হয়েছে ক্রাউডফান্ডিংয়ের উপর। ‘উবুন্টু এজ’-এর বর্ণনায় ক্রাউডফান্ডিং প্রকল্পে বলা রয়েছে, এটি ডুয়াল বুট সমর্থন করে, যা পিসির পাশাপাশি স্মার্টফোন হিসেবে ব্যবহারযোগ্য। আর স্মার্টফোনে উবুন্টু’র পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েডও সমর্থন করবে এটি। এই ফোন প্রচলিত জিএসএম এবং এলটিই নেটওয়ার্ক সমর্থন করবে। আর আগামী মে মাসের মধ্যে এটি তৈরি করে বাজারে আনার কথা থাকলেও এর উত্পাদন শুরু করা হবে যথাসম্ভব পরে, যাতে করে এতে সর্বশেষ প্রযুক্তির হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক কনফিগারেশন হিসেবে এতে রাখা হয়েছে ৪ জিবি র্যাম, ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, সিলিকন-অ্যানোড লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রভৃতি। এর দামও রাখা হয়েছে ৭০০ ডলার, যা এর চেয়ে নিম্ন কনফিগারেশনের আইফোন-অ্যান্ড্রয়েডের চাইতেও কম।