ল্যাপটপ ব্যবহারে সতর্ক হোন

সময়ের সাথে সাথে কম্পিউটিং ডিভাইস হিসেবে ডেস্কটপ কম্পিউটারের পাশাপাশি ল্যাপটপ হয়ে উঠেছে অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। এর অন্যতম মূল কারণ হিসেবে রয়েছে বহনযোগ্যতা। যেকোনো সময়ে যেকোনো স্থানে একে বহনের সুবিধাটি এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে সব ধরনের মানুষের কাছেই। তবে সময়ের সাথে সাথে ল্যাপটপেও যুক্ত হচ্ছে উচ্চ কনফিগারেশন। ফলে কম্পিউটিং ক্ষমতাতেও ল্যাপটপ পৌঁছে যাচ্ছে ডেস্কটপের বিকল্পের স্থানে। তবে ল্যাপটপ যারা ব্যবহার করে থাকেন, তাদের এর ব্যবহারে সতর্ক হওয়াটা জরুরি। বিশেষ করে অনেকেই ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকেন উরুর উপরে রেখেই। এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি অনেক বেশি এবং এ কারণেই এই অভ্যাস দূর করা প্রয়োজন। উরুর উপরে ল্যাপটপ রেখে ব্যবহার করলে প্রথমেই যে সমস্যাটি হয়, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ল্যাপটপ থাই ডিজঅর্ডার’। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় রাখলে উরুর চামড়ায় এক ধরনের লালচে রঙ দেখা যায় এবং ফুসকুড়িও উঠতে পারে। বিশেষত তরুণদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ল্যাপটপ চলার সময়ে এর তাপমাত্রা অনেক সময়েই স্বাভাবিক তাপমাত্রার চাইতে বেশি হয়ে যায়। এটা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই উচ্চ তাপমাত্রা থাকার কারণে ল্যাপটপের সাথে স্পর্শ করে থাকা ত্বক লালচে হয়ে ওঠে। ছোট ছোট ফুসকুড়িও উঠতে পারে। আবার এ থেকে স্থায়ী দাগও বসে যেতে পারে ত্বকে। এসব সমস্যার শুরু থেকেই চিকিত্সা করানো প্রয়োজন বলে মতামত বিশেষজ্ঞদের। আর শুরু থেকেই এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে উরুর উপর সরাসরি ল্যাপটপ না রেখে পুরু করে তোয়ালে বা কুশন ব্যবহার করা কিংবা ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি পুরুত্বের কোনো বোর্ড ব্যবহার করলেই এই সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা যায়। ত্বকের সমস্যার বাইরেও কোলের উপর ল্যাপটপ রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তা পুরুষের সন্তান উত্পাদন ক্ষমতা হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে। এমন অভ্যাস একদিকে যেমন পুরুষের স্পার্ম উত্পাদনের পরিমাণকে কমিয়ে দিতে পারে, তেমনি স্পার্মের উর্বরতাও কমিয়ে দিতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণেই সাধারণত এই সমস্যাটি হয়ে থাকে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। তাই ল্যাপটপকে সরাসরি শরীরের সংস্পর্শে না রেখে মাঝে পুরু কোনো আবরণ রাখার বিষয়েই মত প্রদান করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।