স্বপ্ন
তারুণ্যের পেশার জন্যে এএমই সনদ
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:১৮
ক্যারিয়ার গড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। বিশেষ করে এইচএসসির পর শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ারকে টার্গেট করে ভর্তিযুদ্ধে নেমে যান। এর পরবর্তী ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করলে দেখা যাবে গতানুগতিক উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পর্যায়ে ৪ বছরে ৮-১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে পড়াশোনা করেও ক্যারিয়ার গড়াটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর বিকল্প এবং সন্তোষজনক সমাধান বের করতে চিন্তিত থাকেন অনেকেই। আর এক্ষেত্রে সময়োপযোগী আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে এর সমাধান শুরু করছেন সবাই। যার অন্যতম হচ্ছে এএমই সনদ বা এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং লাইসেন্স। এটি এ দেশ থেকে অল্প খরচেই সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। এশিয়ার চাহিদা মেটানোর জন্য এমিরেটস বিটেক অ্যাডেক্সেলের আন্ডারে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তৈরির জন্য অ্যাভিয়েশন কলেজের কর্মকাণ্ড শুরু করলেও তারা এয়ারলাইন্সে এক্সপার্টদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। এই ধারায় বাংলাদেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য সেই যুক্তরাজ্যের শিক্ষাবোর্ড বিটেক অ্যাডেক্সলের আন্ডারে কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি যাত্রা শুরু করে। অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সর্বসমাদৃত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা বোর্ড বিটেক অ্যাডেক্সেলের অধীনে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৮ মাস পর শিক্ষার্থী পায় আন্তর্জাতিক ধারার সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি। এর পর আঠারো মাসের লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছর পায় টপ আপ বিবিএ বা বিএসসি। বিশেষ করে যারা এইচএসসি অথবা ‘এ’ লেভেল পাস করে উন্নত বিশ্বে চলে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য কোর্সটি বেশ কার্যকরী। ফাইনাল ইয়ারে ১ বছর এয়ারপোর্টে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ রয়েছে। আনন্দের বিষয় আগে ফাইনাল ইয়ার বা টপ আপ বিএসসি করতে দেশের বাইরে যেতে হতো এখন লেভেল-৬ সম্পন্ন করা যাচ্ছে কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি যাদের সেন্টার কোড ৯৩১৪২ এবং প্রধান ক্যাম্পাস সেক্টর-১১, রোড-২, বাড়ি-১৪, উত্তরা ফোন ০১৯২৬৩০২৯৪০। এটি বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের প্রথম অনুমোদিত অ্যাভিয়েশন ইনস্টিটিউট যার কলেজ কোড ৫০৩৮৯। কলেজটির প্রথম দ্বিতীয় ব্যাচের কয়েক শ শিক্ষার্থী ইংল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, জার্মান, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে চাকরি বা ইন্টার্নি করতে চলে গেছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যেতে শুরু করেছে এরই মধ্যেই। এ ছাড়া বিগত বিভিন্ন ব্যাচের কোর্স সমাপ্তকৃত শিক্ষার্থীরা সবাই এখন বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে কর্মরত রয়েছে। কলেজটিতে রয়েছে সু-পরিসর ক্লাসরুম, দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী, ক্রমবর্ধমান লাইব্রেরি, প্রত্যেক সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের এয়ারপোর্টে নিয়ে হাতে কলমে শিক্ষা প্রদান, আবাসিক হোস্টেল সুবিধা, কোর্স শেষ হওয়া মাত্রই আকর্ষণীয় বেতনে জব অ্যাটাচমেন্টের সুযোগ প্রভৃতি।
অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সের আরেকটি কোর্স ইউরোপিয়ান অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সি ইএএসএ পি-৬৬ এয়ারক্রাফট পরিচালনা সনদ এএমএল। অবশ্য অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সের উপর আরেকটি স্বল্প মেয়াদি কোর্সও করা যায়। এক্ষেত্রে শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ইএএসএ কমন মডিউলে থিউরিটিক্যাল সম্পন্ন করে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার জন্য চলে যেতে পারেন আয়ারল্যান্ডের শ্যানন এয়ারপোর্টে। প্র্যাকটিক্যাল টাইমে শ্যানন অ্যারোস্পেসে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট পাওয়ার আগ পর্যন্ত মাসে ৫শ ডলার করে সম্মানী পেয়ে থাকে। আর সার্টিফিকেট পাওয়ার পর শুরুতেই তার বেতন হয় নিন্মে ২০০০ ইউরো, সাথে থাকবে আন্তর্জাতিক ধারার সুযোগ-সুবিধা।