ম্যালওয়্যারের প্রধান লক্ষ্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস

বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট পিসির বাজারে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে নিজেদের রাজত্ব ধরে রাখলেও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য খবরটা শঙ্কিত হওয়ার মতোই। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েডের পুরোনো সংস্করণগুলো যারা ব্যবহার করছেন, তাদের জন্যই শঙ্কাটা একটু বেশি। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) সর্বশেষ এক প্রতিবেদন বলছে, ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইল ডিভাইসে আক্রমণের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস। http://publicintelligence.net ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ২০১২ সাল জুড়ে যে পরিমাণ ম্যালওয়্যার হামলা চালিয়েছে, তার ৭৯ শতাংশেরই লক্ষ্য ছিল অ্যান্ড্রয়েড। আর এর পরের অবস্থানেই ছিল নকিয়ার নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম সিমবিয়ান। ১৯ শতাংশ ম্যালওয়্যারের মূল লক্ষ্য ছিল এই ফোনগুলো। সেই তুলনায় অ্যাপল’র আইওএস, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ মোবাইল এবং ব্ল্যাকবেরিতে ম্যালওয়্যারের হামলার পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। আইওএস-এ ০.৭ শতাংশ এবং উইন্ডোজ ফোন ও ব্ল্যাকবেরিতে ০.৩ শতাংশ করে ম্যালওয়্যার হামলা করে। প্রযুক্তি বিশ্বের মোবাইল ডিভাইসের বাজারে অবশ্য একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে অ্যান্ড্রয়েড। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মোবাইল ডিভাইসেই রয়েছে এই অপারেটিং সিস্টেম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোর মধ্যে ৪৪ শতাংশই ব্যবহার করছে অ্যান্ড্রয়েডের ২.৩.৩ থেকে ২.৩.৭ সংস্করণ, যার কোড নাম অ্যান্ড্রয়েড জিঞ্জারব্রেড। এই সংস্করণগুলোসহ অ্যান্ড্রয়েডের পুরোনো অনেক সংস্করণেই নিরাপত্তাজনিত বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে, যেগুলো পরবর্তী সংস্করণগুলোতে কাটিয়ে উঠেছে গুগল। অন্যদিকে অ্যাপল’র প্রায় ৯৩ শতাংশ আইফোন এবং আইপ্যাডই আইওএস-এর সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করে থাকে। ফলে অ্যাপল ডিভাইসগুলো অনেক বেশি সুরক্ষিত। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও নিজ নিজর অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ আপডেট ব্যবহার করাকেই নিরাপদ বলে মনে করে থাকেন।