বিজয়ী তারুণ্য
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২০:২৬
ব্র্যান্ডউইট্জ বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা বিজনেস কম্পিটিশনগুলোর একটি। ব্যবহারিক মার্কেটিং নিয়ে কাজ করার এত সুযোগ শিক্ষার্থী থাকাকালীন খুব কম ছেলেমেয়ের ভাগ্যেই জোটে। আর আইবিএ’র মতো জায়গাতে কম্পিটিশন তো একটু বেশি হবেই। আয়মান, যারীন, সৌম্য আর নিলয়ের টিমটা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল এই দৌড়ে। আর শেষটায় এ বছরের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নের ঝুলিটাও তাদের কাঁধে। বিজয়ী চারজনের কথা জানিয়েছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
একদল তরুণ তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন, আর তাতে সবাই উত্সাহ দেবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু কতটা সাফল্যের ধারায় এগিয়ে গেলে বিজয়ের শেষ মুহূর্তেও তাদের নামে শ্লোগানে মুখরিত হয় পুরো মিলনায়তন? ঠিক এমনই দক্ষতায় নিজেদের তৈরি করেছিলেন তারা। চ্যাম্পিয়ন না হলেও এই আনন্দটুকুই বা কম ছিল কি? এই আনন্দ আড্ডায় উঠে এসেছে তাদের নানান ভাবনার কথা। ওদের অনেকেই খুব শখ করে যে আইবিএ-তে ভর্তি হয়েছেন, তা না। আয়মানেরও তেমন। কখনও সামরিক বাহিনী, কখনোবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির শখ ছিল তার। আইবিএ-তে আসার পরেই এই জগতটার প্রতি একটা ভালোলাগা তৈরি হয়ে যায়। আর এখান থেকেই নিজেদের টিম তৈরি করে এগিয়ে যাওয়ার শুরু। আয়মান বলেন, ‘বইয়ের সাথে বাস্তবের কী মিল তা বুঝতে এখন আর অসুবিধা হয় না। এখন প্রতিটি বিজ্ঞাপন বা ব্যানারের পেছনে লুকিয়ে থাকা অর্থগুলো ভালোই বুঝতে পারি। টানা কয়েকটি প্রতিযোগিতায় ভালো করে এখন সামনে ইচ্ছে আছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। সৌম্যর খুব শখ ছিল বুয়েটে পড়বেন। দেশসেরা প্রকৌশলীদের সাথে না গেলেও দেশসেরা বিজনেস গ্র্যাজুয়েটদের কাতারে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি। আর সে পথেই এখন এগোচ্ছেন। ২০১২ সালে সেভেনটিন ইভেন্টে কাজ করতে গিয়ে আইবিএ’র সাথে পরিচয় ঘটে। সেখানকার অভিজ্ঞতাগুলো আজ তাকে ভালো এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। খুব ব্যতিক্রম কিছু নয়, গোছানো আর পরিকল্পিত জিনিস দিয়েই ভালো কিছু করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। আর এই ক্ষেত্রে অবশ্যই সিনিয়রদের সহযোগিতাও দরকার বলে মনে করেন তিনি।
এর মাঝে তাদের কাছ থেকে জেনে নিলাম পুরো প্রতিযোগিতা নিয়ে কিছু কথা। এটি একটি ইন্টার বিজনেস স্কুল প্রতিযোগিতা, এখানে অংশগ্রহণ করতে প্রথমে তাদের ইন্ট্রা-আইবিএ বিজনেস কম্পিটিশনে সিলেক্টেড হতে হয়েছে। পুরো এক মাস ধরে সেই কম্পিটিশনে তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে আইবিএর ৩০টি টিমের। আয়মান বলেন, ‘প্রত্যেক রাউন্ডে আমরা চেষ্টা করেছি আগের বারের চেয়ে ভালো করতে। আর এই মন্ত্রই আমাদেরকে সাফল্য এনে দিয়েছে। আইবিএর আভ্যন্তরীণ এই প্রতিযোগিতায় যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলেছে তা মনে হয় ব্র্যান্ডউইটেজর চূড়ান্ত পর্যায়েও হয়নি।’ নিলয় বলেন, ‘একটা রাউন্ডে আমাদের চিপসের প্যাকেট বানিয়ে চিপস বিক্রি করতে হলো সেন্ট জোসেফ স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যে! বেশি বিক্রিতে বেশি পয়েন্ট। সবাই অনেক মজা নিয়ে করেছিলাম রাউন্ডটা।’
যারীনের বাবা ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, তাই তারও শখ ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু পরবর্তীতে নিজেকে নিয়ে এলেন বিজনেসের দিকেই। ‘আইবিএতে এসেই পরিচয় হয় ব্যবসার দুনিয়ার খুঁটিনাটি বিষয়, বাজার পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ের সাথে। আর নানা রকম প্রতিযোগিতার কথাও ওখানেই জানতে পারি’, বলছিলেন যারীন। কয়েকটা প্রতিযোগিতার করার পরে পালা আসে এবারের ব্র্যান্ডউইটেজ। বিচারকদের থেকেই অনেক কিছু শেখা হয়েছে তাদের।
নিলয় বলেন, ‘ব্র্যান্ডউইট্জ ছিল এমন এক অভিজ্ঞতা, যা সারা জীবন আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে। এখানে আমি শিখেছি যেকোনো ব্যবসার মূলনীতি—কী বেচব, কার কাছে বেচব, কীভাবে বেচব ইত্যাদি। ব্র্যান্ডউইট্জ আমাকে ভাবতে আর লক্ষ করতে শিখিয়েছে। আমি এখন রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়, পত্রিকা বা টিভি দেখার সময় বুঝতে চেষ্টা করি কোন বিজ্ঞাপন কেন এবং কী চিন্তা করে প্রচার করা হচ্ছে। ব্র্যান্ডউইটেজর প্রতিটি মুহূর্তই আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। আমাদের টিমের সবাই ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। আইবিএর বড় ভাই আর আপুরা আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।’