সাফল্যের জন্য প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং

জীবন গড়ার জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এসএসসি বা এইচএসসি পাসের পর। আর এক্ষেত্রে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে একটু ভুল হয় তবে এর মাশুল দিতে হয় সারা জীবনভর। শুধু সঠিক বিষয় নিয়ে লেখাপড়া না করার কারণে এদেশে অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিয়েও বেকার জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অর্ধেকেরও বেশি পেশাজীবী এক বিষয়ে পড়ালেখা করে অন্য বিষয়ের চাকরি করছে। এতে তার কর্মক্ষেত্র যেমন নিরানন্দ হয়ে পড়ছে একই সাথে সে পেশাগত অবস্থানে দারুণভাবে পিছিয়ে পড়ছে। যে কারণে অনেকে জনপ্রিয় বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলেও ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়তে হচ্ছে শুধু সময়োপযোগী বিষয় নিয়ে লেখাপড়া না করার কারণে। এদিক দিয়ে সফল ক্যারিয়ার গড়তে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং হতে পারে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে সময়োপযোগী বিষয়। প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিংয়ের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টেন্টস (এসিসিএ), ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (এফডি), সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান (সিএটি)। এসিসিএ, সিএটি দুটিই প্রফেশনাল কোর্স। এসিসিএ, সিপিএ, সিএ, সিএমএ প্রভৃতির সমমানের। এটি জাতিসংঘ স্বীকৃত এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্টেন্টসের মেম্বার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই ঠিকানায় :বাড়ি-৫১, রোড-১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফোন :৮১৪১৬০১, ০১৭২০৫৫৩২৭৮। সিএ এবং এসিসিএ’র মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সিএ স্থানীয় কারিকুলাম আর এসিসিএ হচ্ছে আপডেট কারিকুলাম। ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (এফডি) হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের সুট অব কোয়ালিফিকেশনস যা থেকে শিক্ষার্থীরা পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমত্কার কোর্স বেছে নিতে পারে। যারা একেবারেই এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করতে চায় তাদের এফআইএ’র ইন্ট্রোডাক্টোরি সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে হবে। যাদের কিছুটা অ্যাকাউন্টিং ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তারা এফডি’র ইন্টারমিডিয়েট সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে পারে। যাদের অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক শক্তিশালী কিন্তু গ্র্যাজুয়েশন নেই তারা এফডি’র ডিপ্লোমা লেভেল থেকে শুরু করে সরাসরি এসিসিএ’র স্কিল মডিউলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। এসিসিএ বছরে ৩টি করে বিষয় পাস করলে প্রায় সাড়ে ৪ বছর আর ৪টি করে বিষয় পাস করলে সময় লাগবে সাড়ে ৩ বছর। এসিসিএ অনার্স ইন অ্যাপ্ল¬াইড অ্যাকাউন্টিং ৯টি পেপার ৯০০ নম্বর। প্রতি বছর ৩টি পেপারে পাস করে সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং ৪টি করে আড়াই বছরে এটি পাস করা যায়। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীরা এফডি করতে সম্পন্ন হবে প্রায় ৮টি বিষয়। এফডি শেষে সিএটি করতে আরও দুটি সাবজেক্ট সম্পন্ন করতে হবে। এরপর এসিসিএ করতে আরও ১৩টি বিষয় সম্পন্ন করতে হবে। সরাসরি এসিসিএ কোর্সে বিষয় ১৪টি। অন্যদিকে এফডি করে সিএটি’সহ এটি করলে সাবজেক্ট হবে ২০টি। বিবিএ-এমবিএ’র সময়সীমার সাথে কোর্সটির তুলনা করা গেলে দেখা যাবে, এসএসসি পাসের পর এইচএসসি’র জন্য দুই বছর, বিবিএ’র জন্য ৪ বছর, এমবিএ’র জন্য ২ বছর অর্থাত্ প্রায় ৬ থেকে ৮ বছর অপেক্ষা করতে হয় । এসএসসি বা এইচএসসি’র পর যেকোনো শিক্ষার্থী মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার বছরে আন্তর্জাতিক মানের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হতে পারে, অর্জন করতে পারে অ্যাকাউন্টিংসে অনার্স ডিগ্রি। এসিসিএ-তে ১০০ নম্বরে শিক্ষার্থী ৫০ পেলেই পাস করে। বাংলাদেশে এই কোর্সে সর্বাধিক সাফল্য রয়েছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের। এদের একাধিক ক্যাম্পাস ছাড়াও রয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার দেওয়ার সুযোগ।