তরুণ ব্যবসায়ী কার্ল
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২০:৩০
সাধারণত দেখা যায় অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীরা পড়াশোনা আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া নিয়েই মেতে থাকে। কিন্তু এর ব্যতিক্রমী হলেন কার্ল। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন তার ব্যবসার কাজ। অনলাইন ওয়েবসাইট দিয়ে তিনি আয় করেছেন তার নিজের চলার খরচটা। আর সেই পথে হাঁটতে গিয়েই আজ তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছেন। তরুণ এই প্রতিভাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
শুরুর জীবনে কার্ল টেইলর সপরিবারে বাস করতেন ইংল্যান্ডেই। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই ইংরেজি নিয়ে তার ছিল অগাধ আগ্রহ। তেমন গভীরভাবে কিছু না বুঝলেও মনে মনে ভেবে রেখেছিলেন ইংরেজি নিয়ে কিছু একটা করবেন তিনি। আইন পড়ার উদ্দেশ্যে ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ডে। তার বাবা-মায়েরও এমনটাই ইচ্ছে ছিল তাকে নিয়ে যে, ছেলে আইন পড়বে। পাস করে হবে অনেক বড় একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন এটা তার কাছে অনেক বড় একটা তৃপ্তির ব্যাপার। পেশায় তার বাবা ছিলেন একেজন ইনভেস্টমেন্ট অ্যানালিস্ট এবং মা ফোর্ড গাড়ির ব্যবসা করতেন। ইংরেজিতে আগ্রহ থাকায় তার বাবা-মা তার সম্পর্কে এমন ভেবে রেখেছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে ফাইনাল সেমিস্টারে পড়ার সময় তিনি আবিষ্কার করলেন তার চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এবার তাকে চশমার সাহায্য নিতে হবে। সেই ছোটবেলা থেকে এই জিনিসটাকে ভয় পেতেন তিনি। যখন দেখতেন তার বন্ধুরা চশমা পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, খুব খারাপ লাগত তার বন্ধুদের জন্য। আর একসময় নিজেরই পড়তে হলো চশমা। আরও অবাক হলেন যখন দেখলেন চশমার দোকানী সামান্য এই চশমার দাম ধরলেন অনেক বেশি। রাগ হলো তার, তিনি প্রথমেই সরাসরি ম্যানুফ্যাকচারারের সাথে যোগাযোগ করলেন। অনেক আলাপের পর রহস্য উদঘাটন করলেন—কীভাবে তৈরি হয় চশমা তৈরির উপাদানগুলো। এরপর গেলেন চশমার কারিগরের কাছে। জানলেন এই উপাদান থেকে কীভাবে চশমা তৈরি করা হয়। সব জানা শেষ, এবারে ফিরলেন সেই চশমার দোকানীর কাছে। তাকে দিয়ে সত্য বের করার জন্য খুলে বললেন সব কথা। একসময় দোকানী স্বীকার করলেন যে সাত ডলারের চশমা তারা ১৫০ ডলারে বিক্রি করে। বেশ ভালো একটা আইডিয়া ঢুকল তার মাথায়। পুরো ব্যাপারটি থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা কাজে লাগালেন। বেশ জোরালো একটা ব্যবসায়িক আইডিয়া পাওয়া গেছে। সেটাকে তো আর এভাবে ফেলে রাখা যায় না। আর সেটাকে কাজে লাগিয়ে যে বিশাল কিছু করে ফেলা যাবে তিনি তার আন্দাজ করেছিলেন আগে থেকেই। ব্যস, কাজে নেমে পড়লেন। কিছুদিন ধরে সময় নিয়ে তৈরি করলেন নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট। সেখানে রাখলেন সরাসরি চশমা কেনার ব্যবস্থা। জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করে দিলেন তার এই কেনাবেচার ওয়েবসাইটটি। নিজেই পরিচালনা করতেন সেটি। বেশকিছু ভালো চশমাও কিনে ফেললেন খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে। এতে যোগ করলেন অনলাইন রিটেইলার গ্রুপগুলোকে। তাদের মাধ্যমে এই ব্যবসা সম্পর্কিত আরও খবর জানতে পারলেন তিনি। আর কোনো দ্বিধা থাকল না তার মনে। পুরোদমে শুরু করে দিলেন ব্যবসার কাজটি। চশমার মনোপলি মার্কেটের সাথেও যোগাযোগ করলেন। মনোপলি মার্কেট হলো একটি বিশেষ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে যেকোনো জিনিসের খুচরা ডেলিভারি পাওয়া যায়, শুধুমাত্র ব্রিটেনের ব্যবসায়ীদের জন্য এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তার আইডিয়া সবাই খুব আনন্দের সাথে গ্রহণও করল। শুরুর এক বছরের মাথায় ২২ হাজার চশমা বিক্রি করে ফেললেন। আর তার কিছুদিনের মাথায় লাভের একটা বড় অংশও তুলে নিলেন তিনি। ২০০৭ সালে শুরু করেছিলেন তার জেমস ওয়েলস গ্লাস কোম্পানিটি। ২০০৯ সাল, মানে মাত্র ২ বছরের মধ্যেই প্রায় ৭০ জন কর্মী নিয়োগ করে ফেললেন তিনি। একটা মজার হিসেব বের করা হলো, তার এই কোম্পানি নাকি, প্রতি তিন মিনিটে এক জোড়া চশমা বিক্রি করে। তার এ ব্যবসা তার জীবনটাই পাল্টে দিয়েছিল। বাবা-মায়ের কাছ থেকে কোনো অর্থ আর নিতেন না তিনি। স্কুল থেকে নেওয়া লোনও শোধ হয়ে গিয়েছিল তার। একসময় এই ব্যবসা খাতে তার অবদানের জন্য চশমা প্রস্তুতকারী কোম্পানি থেকে তাকে গ্রেট ইয়ং বিজনেসম্যান পুরস্কার প্রদান করা হলো। এক বছরের মধ্যেই এই ব্যবসা থেকে তিনি প্রায় এক কোটির মতো আয় করেছিলেন। শুধু চশমা বিক্রি করেই খ্যান্ত দেননি। ২০১০ সালের দিকে শুরু করলেন নতুন একটি সাইট, নাম হেয়ারডিরেক্ট ডট কম। হেয়ারিং এইড বিক্রি শুরু করেন তিনি। ব্রিটেনের প্রায় ৮ মিলিয়ন শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষকে লক্ষ করে তিনি এই প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন। সেখানেও সফল হন তিনি। এক কাজ করে তিনি বেশ কিছু পুরস্কারই পেয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে ২০০৯ সালের কুইনস অ্যাওয়ার্ড ফর এন্টারপ্রাইজ প্রমোশন পুরস্কার পান তিনি।